Inqilab Logo

ঢাকা, শুক্রবার, ১৮ অক্টোবর ২০১৯, ০২ কার্তিক ১৪২৬, ১৮ সফর ১৪৪১ হিজরী

তিথি ছাড়াই হালদায় নমুনা ডিম ছেড়েছে মা মাছ

আসলাম পারভেজ, হাটহাজারী | প্রকাশের সময় : ২৫ মে, ২০১৯, ১০:৩৬ পিএম

নেই কোন অমাবস্যা নেই কোন পূর্ণিমার তিথি, গত শুক্রবার বৃষ্টি আর বজ্রপাতের প্রভাবে মিষ্টি পানির নদী এশিয়ার বিখ্যাত মৎস্য প্রজনন ক্ষেত্র হালদা নদীতে মা মাছের ডিমের নমুনা পাওয়া গেছে। শনিবার ভোর সকালের দিকে এ নমুনা পাওয়া যায়। নদীতে মা মাছের ডিমের নমুনা দেয়ার খবর ডিম সংগ্রহকারীদের মাঝে ছড়িয়ে পড়লে হালদা নদীর তীরবর্তী ডিম সংগ্রহকারীরা ডিম ধরার নৌকা সহ প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম নিয়ে হালদা নদীতে নেমে পড়ে। নদীতে জাল ফেলে কয়েক ঘণ্টা রাখার পর জাল তুলে এই ডিমের নমুনা দেখতে পায়। তবে মা মাছ পুরোদমে ডিম দেয়নি।
অমাবশ্যার পূর্ণীমার তিথি না থাকায় নদীতে মা মাছেরা পুরো দমে ডিম ছাড়েনি বলে জানিয়েছেন ডিম সংগ্রহকারীরা। অমাবশ্যা ও পূর্ণিমা তিথি না থাকলেও বৃষ্টি ও বজ্রপাত হওয়ায় ডিম সংগ্রহকারীরা মনে করেছিল মা মাছ ডিম ছাড়বে। কিন্তু এবারও ডিম সংগ্রহাকারীদের কপালে জুটেনি সেই কাঙ্খিত মা মাছের ডিম। হালদা নদীতে মা মাছগুলো বৃষ্টি আর মেঘের গর্জন হলেও এবং মা মাছের ডিম দেয়ার উপযুক্ত সময় না হওয়ার কারনে পর্যাপ্ত পরিমানে ডিম ছাড়েনি। গতকাল শনিবার হালদা নদীর নতুনহাট,আজিমের ঘাট,আমতোয়া,সিপাহীর ঘাট সহ বেশ কয়েকটি স্পটে ডিমের নমুনা পাওয়া গেছে বলে জানা যায়। প্রতিটি নৌকায় ১০গ্রাম থেকে ১৫ গ্রাম পর্যন্ত মা মাছের ডিমের নমুনা পাওয়া গেছে বলে জানা যায়। তবে এই নমুনা তেমন সুবিধা জনক হবেনা বলে জানিয়েছেন ডিম সংগ্রহকারীরা। এ দিকে শনিবার রাত আনুমানিক সাড়ে ৯ টার দিকে কিছু কিছু ডিম পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছেন গড়দুয়ারা ইউরি ডিম সংগ্রহকারী মোঃ কামাল সওদাগর। তিনি নদীতে জাল ফেলে ২০০-৫০০ গ্রাম পর্যন্ত ডিম সংগ্রহ করেছ বলে জানিয়েছেন। তবে রাতে পুরোদমে ডিম ছাড়বে বলে আশা করেন ডিম সংগ্রহকারীরা। এ দিকে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় প্রাণী বিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ড. মঞ্জুর কিবরিয়া জানান দুপুরে কিছু কিছু ডিমের নমুনা পাওয়া গেলে তবে রাত সাড়ে নয়টার দিকে ডিমের সংখ্যা বাড়তে থাকে। তবে এখনো পুরো দমে ডিম পাওয়া যাচ্ছে না। হয়তো রাতে মা মাছ পুরোদমে ছাড়তে পারে বলে তিনি আশা করেন। ডিমের নমুনাকে ঘিরে বেশ কয়েকজন কুচক্রি মহল নদীতে মা মাছ ডিম ছেড়েছে এমন গুজব ছড়িয়ে হালদা নদীর আসল ডিমের ও পুনাকে নকল করে বাজার জাত করার পাঁয়তারা চালাচ্ছে কুচক্রি সিন্ডিকেট সদস্যরা। এই মহলটি কয়েক বছর ধরে হালদা নদীর উপর বিভিন্ন নির্যাতন চালিয়ে আসছে। মূলত হালদা নদীতে এ বছর মা মাছ পুরো দমে ডিম দেয়নি। পূর্ণিমা ও অমাবশ্যার মাঝামাঝিতে গতকাল বৃষ্টি ও বজ্রপাত হলেও মা মাছ ডিম না দেওয়ায় হতাশ হয়ে পড়েছে ডিম সংগ্রহকারীরা। ঈদের আগে পূর্ণিমার তিথীতে এই মৎস্য প্রজনন ক্ষেত্র হালদা নদীতে মা মাছেরা ডিম দেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানিয়েছেন কয়েকজন ডিমসংগ্রহকারী। এই দিকে শুক্রবার বৃষ্টি ও বজ্রপাত হওয়ায় শনিবার ভোর সকাল থেকে হালদা নদীর আশে-পাশে বিভিন্ন এলাকায় বিভিন্ন প্রজাতির পেটে ডিম ভর্তি মা মাছেরা উজানে ভেসে উঠে ধানি জমিতে আটকা পড়ে বহু মাছ। আটকা পড়া মাছগুলোর ওজন আনুমানিক ৮ থেকে ১২ কেজি হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। গতকাল ধানি জমিতে আটকা পড়া বেশ কয়েকটি বড় আকারের পেটে ডিম ভর্তী মা মাছ হাটহাজারীর কয়েকটি বাজারে বিক্রি হয়েছে বলে জানা যায়। তবে এই মা মাছগুলো হালদা নদী থেকে উজানে বেশে উঠে ধানি জমিতে চলে আসে বলে ধারণা করছেন সাধারণ মানুষ।
এদিকে হাটহাজারী উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো.আজহারুল আলম হালদা নদীর বিভিন্ন স্থানে কিছু কিছু ডিম সংগ্রহকারী ডিমের নমুনা সংগ্রহ করেছে বলে আমি শুনেছি।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: হালদা

২ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯

আরও
আরও পড়ুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ