Inqilab Logo

ঢাকা, বৃহস্পতিবার , ১২ ডিসেম্বর ২০১৯, ২৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৬, ১৪ রবিউস সানি ১৪৪১ হিজরী

রমজানের শেষ দশকের আমল

এ. কে. এম. ফজলুর রহমান মুন্শী | প্রকাশের সময় : ২৭ মে, ২০১৯, ১২:০৫ এএম

মাহে রমজানের শেষ দশকের আমল খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এ প্রসঙ্গে হযরত আয়েশা (রা.) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেছেন : রমজান মাসের শেষ দর্শক শুরু হলেই রাসূলুল্লাহ (সা.) তার কোমর শক্ত করে বাঁধতেন, এই সময়ের রাতগুলোতে জাগ্রত থাকতেন এবং তার গৃহবাসী লোকদের সজাগ করতেন। (সহীহ বুখারী ও সহীহ মুসলিম)।
এই হাদীস হতে জানা যায় যে, রমজান মাসের শেষ দশক আসলেই রাসূলুল্লাহ (সা.) চ‚ড়ান্ত মাত্রার ইবাদতের জন্য কোমর বাঁধতেন অর্থাৎ পূর্ব প্রস্ততি গ্রহণ করতেন। আর তিনি একাই ইবাদত-বন্দেগী করতেন এমনটি নয়, বরং নিজের গৃহবাসী আপনজনদের রাতে জাগিয়ে রেখে ইবাদত করার জন্য প্রস্তত করতেন। তিরমিজী শরীফে উদ্ধৃত হাদীসে সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ রয়েছে যে, রাসূলুল্লাহ (সা.) রমজান মাসের শেষ দশকে তার ঘরের লোকজনদের ইবাদত-বন্দেগী ও নামাজ আদায়ের জন্য জাগিয়ে দিতেন। হযরত আয়েশা (রা.)-এর অপর একটি বর্ণনায় আরও বলিষ্ঠ ভাষায় উল্লেখ করা হয়েছে যে, রাসূলুল্লাহ (সা.) রমজানের শেষ দশকে তার ঘরের লোকদের মধ্যে রাত জেগে ইবাদত-বন্দেগী করতে পারে এমন কাউকেই ঘুমাতে দিতেন না। বরং প্রত্যেককেই জাগিয়ে রেখে ইবাদতের জন্য প্রস্তুত করতেন। (ওমদাতুলক্বারী, শরহে বুখারী)
আর বায়হাকীর শুয়াবুল ঈমানে হযরত আনাস (রা.) বর্ণিত একটি হাদীস উদ্ধৃত হয়েছে। এতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, রাসূলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন : যখন কদর রাত আসে, তখন হযরত জিব্রাঈল (আ.) ফেরেশতাদের বিরাট বাহিনী সমভিব্যহারে পৃথিবীতে অবতীর্ণ হন এবং দাঁড়িয়ে কিংবা বসে আল্লাহর জিকির ও ইবাদত-বন্দেগীতে মশগুল থাকা প্রত্যেক বান্দাহর জন্য রহমতের দোয়া করেন। এই হাদীস হতে কদর রাতের মর্যাদা এবং এই রাতে ইবাদত বন্দেগী, কুরআন তিলাওয়াত, নফল নামাজ ও ইসলামী আলোচনা ও জ্ঞান চর্চার মর্যাদা স্পষ্টভাবে জানতে পারা যায়।
রাসূলুল্লাহ (সা.) নিজে ও তার ঘরের লোকদের নিয়ে এই রাতটি যথাযথভাবে পাওয়ার জন্য রমজানের শেষ দশকের সব কয়টি রাতেই আল্লাহপাকের ইবাদতে মশগুল হতেন ও মশগুল রাখতেন। এই রাতটির বরকত ও ফজিলত যেন কোনো প্রকারে হারিয়ে না যায় ও তা হতে যেন বঞ্চিত থাকতে না হয়, এই উদ্দেশ্যেই তার এই ব্যবস্থা ও প্রস্তুতি ছিল। রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর পদাঙ্ক অনুসরণ করা সকল মুসলমানের জন্যই বাঞ্ছনীয়। এ ব্যাপারে দ্বিমত পোষণ করার কোনোই সুযোগ নেই।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: মাহে রমজান


আরও
আরও পড়ুন