Inqilab Logo

ঢাকা, বৃহস্পতিবার ২৭ জুন ২০১৯, ১৩ আষাঢ় ১৪২৬, ২৩ শাওয়াল ১৪৪০ হিজরী।

স্বস্তি নেই কোথাও

প্রচন্ড রোদ আর তীব্র গরম

মুন্সী কামাল আতাতুর্ক মিসেল | প্রকাশের সময় : ২৩ মে, ২০১৯, ১২:০৫ এএম

তীব্র গরমে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে জনজীবন। মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে। বেড়েই চলছে তাপমাত্রা। সূর্যের প্রখর তাপ আর ভ্যাপসা গরমে ক্লান্ত নগরজীবন। একদিকে তাপদাহ, অপরদিকে বৃষ্টিহীন দিন-রাত।
সবেচেয়ে বেশি কষ্ট পাচ্ছেন শ্রমজীবী মানুষ। গতকাল বুধবার ৩৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় দিশেহারা মানুষ। মাঠঘাট, বাজার, গ্রাম-নগর কোথাও স্বস্তি নেই। তীব্র গরমে নানা ধরনের রোগে আক্রান্ত হচ্ছে মানুষ। এ অবস্থায় মানুষের পানিশূন্যতা দেখা দিচ্ছে। সেই সাথে হচ্ছে বিভিন্ন রোগ। ঘরে বাইরে কোথাও স্বস্তিতে থাকতে পারছে না মানুষ। এবারে বৈশাখে খুব একটা গরম না পড়লেও জ্যৈষ্ঠের শুরুতেই অত্যধিক গরম অনুভূত হতে থাকে। যার ধারাবাহিকতা টানা ১০/১২দিন ধরে রয়েছে। গরমের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে মানুষ আক্রান্ত হচ্ছে ডায়েরিয়া, জ্বরসহ নানা রোগে। কুমিল্লা আবহাওয়া অফিস বলছে, মৃদু তাপদাহ বইছে। এ অবস্থা আর কয়েকদিন অব্যাহত থাকবে। মৌসুমী বায়ু যোগ হলেই গরমের দাপট কমে যাবে।
জ্যৈষ্ঠের কাঠফাটা রোদে স্বস্তি নেই কোথাও। ঘর থেকে বাইরে বেরুলেই শরীর ভিজে ঘামে। তাপদাহ শরীরে জ্বালাপোড়া ধরাচ্ছে। গত এক সপ্তাহের বেশি ধরে কুমিল্লয় ৩৭ থেকে ৪০ ডিগ্রী সেলসিয়াস তাপমাত্রা বিরাজ করছে। তীব্র গরমে কুমিল্লার যেসব অফিসে কর্মকর্তা কর্মচারীরা কেবল সিলিং ফ্যানের হাওয়ায় কাজকর্ম সারছেন তারাও হাঁপিয়ে উঠেছেন। আবার শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত কক্ষ থেকে বেরিয়ে অনেকেই বাইরের তাপমাত্রার সঙ্গে নিজেদের মানিয়ে নিতে না পেরে অস্বস্তি বোধ করছেন। কুমিল্লা নগরীর ফুটপাতের দোকানি ও ভ্রাম্যমাণ হকাররা গরমে কাহিল। নগরীর কান্দিরপাড়ে কাজের সন্ধানে সকালে জড়ো হওয়া দিনমজুরের সংখ্যা গরমের কারণে কমে গেছে।
দুপুরের আগেই নগরীতে রিকশার সংখ্যা কমে যাচ্ছে। প্রচন্ড গরমে রিকশাচালকদের বেশির ভাগই সকাল থেকে বেলা বারোটা এবং বিকেলে সূর্যের তাপ কমার পর রাত পর্যন্ত রিকশা নিয়ে রাস্তায় বের হচ্ছে। কুমিল্লা নগরীর শাসনগাছা, পুলিশ লাইন, ঝাউতলা, কান্দিরপাড়, টমসনব্রীজ, মনোহরপুর, রাজগঞ্জ, গোয়ালপট্টি ও চকবাজার এলাকায় রিকশাভ্যানে পানির ফিল্টার মেশিন বসিয়ে লেবু ও বেলের শরবত বিক্রি হচ্ছে। ইফতারের সময় গরমে ক্লান্ত পথচারিরা ৫ থেকে ১০ টাকার বিনিময়ে তৃষ্ণা মেটাতে গ্লাসে চুমুক দিচ্ছে। নগরীর কনফেকশনারী ও ডিপার্টমেন্টাল স্টোরগুলোতে ফ্রিজে রক্ষিত বিভিন্ন কোম্পানীর কোমল পানীয়, আইসক্রীম, দই ও জুসের চাহিদা বেড়েছে কয়েকগুণ। ফার্মেসী ও অন্যান্য মনোহরী দোকানগুলোতে খাবার স্যালাইন দেদারছে বিক্রি হচ্ছে।
কুমিল্লা সদর হাসপাতাল, মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ অন্যান্য প্রাইভেট হাসপাতালে ডায়রিয়ায় আক্রান্ত রোগী প্রতিদিনই কমবেশি ভর্তি হচ্ছে। এরমধ্যে বয়স্ক ও শিশু রোগীর সংখ্যাই বেশি। নগরীর শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের চেম্বারে প্রচন্ড গরমের কারণে সর্দি কাশিসহ ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হওয়া শিশুদের নিয়ে অভিভাবকরা চিকিৎসকের শরনাপন্ন হচ্ছেন। যেসব শিশুর অবস্থা জটিল তাদেরকে হাসপাতালে ভর্তির পরামর্শ দেয়া হচ্ছে। কুমিল্লা জেলা সিভিল সার্জন ডা. মুজিব রহমান জানান, এই সময়ে পানি খাওয়া ও ব্যবহারে বেশ সতর্ক হতে হবে। রাস্তার পাশে ফুটপাতের পানীয় শরবত ও ঠান্ডা জাতীয় খাবার খাওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

আরও পড়ুন