Inqilab Logo

ঢাকা, শুক্রবার, ১৮ অক্টোবর ২০১৯, ০২ কার্তিক ১৪২৬, ১৮ সফর ১৪৪১ হিজরী

এইচএসসি পরীক্ষায় ৫ লাখ ৮৯ হাজার টাকা বাণিজ্যের অভিযোগ

বেতাগী (বরগুনা) উপজেলা সংবাদদাতা | প্রকাশের সময় : ২৭ মে, ২০১৯, ১২:০৬ এএম

বরগুনার বেতাগী সরকারি কলেজে এইচএসসি ব্যবহারিক পরীক্ষায় ৯টি বিষয়ের ৫ লাখ ৮৯ হাজার টাকার বাণিজ্যের অভিযোগ পাওয়া গেছে। ফলে শিক্ষার্থীদের মাঝে ক্ষোভ বিরাজ করছে। সবচেয়ে বিপাকে পরেছে গরীব শিক্ষার্থীরা।
গত ২৩ এপ্রিল সারাদেশে একযোগে এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা শুরু হয়। এতে বেতাগী সরকারি কলেজে অধ্যয়নরত তিন বিভাগের ৬৮২ জন শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে।
জানা যায়, পরীক্ষার ফরম পূরণের সময় জনপ্রতি শিক্ষার্থীর নিকট থেকে বোর্ড কর্তৃক নির্ধারিত ব্যবহারিক পরীক্ষার ফি বাবদ বিজ্ঞান বিভাগে ৭৫৫ টাকা এবং মানবিক ও ব্যবসা শিক্ষা বিভাগে ৩৯৫ টাকা আদায় করে নেয়া হয়।
কলেজের একটি বিশ্বস্ত সূত্র জানায়, মূল বিষয়ে পরীক্ষার পরে ব্যবহারিক পরীক্ষা খাতায় সংশ্লিষ্ট বিভাগের শিক্ষকগণ স্বাক্ষর করার সময় ২০০ থেকে ৪০০ টাকা জন প্রতি আদায় করেছেন। সংশ্লিষ্ট বিষয়ভিত্তিক শিক্ষকরা আইসিটি বিষয়ে ৬৮২ জনের কাছ থেকে ২০০ টাকা করে ১ লাখ ৩৬ হাজার ৪০০ টাকা, ভূগোলে ১৮০ জন পরীক্ষার্থীর কাছ থেকে ২০০ টাকা করে ৩৬ হাজার টাকা, কৃষি ও মৃত্তিকা বিজ্ঞান বিভাগের ২৯৫ জন পরীক্ষার্থীর কাছ থেকে দুই বিষয়ে ৬০০ শ’ টাকা করে ১ লাখ ৭৭ হাজার, রসায়ন প্রথম ও দ্বিতীয় পত্রে ২০০ জনের কাছ থেকে ৮০ হাজার, পদার্থবিদ্যা প্রথম ও দ্বিতীয় পত্রে ২০০ জনের কাছ থেকে ৮০ হাজার এবং জীববিজ্ঞান প্রথম ও দ্বিতীয় পত্রে ২০০ জনের কাছ থেকে ৮০ হাজার করে মোট ৫ লাখ ৮৯ হাজার ৪০০ টাকা আদায় করছেন।
নাম প্রকাশে অনেচ্ছুক একাধিক শিক্ষার্থী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘ব্যবহারিক পরীক্ষার খাতায় স্বাক্ষর করার নামে অতিরিক্ত টাকা আদায় করায় তাদের পরিবারে চাপ সৃষ্টি করা হয়েছে।’ সংশ্লিষ্ট বিষয়ভিত্তিক শিক্ষকদের ধার্যকৃত ব্যবহারিক পরীক্ষার ফি যথারীতি পরিশোধ না করলে ব্যবহারিক পরীক্ষায় ফেল করিয়ে দেওয়ার হুমকি দেয়া হয়। তারা আরও অভিযোগ করেন, ‘ফরম পূরণের সময় বোর্ড কর্তৃক নির্ধারিত ব্যবহারিক পরীক্ষার জন্য ফি আদায় করে নেয়া হয়েছে। পরবর্তী পুনারায় কোন খাতে এ টাকা নেয়া হচ্ছে বলে তা তাদের বোধগম্য নয়।’
এ উপজেলার অধিকাংশ মানুষের কৃষির উপর নির্ভরশীল হওয়ায় অধিকাংশ মানুষ গরীব। কৃষক ইউনুস আলীসহ একাধিক গরীব শিক্ষার্থী অভিভাবক অভিযোগ করেন, ‘ভর্তি ফি, বই, নতুন বিভিন্ন ধরণের গাইড ক্রয়, বিভিন্ন বিষয় প্রাইভেট খরচ, প্রতিষ্ঠানিক পোশাক তৈরি, ফরম পূরণ করাতেই হিমশিম খেতে হয়। এরপরেও আবার ৯টি বিষয়ের ব্যবহারিক পরীক্ষার জন্য অতিরিক্ত টাকা দেয়া এগুলো এখন আমাদের কষ্টের বোঝা হয়ে দাড়িয়েছে। ধার-দেনা করে এ টাকা দিতে হয়েছে।’
বেতাগী সরকারি কলেজ অধ্যক্ষ মো. নুরুল আমীন বলেন, ‘টাকা আদায় করা হয়েছে কিনা এ বিষয় আমার জানা নেই। তবে শিক্ষার্থীদের উপর যাতে কোন প্রকারের চাপ সৃষ্টি না হয় সে বিষয় খেয়াল রাখার জন্য আগ থেকেই নির্দেশ দিয়েছি। ’



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

আরও পড়ুন