Inqilab Logo

ঢাকা, শুক্রবার, ১৮ অক্টোবর ২০১৯, ০২ কার্তিক ১৪২৬, ১৮ সফর ১৪৪১ হিজরী

মাতামুহুরীতে অবাধে বালু উত্তোলন

চকরিয়ায় হুমকির মুখে জনবসতি

কক্সবাজার থেকে জাকের উল্লাহ চকোরী | প্রকাশের সময় : ২২ মে, ২০১৯, ১২:০৩ এএম

কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার মাতামুহুরী নদীর বিভিন্ন পয়েন্ট ও ছড়া খাল থেকে অবৈধভাবে ড্রেজার মেশিন বসিয়ে দিনরাত লাখ লাখ ঘনফুট বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। উত্তোলিত এসব বালু প্রশাসনের সামনে দিয়ে শত শত ড্রাস্পার ও ১০ চাকা বিশিষ্ট ট্রাক ভর্তি করে বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ দিচ্ছে এলাকার ক্ষমতাসীন দলের প্রভাবশালী সিন্ডেকেট। মাতামুুহুরী নদীর দক্ষিণ পাশ ও ১নং ওয়ার্ডের আমান্ন্যারচর এলাকা এসব বালু ভর্তি ট্রাক যাচ্ছে নির্মাণ প্রকল্পের ঠিকাদারদের কাজে। এতে সরকার এককানা কড়ি রাজস্ব না ফেলেও ক্ষমতাধর এক ব্যক্তির পকেটে যাচ্ছে প্রতিনিয়ত লাখ লাখ টাকা। অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করায় বর্তমানে ওই এলাকাগুলো মারাত্মক হুমকির সম্মুখিন হয়ে পড়েছে। গত ১৪ এপ্রিল ডুলাহাজারা রংমহল এলাকায় বগাছড়ির ছড়াখালে বালু ও মাটি দস্যুদের সৃষ্ট গর্তের পানিতে পড়ে ২ শিশু কন্যার মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। নিহতরা হলো ওই এলাকার ছরওয়ার আলম ড্রাইভারের মেয়ে সাদিয়া জান্নাত (১০) ও নেজাম ড্রাইভারের মেয়ে আসমাউল হুসনা (৯)। দু’শিশু কন্যাকে হারিয়ে পরিবারে চলছে শোকের মাতম।
এলাকাবাসী অভিযোগ করেছেন বগাছড়ি খালে ড্রেজার মেশিন বসিয়ে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করায় ছড়াখালের বিভিন্ন স্থানে ছোট বড় অসংখ্য গর্তের সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় জনগণ অভিযোগ করেছেন, পুরো চকরিয়া উপজেলায় একজন ক্ষমতাধন জনপ্রতিনিধির ছত্রছায়ায় অবৈধ বালু উৎসব চললেও পরিবেশ অধিদপ্তর, জেলা ও উপজেলা প্রশাসন এবং পুলিশ এতে বাঁধা দিচ্ছেনা। ফলে বালু উত্তোলনকারীরা বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। অবৈধ বালু উত্তোলনের কারণে গ্রামীন অবকাঠামো ভেঙে চুরমার হয়ে যাচ্ছে। ছড়া খাল ও নদীর উভয় পাশে ঘরবাড়িগুলো ভেঙে পাড়ার উপক্রম হয়ে পড়েছে।
এলাকাবাসী জানায়, পৌরসভার ৯নং ওয়ার্ড দিগরপানখালী, পৌরসভার ২ নং ওয়ার্ডের হালকাকারা, পৌরসভার ১নং ওয়ার্ডের আমান্ন্যারচ, ৮নং ওয়ার্ড মাতামুহুরী ব্রিজের দক্ষিণ পাশসহ উপজেলার খুটাখালী, ডুলাহাজারা, ফাঁসিয়াখালী, কাকারা, লক্ষ্যারচর, কৈয়ারবিল, বরইতলী, হারবাং, চিরিঙ্গা, সাহারবিল, পূর্ব ও পশ্চিম বড় ভেওলাসহ অর্ধশত পয়েন্টে ড্রেজার মিশিন বসিয়ে বালু উত্তোলন অব্যাহত রয়েছে। বিশেষত মাতামুহুরী নদীর ব্রিজের দক্ষিণ পার্শ্বে রেল লাইন নির্মাণ প্রকল্পের ঠিকাদারী প্রতিষ্টান তমা গ্রুপ অবৈধভাবে বালি উত্তোলন করায় সরকার এককানা কড়িও রাজস্ব না ফেলেও স্থানীয় প্রভাবশালী জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনের কর্মকর্তারা ব্যক্তিগত ভাবে লাভবান হচ্ছে।
সরেজমিনে পরিদর্শন করে দেখা গেছে, উপজেলার বিভিন্ন স্থানে নদী ও ছড়া খালে নিষিদ্ধ ড্রেজার মেশিন বসিয়ে দিবারাত্রি বালু উত্তোলন করে যাচ্ছে। ইতোপূর্বে এসব স্থানে বালু উত্তোলনের কারণে শতাধিক বাড়ি নদী ও ছড়াখালে বিলিন হওয়ার উপক্রম হয়ে পড়েছে। এছাড়া গ্রামীন অভ্যন্তরীণ সড়কগুলো ভেঙে চলাচলে অযোগ্য হয়ে পড়েছে। সৃষ্টি হয়েছে অসংখ্য খানা-খন্দক ও গর্তের। এতে নজর দিচ্ছেনা সংশ্লিষ্ট প্রশাসন।
অথচ ২০১০ সালের বালুমহাল আইনে বলা আছে ড্রেজিংয়ের ফলে কোন নদীর তীর ভাঙনের শিকার হলে বালু উত্তোলন করা যাবে না। বিপণনের উদ্দেশ্যে কোনো উন্মুক্ত স্থান, বাগানের ছড়া বা নদীর তলদেশ থেকে বালু বা মাটি উত্তোলন করা যাবেনা। এ ছাড়া সেতু, কালভার্ট, ড্যাম, ব্যারাজ, বাঁধ, সড়ক, মহাসড়ক, বন, রেললাইন ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ সরকারি-বেসরকারি স্থাপনা অথবা আবাসিক এলাকার এক কিলোমিটারের মধ্যে থেকে বালু ও মাটি উত্তোলন নিষিদ্ধ রয়েছে।
এ ব্যাপারে পরিবেশ অধিদপ্তর কক্সবাজার কার্যালয়ের সহকারী পরিচালককে স্ব স্ব এলাকার লোকজন অভিযোগ করলেও অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধে এখনও কোন কার্যকারী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়নি।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: নদী

৩০ সেপ্টেম্বর, ২০১৯
২৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৯
২২ সেপ্টেম্বর, ২০১৯

আরও
আরও পড়ুন