Inqilab Logo

ঢাকা, শুক্রবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ৫ আশ্বিন ১৪২৬, ২০ মুহাররম ১৪৪১ হিজরী

বড় কোম্পানিগুলো কিনছে না লবণ

বিপাকে চাষি, বোর্ড গঠনের দাবি

অর্থনৈতিক রিপোর্টার : | প্রকাশের সময় : ২৪ মে, ২০১৯, ১২:০৪ এএম

প্রায় ২০ কানি জমিতে লবন চাষ করছেন কক্সবাজারের চকরিয়ার আনিসুর রহমান। লবনের দাম কম হওয়ায় লাভতো দুরের কথা খরচ উঠাতে পারবেন কী না সেটা নিয়ে চিন্তিত তিনি। এখানকার সব লবন চাষির অবস্থা একই। তিন মাস আগে মাঠ থেকে যে লবণ বিক্রি করতো ২৮০ টাকা মন সে লবনের দাম এখন অর্ধেকে নেমে ১৫০ টাকা হয়েছে। শুধু আনিসুর রহমানেরই নয়; এ অবস্থা অধিকাংশ লবন চাষীর। লবনের ন্যায্য দাম পেতে সরকারের সহোযোগিতা চাচ্ছেন তারা। দাবি উঠেছে লবন বোর্ড গঠনের।
জানা গেছে, চলতি মৌসুমে ১৬ লাখ টন লবন উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। যদিও উৎপাদন ইতোমধ্যে ১৮ লাখ টন ছাড়িয়েছে। রেকর্ড লবন উৎপাদনের পাশাপাশি প্রক্রিয়াজাত লবন কোম্পানিগুলো লবন কেনা কমিয়ে দেবার কারনে দাম অর্ধেকে নেমে এসেছে। এসব অঞ্চল থেকে এসিআই সল্ট লিমিটেড, মোল্ল­া সল্ট, মধুমতিসহ বড় ও নামী দামি কোম্পানিগুলো লবন কেনা বন্ধ করে দিয়েছে। লবণের দরপতনের কারণে ব্যাপক লোকসানের মধ্যে পড়ায় লবণ বিক্রি করছেন না বলে জানান এসব এলাকার কৃষকরা।
আনিসুর রহমান বলেন, আমার চার হাজার মন লবন মজুদ আছে। গর্ত করে মাঠেই এ লবন রেখেছি। কিভাবে লবনের দাম বৃদ্ধি করা যায় সরকার যেন সে বিষয়ে পদক্ষেপ নেয়। চকরিয়া উপজেলার ৬০-৬৫ শতাংশ এলাকায় লবন চাষ হয়। বড় ও নামী দামি কোম্পানিগুলো লবন না নেওয়ার কারনে চাষী পর্যায়ে লবণ বিক্রি অঘোষিতভাবে বন্ধ হয়ে গেছে। বর্তমানে লবণের দাম কম হওয়ায় চাষীরা লবণ বিক্রি করছেন না। যার ফলে মাঠে হাজার-হাজার মণ লবণ অবিক্রিত পড়ে আছে।
এসিআই সল্ট লিমিটেডের বিসনেস ডিরেক্টর মো. কামরুল হাসান বলেন, আমাদের কারখানার জন্য প্রতিদিন প্রায় ৬ লাখ কেজি লবন সংগ্রহ করে থাকি। কিন্তু আদালতের নিষেধাজ্ঞায় উৎপাদন বন্ধ থাকায় আমরা খুচরা বাজার থেকে লবন কেনা বন্ধ রেখেছি।
বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প (বিসিক) সূত্র জানায়, চলতি মৌসুমে দেশে ভোক্তা ও শিল্পখাতে লবণের চাহিদা রয়েছে ১৬ লাখ ৬৫ হাজার টন। বিপরীতে বিসিক দেশে লবণ উৎপাদন এলাকার ৬৪ হাজার ১৪৭ একর জমিতে লবণ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে ১৮ লাখ টন। গত বছরের নভেম্বর মাসের মাঝামাঝি থেকে চকরিয়া, পেকুয়া, কুতুবদিয়া, মহেশখালী, টেকনাফ, কক্সবাজার সদরসহ কক্সবাজারের উপক‚ল এবং চট্টগ্রামের বাঁশখালীর উপজেলায় লবণ উৎপাদনে জড়িত রয়েছে প্রায় ৪ লাখের বেশি কৃষক ও শ্রমিক। অনূক‚ল আবহাওয়া থাকায় ১৩টি লবণ উৎপাদন মোকামের অধীনে লবণ উৎপাদন ছাড়িয়েছে ১৮ লাখ টন। বিসিকের কক্সবাজার লবন শিল্প উন্নয়ন প্রকল্পের উপমহাব্যবস্থাপক দিলদার আহমদ চৌধুরি বলেন, এ অঞ্চলের কৃষক সাধারণ ডিসেম্বর থেকে শুরু করে মে মাসের শেষ পর্যন্ত লবন চাষ করে থাকে।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: লবণ

১৪ এপ্রিল, ২০১৯
১১ জানুয়ারি, ২০১৯
৮ জানুয়ারি, ২০১৯

আরও
আরও পড়ুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ