Inqilab Logo

ঢাকা, বৃহস্পতিবার ২০ জুন ২০১৯, ৬ আষাঢ় ১৪২৬, ১৬ শাওয়াল ১৪৪০ হিজরী।

পঞ্চপান্ডবের ‘ছায়ামুক্ত’ বাংলাদেশ

স্পোর্টস রিপোর্টার | প্রকাশের সময় : ২১ মে, ২০১৯, ১২:০৪ এএম

আয়ারল্যান্ডে দুর্দান্ত এক সিরিজ শেষে করে এবার বিশ্বকাপ মিশনে বাংলাদেশ। ইতিহাসে প্রথমবারের মতো কোন আন্তর্জাতিক শিরোপা জিতেই ইংল্যান্ডে পারি জমিয়েছে টাইগার বাহিনী। পুরো টুর্নামেন্টেই তরুণদের পারফর্ম ছিল নজরকাড়া, বলা যায় সিরিজ জয়ে তরুণরাই দিয়েছেন নেতৃত্ব। সিনিয়ররা খুব একটা সুযোগই পাননি অবদান রাখার। আর এমন সাফল্যে বেশ উচ্ছ¡সিত টাইগার কোচ স্টিভ রোডস। তার মতে এটিই প্রমাণ করে বাংলাদেশ এখন আর সিনিয়র পাঁচজন ক্রিকেটার মাশরাফি, সাবি, তামিম, মুশফিক আর মাহমুদউল্লাহর (পঞ্চপান্ডব) উপর নির্ভরশীল নয়।

পুরো সিরিজ খেয়াল করলেই রোডসের কথার স্পষ্ট প্রমান মেলে। ব্যাটে বলে দুর্দান্ত ভূমিকা রেখেছেন দলের তরুণ ক্রিকেটাররা। গত কয়েক বছরে বাংলাদেশে সাফল্য মানেই যেন মাশরাফি, সাকিব, তামিম, রিয়াদ আর মুশফিকের দারুণ কিছু। এনিয়ে বাংলাদেশ ক্রিকেটে সংশয় আর হতাশার কমতি ছিলোনা। তবে এবার সৌম্য, লিটন, রাহি, মুস্তাফিজ, মোসাদ্দেকরা প্রমাণ করেছে ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুত তারা।

সিরিজের ফাইনাল ম্যাচের কথাই ধরা যাক, সাকিবকে ছাড়াই অসম্ভব কঠিন ম্যাচটিই তরুণ তুর্কিদের নিয়ে জিতে নেয় বাংলাদেশ। সৌম্য সরকারের (৪১ বলে ৬৬) গড়ে দেওয়া ভিতের উপর দাঁড়িয়ে শেষদিকে বিশ্বকাপ স্কোয়াডের চমক মোসাদ্দেকের অসাধারণ ২৭ বলে ৫২ রানের এক ক্যামিওতে বিশাল লক্ষ্য তাড়া করে প্রথম কোন বহুজাতিক শিরোপার স্বাদ পায় লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা। অথচ সাকিব চোটে না পড়লে তার একাদশে সুযোগই মিলতো না। দলের প্রধান কোচ স্টিভ রোডস বলছেন স্কোয়াডের গভীরতা বোঝাতেও এটি যথেষ্ট, ‘লক্ষ্যটা বেশ কঠিন ছিল। দুই-তিনজন দারুণ ইনিংস খেলেছে, উদাহরণ হিসাবে মোসাদ্দেকের কথাই বলি। সে সবাইকে মুগ্ধ করে দিয়েছে অথচ তার খেলারই কথা ছিলোনা। এটা আমাদের স্কোয়াডের গভীরতা সম্পর্কে ধারণা দেয়। এটা আমাদের আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে দেয়, আমরা কিছু বড় ম্যাচও জিততে পারি।’

সিনিয়রদের নির্ভরতা থেকে বেরিয়ে তরুণদের এমন পারফর্ম মানুষের ধারণা বদলে দিবে বলেও মত প্রকাশ করেন এই ইংলিশম্যান। মানুষ এখন আর বাংলাদেশকে ৫ জন নির্ভর দল বলবেনা বলেই মনে করেন তিনি, ‘এটার মানে দাঁড়ায় আমরা শক্তিশালী স্কোয়াড নিয়েই আছি, যেটা আমরা চাই। আমরা এর থেকেও বেশি গভীরতা অর্জন করতে চাই। আশাকরি লোকে সিনিয়র ৫ জন নিয়ে কথা বলা বন্ধ করবে।’
শুধু ফাইনালেই নয়, সম্পূর্ণ সিরিজ জুড়ে ব্যাট হাতে দুর্দান্ত পারফর্মেন্স করেছেন সৌম্য। তিন ম্যাচ খেলা এই ক্রিকেটার টানা তিনটিতেই হাঁকিয়েছেন অর্ধশতক। বল হাতে প্রতিভা দেখিয়েছেন ত্রিদেশীয় সিরিজে অভিষেক হওয়া আবু জায়েদ রাহি। ওয়ানডে ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় ম্যাচেই পাঁচ উইকেট তুলে নিয়েছেন তিনি। পঞ্চপান্ডবের নির্ভরশীলতা বেরিয়ে আসছে বাংলাদেশ দল। এতেই বাংলাদেশ দল আরও বেশি শক্তিশালী হবে বলে বিশ্বাস করেন এই ইংলিশ ম্যান। তাঁর ভাষ্যমতে, ‘এর মানে এটাই যে বাংলাদেশের দলের স্কোয়াড দিন দিন শক্তিশালী হচ্ছে এবং স্কোয়াডের এই গভীরতাটাই আমরা চাইছি। সেটি যদি আমরা অর্জন করতে পারি তাহলে মানুষ পঞ্চপান্ডবকে নিয়ে কথা বলা থামিয়ে দিবে। এর মানে এদের কেউ না থাকলেও আমরা শক্তিশালী দল।’

ত্রিদেশীয় সিরিজের ফাইনালে ২১০ রানের লক্ষ্যও যেভাবে তাড়া করেছে বাংলাদেশ তাতে করে আত্মবিশ্বাসের পারদটি অনেকটাই উঁচুতে উঠে গিয়েছে তাদের। এই দলটি এখন আর কোনও বড় লক্ষ্যেই ভীত হবার নয়, বিশ্বাস টাইগারদের কোচ রোডসের। তাঁর ভাষায়, ‘এটি আমাদেরকে আত্মবিশ্বাসের যোগান দিচ্ছে যে আমরা বড় ম্যাচও জিততে সক্ষম। আমরা সেদিন দারুণভাবে রান তাড়া করেছি। এটি ছিল অনেক কঠিন এবং আমাদের দলে দুই থেকে তিনজন ছেলে ছিল যারা স্পেশাল ইনিংস খেলেছে।’



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: বাংলাদেশ


আরও
আরও পড়ুন