Inqilab Logo

ঢাকা, বৃহস্পতিবার ২০ জুন ২০১৯, ৬ আষাঢ় ১৪২৬, ১৬ শাওয়াল ১৪৪০ হিজরী।

সম্মিলিত ইফতারে সুদৃঢ় ভ্রাতৃত্ব

রফিকুল ইসলাম সেলিম : | প্রকাশের সময় : ২২ মে, ২০১৯, ১২:০৩ এএম | আপডেট : ১২:০৮ এএম, ২২ মে, ২০১৯

সারিবদ্ধ রোজাদারের সামনে ইফতার সামগ্রী। আজান হতেই সবাই একসাথে মুখে দিচ্ছেন ইফতার। চট্টগ্রামের ঐতিহাসিক আন্দরকিল্লা শাহী জামে মসজিদে রমজানে প্রতিদিনের চিত্র এমন। কেউ ধনী, কেউ রিকশাচালক, কেউ আবার দিনমজুর।
আছেন চাকরিজীবী, আলেম-ওলামা, কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। ইফতারের জন্য কাতারবন্দি সবার একটাই পরিচয়-রোজাদার। এক কাতারে একই রকম সামগ্রী দিয়ে ইফতারের মজাই যেন আলাদা। অন্যরকম এক বেহেশতি পরিবেশে প্রতিদিন কয়েকশ রোজাদার ইফতার সারেন শাহী জামে মসজিদে। সম্মিলিত ইফতারে ইসলামের অনুপম সৌন্দর্য ফুটে উঠে। সুদৃঢ় হয় মুসলিম ভ্রাতৃত্বের বন্ধন।
বার আউলিয়ার পুণ্যভ‚মি চট্টগ্রাম নগরীর বেশিরভাগ মসজিদেই সম্মিলিত ইফতারের আয়োজন রয়েছে। রোজাদাররা অধিক সওয়াবের আশায় ইফতারের আগেই মসজিদে ছুটে যান। সারিবদ্ধভাবে বসে পড়েন দোয়া-দরূদ-তাসবিহ-তাহলীল। স্বেচ্ছাসেবকরা সবার সামনে প্লেটে সাজানো ইফতার সামগ্রী রেখে যান। সকাল থেকেই চলে ইফতার তৈরির কার্যক্রম। মসজিদ কমিটির ব্যবস্থাপনায় ইফতারির আয়োজন। এ আয়োজনে শরিক হন ধনাঢ্য ব্যক্তিরা। আগেভাগেই ছোলা, পেঁয়াজু, বেগুনি তৈরির উপকরণ ডাল, তেল, চিনি, শরবত পৌঁছে দেন মসজিদ কমিটির হাতে। কমিটির ব্যবস্থাপনায় মাসব্যাপী চলে ইফতার তৈরি ও পরিবেশন।
বাসাবাড়ি থেকে তৈরি ইফতারও দেয়া হয় মসজিদে। কোন কোন মসজিদে এজন্য অস্থায়ী বাবুর্চি নিয়োগ করা হয়েছে। মুসল্লিদের অনেকে সওয়াবের নিয়্যতে ইফতার তৈরির কাজে সময় দিচ্ছেন। আসরের জামাতের পর মসজিদগুলোতে দোয়া-দরূদ ও ইবাদত বন্দেগীতে সামিল হন মুসল্লিরা। আন্দরকিল্লা শাহী জামে মসজিদে চলে তাফসিরুল কোরআন মাহফিল। অন্য মসজিদগুলোতে মাসয়ালা-মাসায়েল ও রোজার ফজিলত বর্ণনা করেন ইমাম ও খতিবরা। এ সময়ে স্বেচ্ছাসেবকরা ইফতার পরিবেশনে ব্যস্ত হয়ে পড়েন। সারিবদ্ধভাবে বসে মুসল্লিরা ইফতারের প্রস্তুতি নেন।
ইফতারের আগে অনুষ্ঠিত হয় মহান আল্লাহর দরবারে বিশেষ মোনাজাত। ইফতার সামনে রেখে মোনাজাতে দোয়া কবুল হয় এমন বিশ্বাস থেকে নগরবাসী তার মনের বাসনা পূরণে মহান আল্লাহর দরবারে মোনাজাতের জন্য ছুটে যান মসজিদে। আন্দরকিল্লা শাহী জামে মসজিদের কয়েকজন মুসল্লি জানান, আশপাশের ব্যবসায়ী এবং বাসিন্দারা ছাড়াও অনেক দূর-দূরান্ত থেকে অনেকে ইফতার করতে আসেন। ধনাঢ্য পরিবারের সন্তানরাও এ ইফতারে সামিল হন। সম্মিলিত ইফতারে একদিকে যেমন অধিক সওয়াবের সম্ভাবনা রয়েছে তেমনি মানুষে মানুষে সম্প্রীতির বন্ধনও সুদৃঢ় হয়।
নগরীর জমিয়তুল ফালাহ জামে মসজিদ, এনায়েত বাজার শাহী জামে মসজিদসহ বড় বড় বেশ কয়েকটি মসজিদে প্রতিদিন কয়েকশ রোজাদার ইফতার সারেন। একই অবস্থা জমিয়তুল ফালাহতেও। ধনাঢ্য শিল্পপতিরা মুসল্লিদের জন্য ইফতার সামগ্রী সরবরাহ করছেন। বাসাবাড়িতে অনেকেই নানা পদের ইফতার দিয়ে ইফতার সারেন। কিন্তু তারাও সম্মিলিত ইফতারে সাধারণ মানের সামগ্রী দিয়েই ইফতার সারছেন। ধনী-গরীব নির্বিশেষে সবার সাথে এক কাতারে বসে ইফতার করার এমন দৃশ্য মুসলিম সু-ভ্রাতৃত্বের অনন্য নজির। মসজিদে ইফতার করার সুযোগে ইবাদত বন্দেগী বাড়ছে। অনেকে আসরের নামাজের জন্য মসজিদে এসে তারাবি শেষ করে বাসায় ফিরছেন। নামাজের ফাঁকে ফাঁকে কোরআন তেলাওয়াত করছেন অর্থসহ কোরআন অধ্যয়ন করছেন। দিনে দিনে মসজিদে মুসল্লিদের সংখ্যা বাড়ছে।

 



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

আরও পড়ুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ