Inqilab Logo

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২৪ অক্টোবর ২০১৯, ০৮ কার্তিক ১৪২৬, ২৪ সফর ১৪৪১ হিজরী

পেট্রোবাংলার লোকসান ৩৫০ কোটি টাকা

স্টাফ রিপোর্টার : | প্রকাশের সময় : ২৭ মে, ২০১৯, ১২:০৫ এএম

গ্যাস পাইপলাইন নির্মাণ প্রকল্পের টাকা পাশ করিয়ে কাজ না করায় সরকারকে আর্থিক লোকসানের মুখে ফেলার দায়ে তিতাস গ্যাস বিতরণ কোম্পানির সাবেক তিন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ দিয়েছে পেট্রোবাংলা। এসব কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ৩৫০কোটি টাকা লোকসানের প্রতিবেদন দিয়েছে গঠিত কমিটি।
তিন কর্মকর্তা হলেন- তিতাস গ্যাস কোম্পানির সাবেক উপ-মহাব্যবস্থাপক (অব.) কামাল উদ্দিন, সাবেক উপ-মহাব্যবস্থাপক কাজী আনোয়ারুল আজিম ও সাবেক সহকারী ব্যবস্থাপক (ক্রয় ) শেখ মো. এজাজ। এসব কর্মকর্তার সুন্দরবন গ্যাস বিতরণ কোম্পানি কর্মরত থাকার সময় ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের ভুল বুঝিয়ে খুলনা ও বরিশাল অঞ্চলে সোর্স পাইপ লাইনে গ্যাস না থাকার পরও ‘গ্যাস পাইপলাইন নির্মাণ প্রকল্প’ পাস করিয়ে নিয়েছেন। তবে, প্রকল্প পাস করিয়ে নিয়ে কেবল কেনাকাটাই ব্যস্ত ছিলেন, কিন্তু কোনো পাইপলাইনের বসানোর কাজ শুরু করেননি। এতে সরকারের ৩৫০ কোটি টাকা লোকসান হয়েছে। পেট্রোবাংলা সূত্রে জানা গেছে, দক্ষিণ-পশ্চিম অঞ্চল গ্যাস বিতরণ নেটওয়ার্ক নির্মাণের মালামাল কিনেছিলেন পেট্রোবাংলার এই কর্মকর্তারা। অভিযুক্তদের মধ্যে তিতাস গ্যাস কোম্পানির উপ-মহাব্যবস্থাপক কামাল উদ্দিন অবসরে গেছেন। গ্যাসলাইন প্রকল্পের সময় তিনি ওই প্রকল্পের উপ-মহাব্যবস্থাপকের দায়িত্ব পালন করেছিলেন। তিতাসের উপ-মহাব্যবস্থাপক কাজী আনোয়ারুল আজিম গ্যাসলাইন তৈরির প্রকল্প প্রস্তাবের সময় সুন্দরবন গ্যাস কোম্পানির উপ-ব্যবস্থাপক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তিনি বর্তমানে রূপান্তরিত প্রাকৃতিক গ্যাস কোম্পানি (আরপিজিসিএল)-এর এলএনজি সেলের উপ-মহাব্যবস্থাপক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। আর তিতাসের সহকারী ব্যবস্থাপক (ক্রয়) শেখ মো. এজাজ ওই সময় ছিলেন সুন্দরবন গ্যাস বিতরণ কোম্পানির সহকারী ব্যবস্থাপক (ক্রয়)। বর্তমানে চাকরি ছেড়ে অস্ট্রেলিয়ায় আছেন তিনি। পেট্রোবাংলা তার অধীনস্থ কোম্পানিগুলোর কর্মকর্তাদের বদলি-পদায়ন নিয়ন্ত্রণ করে। সুন্দরবন গ্যাস বিতরণ কোম্পানিতে এই দুর্নীতির পর সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের অন্য কোম্পনিতে বদলি করা হয়।
পেট্রোবাংলার উপ-মহাব্যবস্থাপক (প্রশাসন) শাহানা বেগম স্বাক্ষরিত নির্দেশনায় বলা হয়, দক্ষিণ-পশ্চিম অঞ্চল গ্যাস বিতরণ নেটওয়ার্ক (২য় সংশোধিত)’ শীর্ষক প্রকল্পের বিষয়ে আইএমই বিভাগের পরিদর্শন প্রতিবেদনের সুপারিশ অনুযায়ী সোর্স পাইপলাইনে ক্যাপাসিটি ছিল না। এরপরও কোনও সার্ভে বা স্টাডি না করেও অবাস্তব পরিকল্পনা করে দায়িত্বহীন ও পরিকল্পনা-শৃঙ্খলার পরিপন্থী ডিপিপি প্রণয়ন করে মন্ত্রণালয় ও কমিশনকে ভুল বোঝানোর বিষয়টি তদন্ত করে সুপারিশ দেওয়ার জন্য একটি কমিটি গঠন করা হয়।
পেট্রোবাংলার পরিচালক পরিকল্পনা মো. আইয়ুব খান চৌধুরীর নেতৃত্বে গঠিত হয় তিন সদস্যর এই কমিটি। তদন্ত কমিটি এ বিষয়ে পেট্রোবাংলায় একটি প্রতিবেদন জমা দেয়। তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দক্ষিণ-পশ্চিম অঞ্চল গ্যাস বিতরণ নেটওয়ার্ক (২য় সংশোধিত)’ প্রকল্পে সরকারের প্রায় ৩৫০ কোটি টাকা ক্ষতি হয়েছে। এই ক্ষতির জন্য তিতাসের (তৎকালীন সুন্দরবন) ওই তিন কর্মকর্তা দায়ী। পেট্রোবাংলার একজন কর্মকর্তা জানান, তিন জনের মধ্যে একজন ইতোমধ্যে অবসরে গেছেন। একজন অস্ট্রেলিয়ায় বসবাস করছেন। আর তৃতীয় জন রূপান্তরত প্রাকৃতিক গ্যাস কোম্পানিতে (আরপিজিসিএল) কর্মরত আছেন। তাদের বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
২০১০ সালে শুরু হওয়া প্রকল্পটির কাজ ২০১৫ সেপ্টেম্বরে শেষ হওয়ার কথা ছিল। ছয় বছর ধরে কেবল প্রকল্পর লাইন পাইপ এবং অন্যান্য মালামাল কেনা হয়। প্রকল্পের কাজ সন্তোষজনক না হওয়ায় প্রকল্পটি অসম্পূর্ণ রেখেই সমাপ্ত করে দেওয়া হয়।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

আরও পড়ুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ