Inqilab Logo

ঢাকা, শুক্রবার ২৪ মে ২০১৯, ১০ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬, ১৮ রমজান ১৪৪০ হিজরী।

সরকার খালেদা জিয়াকে রাষ্ট্রীয়ভাবে হয়রানির অপচেষ্টা করছে -নজরুল ইসলাম খান

‘প্রধান বিচারপতির বক্তব্যকে আড়াল করতেই রাষ্ট্রদ্রোহ মামলা’

প্রকাশের সময় : ২৯ জানুয়ারি, ২০১৬, ১২:০০ এএম

স্টাফ রিপোর্টার : সরকার বেগম খালেদা জিয়াকে রাষ্ট্রীয়ভাবে হয়রানি করার অপচেষ্টা করছে বলে অভিযোগ করেছে বিএনপি।
গতকাল বৃহস্পতিবার এক সভায় দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান এই অভিযোগ করেন। একই সভায় যুগ্ম-মহাসচিব রিজভী আহম্মেদ বলেন, প্রধান বিচারপতির বক্তব্যকে আড়াল করার জন্য সরকার খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলা দিয়েছে। সদ্য মহানগর মুখ হাকিম আদালতে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলা দায়েরের প্রতি ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, জিয়াউর রহমানের আদর্শকে বাঁচিয়ে রাখার যে দল বিএনপি এটিকে নানাভাবে ধ্বংস করার চেষ্টা করা হচ্ছে। নেতাদের নানাভাবে হেনস্তা করা, খুন করা, গুম করা, কারাগারে আবদ্ধ করা এবং জিয়া পরিবারকে টার্গেট করে ধ্বংস করা হচ্ছে। এখন আইন দিয়ে অন্যায়ভাবে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে হয়রানি করার যে রাষ্ট্রীয় চেষ্টা, সেই চেষ্টাও করা হচ্ছে।
খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলার সমনের নোটিশ গুলশানের বাসায় দেয়ালে সাঁটিয়ে দেয়াকে ‘ইয়ার্কি’ বলে মন্তব্য করেন নজরুল ইসলাম।
রাজধানীর সেগুন বাগিচায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি কার্যালয়ে ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ-ড্যাব এর উদ্যোগে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৮০তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে ‘গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার, সাংবিধানিক অধিকার সুরক্ষা ও জিয়া পরিবারের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র’ শীর্ষক এই আলোচনা সভা হয়।
নজরুল ইসলাম খান অভিযোগ করে বলেন, জিয়াউর রহমানের নাম ইতিহাস থেকে মুছে ফেলার  চেষ্টা করা হচ্ছে। যেসব বইতে তার (জিয়া) নাম আছে, সেইসব বই লাইব্রেরী থেকে বের করে পুঁড়িয়ে ফেলানো হয়েছে- এরকম দৃষ্টান্তও আছে। নারায়ণগঞ্জে সোনারগাঁওয়ে এই ঘটনা ঘটেছে, পত্রিকায় খবর বেরিয়েছে।  আজকে ক্ষমতাসীন দলের নেতারা জিয়া রহমানকে পাকিস্তানের এজেন্ট বলেন। আওয়ামী লীগে যে  নেতারা এটা বলেন তারা একবারও ভাবেন না তাকে (জিয়া) যিনি বীর উত্তম খেতাব দিয়েছেন, তিনি কী? যারা এসব বলেন, তারা যে অন্য নেতাকে ছোট করতে নিজের নেতাকে ছোট করে ফেলেন, সেই বুদ্ধিও তাদের নেই।
দেশের বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে তিনি বলেন, দেশে আজ গণতন্ত্র মৃতপ্রায়। এই গণতন্ত্র এখন আইসিইউতে। একে বাঁচাতে হবে। সেজন্য আসুন সবাই মিলে এর জন্য কাজ করি।
চন্দিমা উদ্যানে জিয়ার মাজার সরানো ক্ষমতাসীনদের চিন্তা-ভাবনাকে ‘দুঃস্বপ্ন’ বলে কঠোর সমালোচনা করেন সাবেক এই রাষ্ট্রদূত।  
দলের যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, আজ বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে মামলা দিয়ে সরকার তার অপরাধ ঢাকতে চায়। কেনো? তারা (বর্তমান সরকার) অপরাধ করেছিলো। তারা প্রধান বিচারপতি পদে খায়রুল হককে বসিয়েছিলো, মনের মতো আপনাদের বিচারক। আপনরার মনের স্বাদ আপনি মিটিয়েছেন। এটা এখন প্রমাণিত।
একজন বিচারককে শপথ নিতে হয়। সংবিধানে বলা আছে, একজন বিচারককে অনুরাগ-বিরাগের বর্শবর্তী না হয়ে তিনি কোনো বিচারিক কর্মকা- করবেন না। কিন্তু বিচারক হয়ে তিনি আদেশ দিলেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের ব্যাপারে দুইটি টার্ম থাকতে পারে। মজার ব্যাপার হচ্ছে শপথ নিয়ে ওই বিচারক আদেশ দিচ্ছেন, অবসরে গিয়ে ওই ব্যক্তি যখন বিচারক নন, তখন তিনি রায় লিখছেন এবং সই করছেন। এভাবে অবসরে গিয়ে রায় লেখা ও সেই করা অপরাধ হয়েছে। এটা সংবিধান বিরোধী কাজ করছেন।
এ জন্য সাবেক প্রধান বিচারপতি এবিএম খায়রুল হককে গ্রেফতার করে বিচার হওয়া উচিত বলে মনে করেন রিজভী।
খায়রুল হককে গ্রেফতার করে বিচার না করার জন্য বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলা দিয়েছে। কারণ নিজেদের অপরাধকে ঢাকা দেয়ার জন্য।
সংগঠনের সহ-সভাপতি রফিকুল কবির লাভুর সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় অন্যদের মধ্যে বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন, অধ্যাপক এজেড এম জাহিদ হোসেন, ইউনিভার্সিটি টিচারস অ্যাসোসিয়েশনের অধ্যাপক আফম ইউসুফ হায়দার, ড্যাবের সহ-সভাপতি আব্দুস সালাম, আব্দুল কুদ্দুস, সিরাজউদ্দিন আহমেদ, ওবায়দুল কবির খান, রফিকুল ইসলাম বাচ্চু প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।




 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

আরও পড়ুন
গত​ ৭ দিনের সর্বাধিক পঠিত সংবাদ