Inqilab Logo

ঢাকা, মঙ্গলবার ২৫ জুন ২০১৯, ১১ আষাঢ় ১৪২৬, ২১ শাওয়াল ১৪৪০ হিজরী।

সারা দেশে বাম জোটের বিক্ষোভ

রাস্তায় কৃষক-পাটকল শ্রমিক

স্টাফ রিপোর্টার | প্রকাশের সময় : ২০ মে, ২০১৯, ১২:২৫ এএম

ধানের লাভজনক দাম নিশ্চিত করে কৃষক বাঁচানো ও অবিলম্বে পাটকল শ্রমিকদের বকেয়া বেতন পরিশোধসহ ৯ দফা বাস্তবায়নের দাবিতে গতকাল বাম গণতান্ত্রিক জোটের উদ্যোগে দেশব্যাপী বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করা হয়েছে। কর্মসূচির অংশ হিসেবে রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে সমাবেশ ও বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় বক্তারা কৃষিমন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি করে বলেন, দেশের মোট শ্রম শক্তির ৪১ ভাগ কৃষি খাতে নিয়োজিত জিডিপিতে কৃষির অবদান ১৪.৫ শতাংশ। অথচ সেই কৃষক ফসলের ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত। কৃষকরা দেশের ১৭ কোটি মানুষের আহার জোগায়। ধানের মূল্য ১০৪০ টাকা নির্ধারণ করতে হবে।
সমাবেশে বক্তারা বলেন, কৃষকরা দেশকে খাদ্যে স্বয়ংসম্পন্ন করেছে। এত বড় কাজের জন্য তাদের পুরস্কার পাওয়ার বদলে সেই কৃষক মনের দুঃখে ক্ষোভে ধানক্ষেতে ও ধানের বস্তায় আগুন লাগিয়ে দিচ্ছে। সরকার মণপ্রতি দানের দাম ১০৪০ টাকা নির্ধারণ করলেও বাজারে ধানের দাম ৫০০-৫৫০ টাকা মণ। কৃষি অধিদপ্তর বলছে, এক কেজি ধান উৎপাদনে খৃষকের খরচ হয় ১৭ টাকা, বাজারে বর্তমানে দাম ১ কেজি ১৩ টাকা। তারা আরো বলেন, সরকার ঋণখেলাপিদের, ব্যাংক মালিকদের, শিল্প মালিকদের ছাড় দিচ্ছে; কিন্তু কৃষকদের লাভজনক দাম নিশ্চিত করতে সরকার কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নিচ্ছে না। উল্টো খাদ্যমন্ত্রী বলেছেন, কৃষকরা ষড়যন্ত্র করে ধানে আগুন লাগিয়েছে।
বাম নেতারা বলেন, শুধু খুলনা অঞ্চলের ৯টি পাটকল শ্রমিকদের ১২ সপ্তাহের মজুরি ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ৩-৪ মাসের বকেয়া বেতন বাবদ পাওনা ৭৫ কোটি ১৪ লাখ টাকা। কিন্তু ঐ ৯টি পাটকলে ৩২৫ কোটি টাকার উৎপাদিত পাট পণ্য মজুদ আছে। ৯টি পাটকলের প্রতিদিনের উৎপাদন ক্ষমতা ২৭২ টন, কিন্তু সেখানে প্রতিদিন উৎপাদন করা হচ্ছে ১০০.২৯ টন। এখানে প্রতিদিন যে ১৭২ টন কম উৎপাদন হচ্ছে, রাষ্ট্রের ক্ষতি হচ্ছে তার দায়দায়িত্ব কার? লুটেরারা করছে চক্রান্ত। পাটকলগুলো পিপিপি’র মাধ্যমে লুটেরা মালিকদের হাতে তুলে দেয়ার জন্যই পরিকল্পিতভাবে পাটকল শ্রমিকদের বকেয়া বেতন না দেয়া ও মজুরি কমিশন বাস্তবায়ন করছে না।
বক্তারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, কৃষিমন্ত্রী কৃষকের জন্য কিছু করতে পারবে না বলেন। তার ঐ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে থাকার কোনো নৈতিক অধিকার নেই। খাদ্যমন্ত্রীর কৃষক ও জনগণকে নিয়ে উপহাস ও বিরূপ মন্তব্য করার দায়ে অবিলম্বে পদত্যাগ করা উচিত। তারা অবিলম্বে প্রতিটি ইউনিয়নে ও হাটে সরকারি ক্রয় কেন্দ্র খুলে সরকার নির্ধারিত দামে সরাসরি কৃষকের কাছ থেকে ধান ক্রয় করা এবং প্রতিটি উপজেলা বা ইউনিয়নে খাদ্যগুদাম নির্মাণ করার দাবি জানান।
বক্তারা সরকারের ভুলনীতি পরিহার ও দুর্নীতি বন্ধ করে পাটকল-পাটচাষিদের রক্ষা ও ধর্মঘটি পাটকল শ্রমিকদের বকেয়া বেতনসহ ৯ দফা দাবি মেনে নেয়ার জন্য সরকারের প্রতি জোর দাবি জানান। একই সাথে পাটশিল্পের বিরুদ্ধে সব ষড়যন্ত্র মোকাবেলায় পাটকল শ্রমিক, পাটচাষি ও দেশবাসীকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান। সমাবেশ শেষে একটি বিক্ষোভ মিছিল প্রেসক্লাব, তোপখানা রোড হয়ে পল্টন মোড়ে গিয়ে শেষ হয়।
বাম জোটের সমন্বয়ক ও বাসদ নেতা বজলুর রশীদ ফিরোজের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশে বক্তব্য রাখেন বাম জোটের কেন্দ্রীয় নেতা বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক, সিপিবি সহকারী সাধারণ সম্পাদক সাজ্জাদ জহির চন্দন, ইউনাইটেড কমিউনিস্ট লীগের সাধারণ সম্পাদক মোশাররফ হোসেন নান্নু, বাসদ (মার্কসবাদী) নেতা আ. ক. ম. জহিরুল ইসলাম, বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক আন্দোলনের আহ্বায়ক হামিদুল হক, গণসংহতি আন্দোলনের নেতা জুলহাজ নাইন বাবু, গণতান্ত্রিক বিপ্লবী পার্টির নেতা লিয়াকত আলী। সমাবেশ পরিচালনা করেন বাম জোট ঢাকা মহানগরের সমন্বয়ক ও বাসদ নেতা খালেকুজ্জামান লিপন।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

আরও পড়ুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ