Inqilab Logo

ঢাকা, রোববার ১৬ জুন ২০১৯, ২ আষাঢ় ১৪২৬, ১২ শাওয়াল ১৪৪০ হিজরী।

গণপরিবহন সঙ্কটে দুর্ভোগ

চট্টগ্রামে লক্কড়-ঝক্কড় বাস-মিনিবাসে গলাকাটা ভাড়া

রফিকুল ইসলাম সেলিম : | প্রকাশের সময় : ২০ মে, ২০১৯, ১২:০৪ এএম


প্রতিটি মোড়ে মানুষের জটলা। কোনো বাস-মিনিবাস আসতেই তাতে হুমড়ি খেয়ে পড়ছেন সবাই। এমন দৃশ্য বন্দরনগরী চট্টগ্রামে এখন নিত্যদিনের। গণপরিবহন সঙ্কটে দুর্ভোগ চরমে উঠেছে। বিশেষ করে ইফতারের আগে ঘরমুখো লোকজনদের সীমাহীন ভোগান্তির মুখোমুখি হতে হচ্ছে। মহানগরীর ১২টি রুটের পাশাপাশি মহানগর থেকে জেলার ৩৭টি রুটে নেই পর্যাপ্ত বাস-মিনিবাস। লক্কর-ঝক্কর যানবাহনে আদায় করা হচ্ছে গলাকাটা ভাড়া। গণপরিবহন সঙ্কটকে পুঁজি করে রিকশা-অটোরিকশায়ও অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করা হচ্ছে।
রমজান মাসে অফিস সময় এগিয়ে আনায় ছুটির পর ঘরমুখোদের তীব্র পরিবহন সঙ্কটের মুখোমুখি হতে হয়। গতকাল রোববার বিকেলেও নগরীর বিভিন্ন মোড়ে গণপরিবহনের অপেক্ষায় অসংখ্য মানুষের জটলা দেখা গেছে। ইপিজেড, বারিক বিল্ডিং, আগ্রাবাদ-বাদামতল, চৌমুহনী, দেওয়ানহাট, টাইগারপাস, লালখান বাজার, দামপাড়া, জিইসি মোড় থেকে শুরু করে মুরাদপুর, বহদ্দারহাট, চকবাজার, আন্দরকিল্লা, নিউমার্কেট, তিনপোলের মাথা, এনায়েত বাজার, কাজির দেউড়ি মোড়সহ প্রায় প্রতিটি পয়েন্টে গণপরিবহনের অপেক্ষায় মানুষের ভিড় দেখা যায়। ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়েও বাস না পেয়ে অনেকে হেঁটে বাসার উদ্দেশে রওনা দেন।
বাস-মিনিবাস না পেয়ে বিকল্প যানবাহনে ফিরতে গিয়ে অতিরিক্ত ভাড়া গুণতে হচ্ছে সীমিত আয়ের লোকজনদের। চট্টগ্রাম মহানগরীর লোকসংখ্যা প্রায় ৭০ লাখ। নানা প্রয়োজনে প্রতিদিন বিভাগীয় এ শহরে আসেন লক্ষাধিক মানুষ। এখানে রয়েছে দেশের সর্ববৃহৎ ইপিজেড। চট্টগ্রাম ইপিজেড, কর্ণফুলী ইপিজেডসহ বিভিন্ন শিল্প এলাকায় কর্মরত অন্তত ১০ লাখ শ্রমিক।
কয়েক হাজার স্কুল-কলেজ ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের লাখ লাখ শিক্ষার্থী গণপরিবহনের উপর নির্ভরশীল। সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, ব্যাংক-বীমাসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে কর্মরতদের বেশিরভাগই নির্ভরশীল গণপরিবহনের ওপর।
এত বিপুল সংখ্যক মানুষের জন্য নেই পর্যাপ্ত বাস-মিনিবাস। বিআরটিএ ও ট্রাফিক পুলিশের হিসেবে নগরীতে নিবন্ধিত গণপরিবহন সংখ্যা তিন হাজার ৮৭৯টি। এরমধ্যে বাস এক হাজার ৪৯৬টি। তবে বাস্তবে রাস্তায় গণপরিবহনের সংখ্যা আরও কম। সম্প্রতি বিআরটিএ ও পুলিশের উদ্যোগে নগরীতে জরিপ চালানো হয়। এতে দেখা যায়, নগরীতে চলাচলের জন্য গণপরিবহনের অনুমোদন আছে তিন হাজার ৯৩৫টি। এর মধ্যে এক হাজার ১৩৪টি বাস, এক হাজার ১৪১টি হিউম্যান হলার ও এক হাজার ৬৬০টি অটো টেম্পো।
জরিপের ফলাফলে বাস্তবে নগরীর সড়কগুলোতে গণপরিবহন মিলেছে দুই হাজার ৩৮৯টি। বাস ৭৭০টি, হিউম্যান হলার ৭৫২টি ও অটো টেম্পো মিলেছে ৮৬৭টি। বিপুল সংখ্যক বাস লক্কর-ঝক্কর হয়ে সড়কে চলার অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। আবার অনেকে রুট পারমিট নিয়েও রাস্তায় বাস পরিচালনা করছে না।
ইপিজেড, পোশাক কারখানাসহ নগরীর বেশিরভাগ কল-কারখানার নিজস্ব বাস নেই। ফলে অফিস শুরু ও ছুটির সময় অনেক কারখানা ভাড়া বাসে শ্রমিকদের আনা-নেয়া করে। বিভিন্ন রুটের বাস রিজার্ভ ভাড়ায় চলে যাওয়ায় সঙ্কট আরও তীব্র হয়। অফিস শুরু এবং ছুটির সময় বাস চালক ও সহকারীরা অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করেন। নগরীতে ন্যুনতম ভাড়া ৫ টাকা হলেও সঙ্কটকে পুঁজি করে এবার ভাড়া ১০ টাকা পর্যন্ত আদায় করা হয়। আবার নির্ধারিত গন্তব্যে না গিয়ে মাঝপথে যাত্রীদের নামিয়ে দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে।
একই অবস্থা মহানগরী থেকে জেলার বিভিন্ন রুটেও। বাসের ছাদে, দরজায় ঝুলে ঝুঁকিপূর্ণ ভ্রমণ করতে বাধ্য হচ্ছে কর্মজীবী মানুষ। বাস সঙ্কটকে পুঁজি করে নগরীর এবং জেলায় যাত্রীবাহী অটোরিকশা, টমটম এবং ব্যাটারি চালিত রিকশার মতো অবৈধ ছোট যানবাহনের সংখ্যা দ্রæত বাড়ছে।
মহানগরীতে চলাচলকারী সিএনজি চালিত অটোরিকশার সংখ্যা ১৩ হাজার, টেম্পো দুই হাজার ৫০০ এবং হিউম্যান হলার, লেগুনার সংখ্যা প্রায় চার হাজার। এর পাশাপাশি কয়েক হাজার অটোরিকশা, টমটম এবং ব্যাটারি চালিত রিকশা রাস্তায় নেমেছে। বড় গণপরিবহনের তুলনায় নগরজুড়ে ছোট ছোট গাড়ির সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় যানজট সড়ক ছাড়িয়ে অলিগলি পর্যন্ত বিস্তৃত হচ্ছে। নগরীতে বৈধ রিকশার সংখ্যা ৫০ হাজার হলেও প্রায় দেড় লাখ রিকশা চলছে। সিটি কর্পোরেশনের পক্ষ থেকে বেশ কয়েক দফা অবৈধ রিকশা উচ্ছেদে উদ্যোগ নেয়া হলেও তা শেষ পর্যন্ত কার্যকর হয়নি।

 



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: বাস


আরও
আরও পড়ুন