Inqilab Logo

ঢাকা, শনিবার, ১৯ অক্টোবর ২০১৯, ০৩ কার্তিক ১৪২৬, ১৯ সফর ১৪৪১ হিজরী

প্রশ্নঃ আমার স্বামী প্রায়ই রোযা অবস্থায় আমার সঙ্গে যৌন আচরণে আগ্রহ প্রকাশ করেন। দু’এক বার আমার অমতে জোর করে তার সঙ্গে মিলিত হতে বাধ্য করেছেন। এমতাবস্থায় আমার রোযার কি বিধান? এর ফলে রোযা ভেঙ্গে গেলে কাফফারা বা করণীয় কী?

তামান্না মিশু
কাকলী, ঢাকা।

প্রকাশের সময় : ২৩ মে, ২০১৯, ১২:১৫ এএম

উত্তরঃ যেভাবেই হোক ফরয রোযা রেখে স্বামী-স্ত্রী মিলিত হলে রোযা ভেঙ্গে যাবে। এখানে স্বামীর মনে রোযার গুরুত্ব ও আল্লাহর হুকুমের মাহাত্ম্যের অভাব থেকে থাকবে। কারণ প্রবল ক্ষুধা, পিপাসা ও যৌনাকাক্ষা থাকা সত্বেও দিনের বেলা পানাহার ও বৈধ দৈহিক মিলন থেকে বিরত থাকার নামই রোযা। যতো আগ্রহই হোক অতি সতর্কতার সাথে রোযাদারকে এসব আচরণ থেকে সুবহে সাদিক থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত বেঁচে থাকতেই হবে। প্রশ্ন ওঠে স্বামী নিজে রোযাদার কিনা? রোযাদার না হলে সে স্ত্রীর রোযার মূল্য বুঝবে না। নিজে রোযাদার হলেও স্ত্রীর রোযার মর্যাদা সে স্বামী দিতে পারছে না। এখানে একটি কথা থেকে যায় যে, রোযাদার স্বামীকে নিজ রোযা ভাঙ্গার জন্য অবশ্যই কাফফারা করতে হবে । অর্থাৎ একাধারে ৬০ রোযা রাখতে হবে। তবে পূর্ণ অমত, অনিচ্ছা, অসহযোগিতা অবস্থায় গায়ের জোরে যে রোযাদার স্ত্রীকে স্বামী কর্তৃক দেহ মিলনে বাধ্য করা হয়েছে তার কেবল কাযা করলেই চলবে। কাফফারা করতে হবে না। এটি সে ব্যক্তির মতো যাকে তার ইচ্ছার বাইরে জোর করে কেউ কিছু খাইয়ে বা পান করিয়ে তার রোযা ভেঙ্গে দিল। এমন ব্যক্তির শুধু কাযাস্বরূপ একটি রোযা রাখলেই চলবে। নিজের ইচ্ছায় ফরয রোযা ছেড়ে দেওয়া ব্যক্তির মতো কাফফারা করতে হবে না।
সূত্রঃ জামেউল ফাতাওয়া, ইসলামী ফিকাহ ও ফতওয়া বিশ্বকোষ।
উত্তর দিচ্ছেন, আল্লামা মুফতি উবায়দুর রহমান খান নদভী।

ইসলামিক প্রশ্নোত্তর বিভাগে প্রশ্ন পাঠানোর ঠিকানা
inqilabqna@gmail.com



 

Show all comments
  • Zamir Akas ২৩ মে, ২০১৯, ২:২১ এএম says : 2
    উত্তর টার শেষ দিকে আর একটা কথা লিখলে ভালো হতো। যে স্বামী রোজাদার বৌয়ের সাথে জোর করে মিলন করবে সে বৌয়ের উচিত সে স্বামীকে তালাক দেওয়া। কারন কোন সাধারন মুসলমানও রোজার সময় এমন কাজ বার বার করবে না।
    Total Reply(1) Reply
  • এইচ এম জাকির ২৩ মে, ২০১৯, ২:২২ এএম says : 1
    রমযানে রোযা রেখে দিনে স্ত্রী সহবাস করলে বীর্যপাত না হলেও স্বামী-স্ত্রী উভয়ের উপর কাযা ও কাফফারা ওয়াজিব হয় বোখারী শরীফ-1937,জামে তিরমিযী-28
    Total Reply(0) Reply
  • হৃদয় ২৩ মে, ২০১৯, ২:২৩ এএম says : 1
    খুবই অন্যায় কাজ করেছেন স্বামী,,
    Total Reply(0) Reply
  • মিরাজ আলী ২৩ মে, ২০১৯, ২:২৪ এএম says : 1
    অন্তরে আল্লাহর ভয় থাকলে স্বামী েএমনটা করতে পারতো না। যাইহোক স্ত্রীর রোজার দায় তাকেই নিতে হবে।
    Total Reply(0) Reply
  • Abdul Mukit ২৩ মে, ২০১৯, ১০:৪৪ এএম says : 1
    স্বামীকে বোঝানোর চেষ্টা করা উচিত
    Total Reply(0) Reply
  • MRIDHA MASUD ২৫ মে, ২০১৯, ৯:০৪ পিএম says : 0
    সহিহ দ্বীনের বুঝ থাকতে হবে, কারন দ্বীনদ্বার না হলে এসব হবেই, নামাজ পড়া এক জিনিস আর আল্লাহ তাআলা ভয় হচ্ছে অন্য জিনিস যে আল্লাহ তাআলার ভয়ে নামাজ পড়ে সে অবশ্যই আল্লাহ তাআলা অর্থাৎ ইসলামের বিধি নিষেধ হুকুম আহকাম,যায়েজ না যায়েজ, হালাল হারাম,বৈধ অবৈধ মেনে চলবে অবশ্যই, এইজন্য বিবাহের সময়ে উত্তম আখলাক চরিত্র দেখে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ করানো উচিত,চারটি বিষয় দেখা উচিত বিবাহের সময়ে ১.আল্লাহ ভিতি,২.রূপ,৩.বংশ,৪.সম্পদ আর যদি উপরের তিনটি থাকে ৪ নম্বর না থাকে তাহলে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হওয়া উচিত।সম্পদ দেখে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হলে এমনটা হওয়া স্বাভাবিক।
    Total Reply(0) Reply
  • মাহমুদ ২৭ মে, ২০১৯, ৪:১৪ পিএম says : 0
    এমন স্বামীকে দ্বীনের কথা আরো শোনাতে হবে
    Total Reply(0) Reply
  • Md Saleh Ahmod Tuhin ২৭ মে, ২০১৯, ১১:৩৮ পিএম says : 0
    সবে কদর শবে বরাত এইসব রাত্রে কি স্ত্রী সহবাস করা যাবে
    Total Reply(2) Reply
  • D.Md.Enayet Hossain ২৯ মে, ২০১৯, ৭:৫৮ এএম says : 0
    স্ত্রীর অমতে স্বামীর পক্ষে কোনভাবেই সহবাস(যৌন মিলন) করা সম্ভব নয়। স্বামী যদি উন্মাদ হন তবে তার থেকে রোজা অবস্থায় নিরাপদে থাকতে হবে। বর্ণিত অবস্থায় স্ত্রীর মৌন সম্মতি লক্ষনীয়। স্বামী অসন্তুষ্ট হবেন এই ভাবনা থেকে সহবাসে আপনি প্রবল প্রতিরোধ না করে থাকলে এ ক্ষেত্রে কাজা নয়, কাফ্ফারাই প্রজোজ্য হবে। ভিন্ন রায় হবে যদি আপনি আপনার স্বামীকে প্রতিরোধ করতে শারীকিরভাবে অক্ষম হন। এ ক্ষেত্রে আপনাকে দিনের বাকি সময় না খেয়ে থাকতে হবে। এমন ঘটনা ঘটবার সম্ভাবনা থাকলে আপনাকে আপনার স্বামী থেকে দূরে থাকতে হবে। আল্লাহ আমাদেরকে সঠিকভাবে রোজা রাখার তাওফিক দান করুন। আমিন।
    Total Reply(0) Reply
  • Shihab uddin ৯ জুন, ২০১৯, ১:৪৪ এএম says : 0
    se ratre kotai take dine keno tar ato issa ratre sohbas korte kono mana nai sowaber Las jotobar mone sai Koren
    Total Reply(0) Reply

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: প্রশ্ন :


আরও
আরও পড়ুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ