Inqilab Logo

ঢাকা, শুক্রবার, ১৮ অক্টোবর ২০১৯, ০২ কার্তিক ১৪২৬, ১৮ সফর ১৪৪১ হিজরী

রাণীনগরে ধানের চাতালে শুদ্ধি অভিযান

লাভের আশায় কৃষকরা

নওগাঁ জেলা সংবাদদাতা | প্রকাশের সময় : ২৫ মে, ২০১৯, ৫:৪০ পিএম

কৃষকের জন্য ধানের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিতের আশায় জেলার ১১টি উপজেলার বিভিন্ন চাতাল মিলে চলছে শুদ্ধি অভিযান। তারই ধারাবাহিকতায় নওগাঁর রাণীনগর উপজেলার সকল হাসকিং ও চাতাল মিলে পরিচালনা করা হয়েছে শুদ্ধি অভিযান। কেউ যেন সিন্ডিকেটের মাধ্যমে কৃষককে ফাকি দিয়ে ধান ক্রয় করতে না পারে সে লক্ষ্যে খাদ্য মন্ত্রণালয়ের নির্দেশক্রমে ও জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে রাখা হয়েছে কঠোর নজরদারী।

উপজেলার অবৈধ চাতাল মালিকদের দৌড়াত্ম বন্ধ করার লক্ষ্যে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে শুক্রবার ও শনিবার দিনব্যাপী উপজেলার সকল চাতাল ও অটো মিলে চালানো হয় শুদ্ধি অভিযান। এই অভিযানে অবৈধ ভাবে মজুদ করা ধান ও চাল মালিকদের বিরুদ্ধে কঠোর হুশায়ারী প্রদান করা হয়। সরাসরি কৃষকের কাছ থেকে ধান ক্রয় করার নির্দেশ প্রদান করা হয়। কোন মিলাররা যেন তাদের পূর্বের মজুদ করা ধান কিংবা চাল যেন সরকারের কাছে বিক্রয় করতে না পারে সেজন্য প্রতিটি চাতাল মিলে অভিযান পরিচালনা করে তাদের সবকিছু কঠোর নজরদারীর মাধ্যমে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। এছাড়াও যে সব চাতাল মিলাররা দীর্ঘদিন থেকে সাইনবোর্ড ব্যবহার করে সিন্ডিকেটের মাধ্যমে ব্যবসা করে আসছেন এদের অনেকের বিরুদ্ধেই কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়। ইতিপূর্বে বিভিন্ন অনিয়মের কারণে উপজেলার কয়েকটি চাতাল মালিকদের সদনপত্র বাতিল করা হয়েছে। এছাড়াও অচিরেই উপজেলার আরো অচল মিলারদের লাইসেন্স বাতিল করারও পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে বলে জানায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আল মামুন। উপজেলার ১শত ২৯টি হাসকিং ও অটো মিলে এই অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানের সময় আরো উপস্থিত ছিলেন রাণীনগর খাদ্য নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তা সিরাজুল ইসলাম সরকার, খাদ্যগুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মুহা. শরিফুল ইসলাম লিটন, উপজেলা ধান ও চাউল কল মালিক গ্রুপের সাধারন সম্পাদক খিতেশ চন্দ্র প্রমুখ

রাণীনগর উপজেলা ধান ও চাউল কল মালিক গ্রুপের সাধারন সম্পাদক খিতেশ চন্দ্র বলেন, এই রকম অভিযানকে আমরা স্বাগত জানাই। হাসকিং চাতাল মালিকদের বরাদ্দ আরো বেশি দিলে কৃষকরা আরো বেশি লাভবান হতো। সরকারের খামখেয়ালীপনা এলসি আমদানীর কারণে প্রতিটি মিলারের ঘরে এখনো বিগত সময়ের ধান ও চাল মজুদ আছে। যার কারণে ছোট ছোট মিলাররা ভয়ে ধান কিনতে যাচ্ছেন না। এই সমস্যা থেকে উত্তোরনের জন্য সরকারকে সরকারকে আরো বেশি করে ধান-চাল কিনতে হবে, চাল বিদেশে রপ্তানির ব্যবস্থা গ্রহণ করাসহ নানা পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। তবেই কৃষকরা অধিক লাভবান হবে বলে আশা করেন তিনি।
রাণীনগর উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তা সিরাজুল ইসলাম সরকার বলেন কৃষকরা যাতে নায্য মূল্য পায় এবং মিলাররা যেন সরাসরি কৃষকের কাছ থেকে ধান কিনেন এবিষয়ে মিলারদের উৎসাহিত করাই এই অভিযানের মূল লক্ষ্য। এছাড়াও অনেক অবৈধ মিলাররা নামকাওয়াস্তে চাতাল দেখিয়ে সরকারের কাছ থেকে বরাদ্দ নিচ্ছেন কিন্তু তারা সরকারের ঘরে চাল দিচ্ছেন না। এরকম মিলারসহ উপজেলার সকল চাতাল মিলের বর্তমান হালহকিকত পরির্দশন করার জন্য এই অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। আশা করি ্ এই অভিযানের মাধ্যমে উপজেলার কৃষকরা অনেকটাই উপকৃত হবেন।
নির্বাহী কর্মকর্তা আল মামুন বলেন মিলাররা সরাসরি কৃষকের কাছ থেকে ধান কেনা শুরু করলে কৃষকরা লাভবান হবেন। অনেক মিলাররা সিন্ডিকেটের মাধ্যমে ধান ক্রয় করে থাকেন যার কারণে কৃষকরা লোকশানে পড়েন। এছাড়াও নানা অনিয়ম তদন্ত করার লক্ষ্যে এই অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। আগামীতেও এই রকম অভিযান পরিচালনা করা হবে। এছাড়াও ধান ও চাল ক্রয়ের বিষয়ে কোন প্রকারের অনিয়ম মেনে নেওয়া হবে না বলেও তিনি জানান।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: অভিযান


আরও
আরও পড়ুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ