Inqilab Logo

ঢাকা, রোববার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ৩১ ভাদ্র ১৪২৬, ১৫ মুহাররম ১৪৪১ হিজরী।

সিলেটে বিএনপির স্মারকলিপি

সিলেট ব্যুরো | প্রকাশের সময় : ২১ মে, ২০১৯, ৬:০৪ পিএম

বিএনপির কেন্দ্র ঘোষিত কর্মসুচির অংশ হিসেবে কৃষকের উৎপাদিত ধানের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত ও পাটকল শ্রমিকদের বকেয়া বেতন পরিশোধের দাবিতে জেলা প্রশাসক বরাবরে স্মারকলিপি প্রদান করেছে সিলেট জেলা ও মহানগর বিএনপি। মঙ্গলবার দুপুরে সিলেটের জেলা প্রশাসক কাজী ইমদাদুল ইসলাম উক্ত স্মারকলিপি গ্রহণ করেন।
স্মারকলিপি প্রদানকালে উপস্থিত ছিলেন, বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও সিলেট জেলা সভাপতি আবুল কাহের চৌধুরী শামীম, সাবেক আহ্বায়ক এডভোকেট নুরুল হক, জেলা সাধারণ সম্পাদক আলী আহমদ, মহানগর সিনিয়র সহ-সভাপতি আব্দুল কাইয়ুম জালালী পংকী ও ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক আজমল বখত চৌধুরী সাদেক, মহানগর সহ-সভাপতি এডভোকেট ফয়জুর রহমান জাহেদ, এডভোকেট হাবিবুর রহমান হাবিব, সালেহ আহমদ খসরু, জেলা সহ-সভাপতি এ.কে.এম তারেক কালাম, মহানগর সহ-সভাপতি জিয়াউল হক জিয়া, জেলা সহ-সভাপতি আজির উদ্দিন চেয়ারম্যান, জালাল উদ্দিন চেয়ারম্যান, জেলা উপদেষ্টা এডভোকেট এটিএম ফয়েজ, শহীদ আহমদ চেয়ারম্যান, জেলা সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুর রব চৌধুরী ফয়সল, মহানগর যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট আতিকুর রহমান সাবু, জেলা যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মঈনুল হক, মহানগর সাংগঠনিক সম্পাদক মিফতাহ সিদ্দিকী, মুকুল আহমদ মোর্শেদ, জেলা সাংগঠনিক সম্পাদক আবুল কাশেম, মহানগর সাংগঠনিক মাহবুব চৌধুরী, জেলা মুক্তিযোদ্ধা দলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক এডভোকেট আনোয়ার হোসেন, মহানগর দফতর সম্পাদক সৈয়দ রেজাউল করিম আলো প্রমুখ।
স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়, বোরো ধানের দাম নিয়ে কৃষকদের মধ্যে চরম অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। উৎপাদিত ধানের মূল্য উৎপাদন খরচের চেয়ে অনেকগুন কম হওয়ায় কৃষকরা হাহাকার করছে। উৎপাদন খরচ থেকে তিনশো টাকা কমে প্রতি মন ধান বিক্রি করতে হচ্ছে কৃষকদের। প্রতি বিঘা জমিতে কৃষকের ক্ষতি হচ্ছে দুই হাজার টাকা। ধানের ন্যায্য মূল্য না পাওয়ায় টাঙ্গাইল, জয়পুরহাট ও নেত্রকোণাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে কৃষকরা পাকা ধানক্ষেতে আগুন দিচ্ছে। পাকা ধানে মই দিচ্ছে, সড়কে ধান ছিটিয়ে প্রতিবাদ করছে। সরকার প্রতি মন ধান কেনার জন্য ১ হাজার ৪০ টাকা প্রদান করলেও কৃষকের হাতে যাচ্ছে ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা। বাকী টাকা যাচ্ছে সরকারের আনুকুল্য পাওয়া মধ্যস্বত্বভোগীদের পকেটে। এ নিয়ে সরকারের কোন মাথা ব্যথা নেই। ধানের দাম কমার জন্য উদ্ভূত সংকটে সরকার উদাসীন। এ বিষয়ে তাদের কোন দায় নেই বলে কৃষিমন্ত্রী সাফ জানিয়ে দিয়েছেন। সরকারের গণবিরোধী নীতির কারণেই কৃষকরা উৎপাদিত ধানের ন্যায্য মুল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। অথচ কৃষকরাই বাংলাদেশের আত্মা ও দেশের প্রাণ। কৃষকদের রক্ষা করতে না পারলে দেশে দুর্যোগ নেমে আসবে। তারা উৎপাদন বন্ধ করে দিলে দেশে দুর্ভিক্ষ নেমে আসবে, ১৭ কোটি মানুষ না খেয়ে মরবে। মধ্যস্থতাকারি সুবিধাভোগীদের কাছ থেকে ধান ক্রয় না করে সরাসরি কৃষকদের কাছ থেকে ধান কিনে ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করা ও মধ্যস্বত্বভোগী সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম বন্ধ করার জন্য সিলেট জেলা ও মহানগর বিএনপি জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে সরকারের প্রতি জোর দাবী জানান।
স্মারকলিপিতে আরো উল্লেখ করা হয়, সম্প্রতি জাতীয় মজুরী কমিশন বাস্তবায়ন ও বকেয়া মজুরীসহ ৯ দফা দাবিতে বাংলাদেশ রাষ্ট্রায়াত্ত্ব বিভিন্ন পাটকল শ্রমিকরা আন্দোলন করছে। দেশের ২৬টি পাটকলে একযোগে লাগাতার ধর্মঘট শুরু হলেও সরকার তাদের যৌক্তিক দাবি মেনে নিচ্ছে না। ১০ থেকে ১৫ সপ্তাহ মজুরী না পেয়ে শ্রমিকরা অর্ধাহার ও অনাহারে মানবেতর জীবন-যাপন করছে। ২০১৫ সালের মজুরী কমিশন রোয়েদাদ এখনও বাস্তবায়ন করা হয়নি। অথচ রমজান মাস শুরু হয়েছে। এ মাসে নিত্য প্রয়োজনীয় খাদ্য পণ্য কেনার সামর্থ তাদের নেই। কর্মচারীদের চার মাসের বেতন বকেয়া রয়েছে। শ্রমজীবি মানুষের স্বার্থের প্রতি সরকারের কোন ভ্রুক্ষেপ নেই। বরং তাদের ওপর শোষণের মাত্রা আরও তীব্র হয়েছে। শ্রমিকরা পাটজাত দ্রব্য উৎপাদন করছে বিনিময়ে তারা মজুরী থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। দেশে বৈষম্য ও বঞ্চনা প্রকট আকার ধারণ করেছে। সিলেট জেলা ও মহানগরের পক্ষ থেকে পাটকল শ্রমিকদের যৌক্তিক দাবিগুলো মেনে নেয়ার জন্য জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে সরকারের প্রতি আহ্বান জানানো হয়।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: স্মারকলিপি


আরও
আরও পড়ুন