Inqilab Logo

ঢাকা, মঙ্গলবার ২৫ জুন ২০১৯, ১১ আষাঢ় ১৪২৬, ২১ শাওয়াল ১৪৪০ হিজরী।

সাবেক ওসির বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা পেল পিআইবি

নুসরাত হত্যাকান্ড

বিশেষ সংবাদদাতা | প্রকাশের সময় : ২৮ মে, ২০১৯, ১২:০৫ এএম

ফেনীর মাদরাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফিকে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে মারার ঘটনায় সোনাগাজী মডেল থানার সাবেক ওসি মোয়াজ্জেম হোসেনের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের সত্যতা পেয়েছে পিবিআই। তদন্ত শেষে গতকাল রোববার পিবিআই সদর দপ্তরের সিনিয়র এএসপি রিমা সুলতানা সাইবার আদালতে প্রতিবেদন জমা দেন।
এএসপি রিমা সুলতানা বলেন, গত ১৫ এপ্রিল সোনাগাজী মডেল থানা পুলিশের সাবেক ওসি মোয়াজ্জেম হোসেনের বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে একটি মামলা দায়ের করেন ব্যারিস্টার সৈয়দ সায়েদুল হক সুমন। ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন ২০১৮ এর ২৬, ২৯ ও ৩১ ধারায় করা অভিযোগটি পিটিশন মামলা হিসেবে গ্রহণ করে পিবিআইকে তদন্তের নির্দেশ দেন আদালত। তদন্তে আমরা প্রত্যেকটি অভিযোগের সত্যতা পেয়েছি। তদন্তে প্রমাণিত সব তথ্য উপাত্তসহ প্রতিবেদন আদালতে দাখিল করা হয়েছে।
এর আগে গত ১৫ মে পিবিআই-এর ডিআইজি বনজ কুমার মজুমদার জানিয়েছেন, ওসি মোয়াজ্জেম হোসেনের বিরুদ্ধে নুসরাতের জবানবন্দি মোবাইলে রেকর্ড করে ছড়িয়ে দেয়ার অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে। শিগগিরই এ বিষয়ে আদালতে প্রতিবেদন জমা দেয়া হবে। নুসরাতকে পুড়িয়ে হত্যার ঘটনায় অভিযুক্ত সবাইকে গ্রেফতার করা হয়েছে। সবকিছু ঠিক থাকলে মে মাসের মধ্যেই মামলার চার্জশিট আদালতে জমা দেয়ার কথাও জানান তিনি। এদিকে, নুসরাতকে পুড়িয়ে হত্যার ঘটনায় ওসি মোয়াজ্জেম হোসেনের বিরুদ্ধে দায়িত্বে অবহেলার সত্যতা মিলেছে আগেই। পুলিশের বিভাগীয় ব্যবস্থার অংশ হিসেবে ইতোমধ্যে মোয়াজ্জেমকে সাময়িক বরখাস্ত করে রংপুর রেঞ্জে সংযুক্ত করা হয়েছে।
একই অভিযোগে ফেনী জেলার পুলিশ সুপার (এসপি) জাহাঙ্গীর আলম সরকারকে প্রত্যাহার করে পুলিশ সদর দফতরে সংযুক্ত করা হয়েছে। অভিযুক্ত এসআই মো. ইউসুফকে খুলনা রেঞ্জ ডিআইজি কার্যালয় এবং এসআই মো. ইকবাল আহাম্মদকে খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলায় সংযুক্ত করা হয়েছে।
পুলিশ সদর দফতরের একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা জানান, নুসরাত হত্যাকান্ডের ঘটনা তদন্তে পুলিশ সদর দফতরের গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনের সুপারিশ অনুযায়ী অভিযুক্ত সবার বিরুদ্ধেই ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। বিভাগীয় শাস্তিমূলক ব্যবস্থার অংশ হিসেবে এসপিসহ অভিযুক্ত চার পুলিশ সদস্যকেই অন্যত্র সংযুক্ত করা হয়েছে।
গত ২৭ মার্চ রাফিকে মাদরাসা প্রিন্সিপাল সিরাজ উদদৌলা শ্রেণিকে নিয়ে যৌন নিপীড়ন করেন। অভিযোগ উঠলে দুজনকে থানায় নিয়ে যান ওসি মোয়াজ্জেম হোসেন। ওসি নিয়ম ভেঙ্গে জেরা করতে নুসরাতের বক্তব্য ভিডিও করেন। ৬ এপ্রিল সকালে রাফি আলিম পরীক্ষা দিতে সোনাগাজী ইসলামিয়া সিনিয়র ফাজিল মাদরাসায় যান। সেখানে তাকে ছাদে নিয়ে মুখোশ পরা চার-পাঁচজন নুসরাতকে সিরাজ উদদৌলার বিরুদ্ধে মামলা ও অভিযোগ তুলে নিতে চাপ দেয়। নুসরাত অস্বীকৃতি জানালে তারা তার গায়ে আগুন দিয়ে পালিয়ে যায়। গত ১০ এপ্রিল ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় নুসরাতের মৃত্যু হয়।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

আরও পড়ুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ