Inqilab Logo

ঢাকা, সোমবার ১৭ জুন ২০১৯, ৩ আষাঢ় ১৪২৬, ১৩ শাওয়াল ১৪৪০ হিজরী।

মাহে রমজান: মুক্তির পয়গাম

জহিরুল ইসলাম আবদুল্লাহ | প্রকাশের সময় : ২৪ মে, ২০১৯, ১২:০৬ এএম

রহমত বরকত ও মাগফেরাতের ঘোষণা নিয়ে আমাদের মাঝে ফিরে এসেছে মাহে রমজান। আরবি ১২ মাসের মধ্যে শ্রেষ্ঠ মাস হলো রমজান মাস। আর এই শ্রেষ্ঠত্বের কারণ হলো রমজান মাস কুরআন নাযিলের মাস। আল­াহ তা’য়ালা বলেন, ‘রমজান মাসই হলো সেই মাস যাতে নাযিল করা হয়েছে মহাগ্রন্থ আল-কুরআন, যা মানুষের জন্য হেদায়েত এবং স্যুপথ যাত্রীদের জন্য সুস্পষ্ট পথ নির্দেশক। আর ন্যায় ও অন্যায়ের মাঝে পার্থক্য বিধানকারী। সুতরাং তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তিই এ মাস পাবে সে যেন অবশ্যই রোজা রাখে’ (সুরা বাকারা: ১৮৫)। মাহে রমজানের মর্যাদা এত বেশি যে, প্রত্যেকটি ঈমানদার নারী-পুরুষ যাতে এ মাসের পূর্ণ কল্যাণ অর্জন করতে পারে, সে জন্য মহান আল্ল­াঘুা’য়ালা শয়তানকে তালাবদ্ধ করে রাখেন। হাদীস শরীফে রাসূল (সা.) বলেন, ‘যখন বছর ঘুরে রমজান মাস আগমন করে, তখন আসমানের দরজাসমূহ খুলে দেওয়া হয়। জাহান্নামের দরজাসমূহ বন্ধ করে দেওয়া হয়। এবং শয়তানসমূহ ও অবাধ্য জিনসমূহকে বন্দি করে দেওয়া হয়।’ (বুখারী : ১৭৭৮, মুসলিম : ২৩৬৬)। তাকওয়া অর্জনের এ মোবারক মাসে মু’মিনদের ওপর অর্পিত হয়েছে গুরুত্বপ‚র্ণ দায়িত্ব, সৃষ্টি হয়েছে পুণ্য অর্জনের বিশাল সুযোগ এবং প্রবৃত্তিকে নিয়ন্ত্রণ করে মহান চরিত্র অর্জনের সুন্দর প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা। আর এই রোজা রাখার মাধ্যমেই গুনাহের কাফফারা আদায় হয় এবং অগণিত সাওয়াব অর্জন হয়। হাদীস শরীফে রাসূল (সা.) বলেন, ‘যে ব্যক্তি এ মাসে কোন নফল আদায় করল, সে যেন রমজানের বাহিরে একটি ফরজ আদায় করল। আর যে এই মাসে একটি ফরজ আদায় করল, সে যেন অন্য মাসে ৭০ টি ফরজ আদায় করল’ (বায়হাকী, সহীহ ইবনে খুযাইমা)। অপর এক বর্ণনায় রাসূল (সা.) বলেন, ‘যে ব্যক্তি ঈমানের সাথে ও সওয়াবের আশায় রমজান মাসের রোজা রাখবে আল্ল­াঘুা’য়ালা তার প‚র্বের সকল গুনাহ ক্ষমা করে দিবেন। যে ব্যক্তি ঈমানের সাথে ও সওয়াবের আশায় রমজানের রাতে ইবাদতে দাঁড়াবে তারও প‚র্বের গুনাহসমূহ ক্ষমা করে দেওয়া হবে। এবং যে ব্যক্তি ঈমানের সাথে ও সওয়াবের আশায় কদরের রাতে ইবাদতে কাটাবে তারও প‚র্বকৃত সমুদয় গুনাহ ক্ষমা করে দেওয়া হবে’ (বুখারী: ১৭৮০, ইবনে মাজা: ১৬৪১)।

শুধু তাই নয়, যে ব্যক্তি কষ্ট করে রমজান মাসের রোজাগুলো আদায় করবে, কঠিন হাশরের ময়দানে ঐ ব্যক্তির জন্য রোজা সুপারিশ করবে। হযরত আবদুল্ল­াহ ইবনে আমর (রা.) হতে বর্ণিত, রাসূল (সা.) বলেন, ‘রোজা এবং কুরআন কিয়ামতের দিন বান্দার জন্য সুপারিশ করবে, রোজা বলবে, হে আমার প্রতিপালক! আমি তাকে খাদ্য ও কাম প্রবৃত্তি হতে দিনের বেলায় বাধা প্রদান করেছি। সুতরাং তার ব্যাপারে তুমি আমার সুপারিশ কবুল কর। কুরআন বলবে, হে আমার প্রতিপালক! আমি তাকে রাতের বেলায় ঘুম হতে বাধা প্রদান করেছি। সুতরাং তার ব্যাপারে তুমি আমার সুপারিশ কবুল কর। (রাসূল সা. বলেন) অণঃপর উভয়ের সুপারিশ কবুল করা হবে’। (মুসনাদে আহমাদ: ৬৬২৬)। রমজানের ফজিলত এত বেশি যে, শুধু তাই নয়, রোজা রাখার মাধ্যমে জান্নাতও লাভ করা যায়। হযরত সাহল বিন সা’দ (রা.) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল (সা.) বলেন, ‘জান্নাতের আটটি দরজা রয়েছে। এর মধ্যে একটি দরজার নাম ‘রাইয়ান’। ওই দরজা দিয়ে কেবল রোজাদারগণই প্রবেশ করবে’ (বুখারী: ১৭৭৫)। রোজাদার ব্যক্তিকে আল্লাহতা’য়ালা এত বেশি ভালোবাসেন যে, রাসূল (সা.) বলেন, ‘নিশ্চয়ই রোজাদারের মুখের ঘ্রাণ আল্লাহতা’য়ালার নিকট মেশকে আম্বরের সুগন্ধি থেকে অধিক পছন্দনীয়’ (বুখারী, মুসলিম)। রোজাদার ব্যক্তির সবচেয়ে বড় আনন্দ ও প্রাপ্তি হলো আল্লাহতা’য়ালা তাকে নিজ হাতে পুরস্কৃত করবেন। হযরত আবু হুরায়রা (রা.) হতে বর্ণিত, রাসূল সা বলেন, ‘(রমজান মাসে) আদম সন্তানের প্রতিটি নেক কাজের সওয়াব দশগুণ হতে সাতশ গুণ পর্যন্ত বৃদ্ধি করা হয়। আল­াহ তা’য়ালা বলেন, রোজা এর ব্যতিক্রম। কেননা রোজা শুধু আমার জন্য আর আমিই এর প্রতিদান (যত ইচ্ছা) প্রদান করবো’ ( বুখারী: ১৮০৫ , ইবনে মাজা: ১৬৩৮)। সকল ইবাদত আল্ল­াহর জন্যই হয়ে থাকে। তা সত্তে¡ও আল্লাহতা’য়ালা রোজাকে বিশেষভাবে নিজের জন্য খাস করেছেন, এর কারণ সম্পর্কে কাজী আয়ায (র.) বলেন, প্রত্যেক ইবাদতের মধ্যেই রিয়া বা লোক দেখানোর সম্ভাবনা আছে। কিন্তু রোজার মধ্যে কোনো রিয়ার সম্ভাবনা নেই। কল্যাণের এ মোবারক মাসে আল্লাহতা’আলা আমাদের সকলকেই তাকওয়া অর্জন এবং রমজানের পূর্ণ হক আদায় করার তাওফিক দান করুন।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

আরও পড়ুন