Inqilab Logo

ঢাকা, মঙ্গলবার ২৫ জুন ২০১৯, ১১ আষাঢ় ১৪২৬, ২১ শাওয়াল ১৪৪০ হিজরী।

হাওরের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান উন্নয়নে প্রকল্প আসছে

পিছিয়ে পড়া অঞ্চলের উন্নয়নে নজর দিচ্ছে সরকার

অর্থনৈতিক রিপোর্টার | প্রকাশের সময় : ২৮ মে, ২০১৯, ১২:০৫ এএম

আঞ্চলিক বৈষম্য কমাতে দেশের পিছিয়ে পড়া অঞ্চলের উন্নয়নে বিশেষ নজর দিচ্ছে সরকার। এর অংশ হিসেবে হাওর অঞ্চলের ২৫টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের আবাসিক ও একাডেমিক ভবনের অবকাঠামোগত সুযোগ সুবিধা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
এটি বাস্তবায়িত হলে হাওর এলাকার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বেশি শিক্ষার্থী ভর্তির সুযোগের পাশাপাশি ক্যাম্পাসে শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ তৈরি, শিক্ষার গুণগতমান বাড়ানো এবং শিক্ষার বিস্তারের মাধ্যমে মানবসম্পদে অর্থনৈতিক সক্ষমতা বাড়ানো সম্ভব হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। এ সংক্রান্ত একটি প্রকল্প বাস্তবায়ন করবে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। খরচ হবে ৪০১ কোটি ২৭ লাখ ১৬ হাজার টাকা।
পরিকল্পনা কমিশনের একাধিক কর্মকর্তা জানান, কিশোরগঞ্জ জেলার হাওর এলাকার নির্বাচিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসমূহের উন্নয়ন’ প্রকল্পটি প্রস্তাব করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। অনুমোদন প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে এর মধ্যেই প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটির (পিইসি) সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। প্রক্রিয়াকরণ শেষে জাতীয় অর্থনেতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় অনুমোদন পেলে চলতি বছর থেকে ২০২১ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদফতর।
শিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, কিশোরগঞ্জ জেলার বড় হাওরটি অষ্টগ্রাম, ইটনা, মিঠামইন ও নিকলী উপজেলা নিয়ে গঠিত। নয় লাখ ৯০ হাজার ৩৯৬ হেক্টর আয়তনের এই বিশাল এলাকার জনগণ বাংলাদেশের অন্যান্য সব এলাকা থেকে পিছিয়ে। অষ্টগ্রামের সাতটি ইউনিয়ন, ইটনার আটটি ইউনিয়ন, মিঠামইনের আটটি ইউনিয়ন ও নিকলীর আটটি ইউনিয়নে বসবাসকারী জনগণের শিক্ষার হার যথাক্রমে ৩৭ দশমিক চার শতাংশ, ২৪ দশমিক আট শতাংশ, ৩১ দশমিক নয় শতাংশ ও ২৩ দশমিক নয় শতাংশ। অথচ বাংলাদেশের শিক্ষিতের হার ৭১ শতাংশ।
বাংলাদেশ শিক্ষাতথ্য ও পরিসংখ্যান ব্যুরোর (ব্যানবেইস) ওয়েবসাইটের তথ্য মতে, প্রকল্পভুক্ত চারটি উপজেলায় মোট ৪৭টি স্কুল-কলেজ রয়েছে। ৪৭টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ২৫টি অর্থাৎ ৫০ শতাংশেরও বেশি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে প্রকল্পের আওতায় আনা হয়েছে।
প্রস্তাবিত প্রকল্পভুক্ত ২৫টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সরকারি প্রতিষ্ঠান আটটি, বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ১৭টি। বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রাতিষ্ঠানিক ও আর্থিক সক্ষমতার কোনো তথ্য উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাবে (ডিপিপি) দেওয়া হয়নি। প্রকল্পের আওতায় নয়টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে হোস্টেল নির্মাণের প্রস্তাব করা হয়েছে। অধ্যক্ষদের জন্য চারটি দুই তলা ভিতবিশিষ্ট দুই তলা এবং প্রধান শিক্ষকদের জন্য চারটি একতলা ভিতবিশিষ্ট একতলা বাসভবন তৈরির প্রস্তাব করা হয়েছে। প্রকল্পের আওতায় একাডেমিক ভবন, হোস্টেল, বিজ্ঞানাগার, গ্রন্থাগার এবং আইসিটি ল্যাবের জন্য আসবাবপত্র সরবরাহের প্রস্তাব করা হয়েছে। তাছাড়া আইসিটি ল্যাব এর জন্য আইসিটি উপকরণ সরবরাহের প্রস্তাব করা হয়েছে।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

আরও পড়ুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ