Inqilab Logo

ঢাকা, মঙ্গলবার, ২০ আগস্ট ২০১৯, ০৫ ভাদ্র ১৪২৬, ১৮ যিলহজ ১৪৪০ হিজরী।

ডাক পেলেন ৪০০ জন

১২জুন ডিসি ফিটলিস্ট পরীক্ষা

পঞ্চায়েত হাবিব | প্রকাশের সময় : ৩০ মে, ২০১৯, ১২:০৬ এএম

সারাদেশের মাঠ প্রশাসন জেলা প্রশাসক (ডিসি) পদে ঢেলে সাজানো পরিকল্পনা নিয়েছে। দক্ষ ও চৌকস কর্মকর্তাদের জেলা প্রশাসক পদে এবার নিয়োগ দিতে চায় সরকার। বর্তমানে মাঠ প্রশাসনের দায়িত্ব থাকা জেলা প্রশাসকদের নিয়ে বিতর্ক দেখা দেওয়া অনেক জেলা প্রশাসকদের মাঠ থেকে প্রত্যাহার করা হবে। ২০, ২১ এবং ২২ ব্যাচ থেকে ৪০০জন কর্মকর্তাকে ডিসি ফিটলিস্ট ডাকা হচ্ছে। চলমান ডিসি ফিটলিস্ট পরীক্ষার দ্বিতীয় ধাপে এই ব্যাচের কর্মকর্তাদের পরীক্ষা নেয়া হয়েছে। আগামী ১২জুন থেকে ১৬ জুন আবারো পরিক্ষা নেয়া হবে মন্ত্রীপরিষদ বিভাগে। মাঠে কর্মরত ডিসিদের মধ্যে সামনে যারা যুগ্মসচিব পদে পদোন্নতি পাবেন তাদের প্রত্যাহার করে এই ব্যাচ থেকে ডিসি হিসেবে পদায়ন করা হবে। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে এখন পর্যন্ত এমন পরিকল্পনা রয়েছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের।

ইতোমধ্যে গত ২৪ ও ২৫ মে সাপ্তাহিক ছুটির দিনে সকাল সাড়ে ৮টায় মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলমের সভাপতিত্বে সচিবালয়ে ‘জেলা প্রশাসক পদে নিয়োগের লক্ষ্যে ফিটলিস্ট প্রণয়নের জন্য’ সাক্ষাৎকার নেয়া হয়েছে। এরপরে আগামী ১২ জুন শুরু হয়ে চলবে ১৬ জুন পর্যন্ত। চারদিন ব্যাপী ডিসিদের সাক্ষাৎকার সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত হবে। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের এক নোটিশে জানানো হয়েছে।

এ বিষয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের মো. ফয়েজ আহম্মদ ইনকিলাবকে বলেন, ডিসি ফিটলিস্ট করা প্রশাসনের একটি রুটিন কাজ। বাছাইয়ের সাক্ষাৎকারের আগে কিছু বলা যাবে না।

জানা গেছে, আগামী ১২-১৬ জুন মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলমের সভাপতিত্বে সচিবালয়ে জেলা প্রশাসক পদে নিয়োগের লক্ষ্যে ফিটলিস্ট প্রণয়নের জন্য সাক্ষাৎকার নেওয়া হবে। জনপ্রশাসন থেকে মন্ত্রণালয়ের এক নোটিশে জানানো হয়েছে। সাক্ষাৎকারে জন্য ডাকা হচ্ছে তিন ব্যাচের ৪শতাধিক কর্মকর্তাকে। এর মধ্যে ১৮তম ও ২০ তম বিসিএস ব্যাচের শতাধিক কর্মকর্তার এবং ২১তম বিসিএস থেকে ডাকা হচ্ছে দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ও ডেকেছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়।

এদিকে গত বছর উপসচিব পদমর্যাদার ২০তম ব্যাচের ৫০ জন, ২১তম ব্যাচের ১৫০ জন এবং ২২তম ব্যাচের ১৫০ জন সাক্ষাৎকারের জন্য ডাকা হয়েছ। এদের মধ্যে মাঠে এখনো অনেক ডিসি রয়েছেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিভিন্ন পর্যায়ের বেশ কয়েকজন পদস্থ কর্মকর্তা জানান এবার ডিসি পদে দুর্নীতিপরায়ণ, অদক্ষ ও সরকারবিরোধী কর্মকর্তা হিসেবে চিহ্নিত বেশ কয়েকজন কর্মকর্তাকে ডিসি বাছাইয়ের সাক্ষাৎকার ডাকা হয়নি।

তারা বলছেন, এটি রহস্যজনক এবং অনেক প্রশ্নের দাবি রাখে। কারা সরকারের নীতির বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে এ সাক্ষাৎকারের আগে এবং পরে তা নিয়ে তদন্ত হওয়া উচিত। সরকার সমর্থক হিসেবে পরিচিত সচিবালয়ে বিভিন্ন পর্যায়ে কর্মরত কয়েকজন কর্মকর্তা ইনকিলাবকে বলেন, মূলত ডিসি ফিটলিস্ট কোনো আইন বা বিধি নয়। একসময় রাজনৈতিক স্বার্থ হাসিলের জন্য এক শ্রেণির আমলা এ পদ্ধতি বের করেন। এটাই এখন ভাল চালু হয়েছে প্রশাসনে।

তারা বলেন, বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পরে বিএনপির সরকারের আমলে নিয়োগ পাওয়া অনেক যোগ্য দক্ষ কর্মকর্তাকে ডিসি ফিটলিস্ট পরীক্ষার থেকে নাম বাদ দেয়া হয়েছে। যারা ডিসি ফিটলিস্ট পরীক্ষায় অংশ নেয়ার শর্ত পূরণ করেছেন তাদের চিঠি দেয়া হয়েছে। এর মধ্যে পৃথকভাবে চলছে পদোন্নতি সংক্রান্ত এসএসবির (সুপিরিয়র সিলেকশন বোর্ড) ধারাবাহিক বৈঠক। প্রথমে যুগ্মসচিব পদে পদোন্নতি বিবেচনা নিয়ে প্রাথমিক তালিকা চ‚ড়ান্ত করা হয়েছে। যদিও একসঙ্গে অতিরিক্ত সচিব ও যুগ্মসচিব পদে পদোন্নতি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এসএসবি’র সুপারিশ চ‚ড়ান্ত হলে ১৭তম ব্যাচ থেকে যুগ্মসচিব করা হবে।

বর্তমানে এই ব্যাচের ১২ জন কর্মকর্তা ডিসি হিসেবে কর্মরত আছে। তারা যুগ্মসচিব হওয়ার পর সঙ্গতকারণে তাদের প্রত্যাহার করা হবে। এরপর নতুন ফিটলিস্ট থেকে ডিসি নিয়োগ দেয়া হবে। বর্তমানে ডিসি পদে কর্মরত আছেন ১৭, ১৮, ২০ ও ২১ ব্যাচের কর্মকর্তারা। সেক্ষেত্রে এবার ডিসি পদে প্রাধান্য থাকবে ২২তম ব্যাচের।

গতকাল ডিসি পদে নিয়োগের জন্য যাদের ডাকা হয়েছে তারা হলেন, দুর্যোগ ব্যবস্থপনা অধিদপ্তরে ডিজি লুৎফুন নাহার, উপরিচালক অতীন কুমার কুন্ডু, স্থানীয় সরকার বিভাগের ড. জুলিয়া মঈন, জেলার জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের ডিডিএলজি মাহমুদুর রহমান, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়েরর উপসচিব বেগম নাসরিন সুলতানা, ফরিদপুর জোনাল সেটেলমেন্ট অফিসার মোহাম্মদ কাদের শেখ, মো. মেহেদী -উল -শহীদ, মুন্সি মো. মনিরুজ্জমান, আবু রায়হান মিয়া, মো. মনিরুল আলম, বেগম জাকিয়া পারভীন, মো. মোজাম্মেল হোসেন খান, ড. এ কে এম আসাদুর রহমান, মো. জাহিদুল ইসলাম. সংস্কৃতিক প্রতিমন্ত্রীর একান্ত সচিব মো. কামারুল হাসান, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের প্রথম সচিব মোহাম্মদ মিজানুর রহমান ভুইয়া, অর্থ বিভাগের তনিমা তাসমিন, বেগম শারমিন জাহান, কাজী হোসনে আরা, বেগম তানজিলা ইসলাম, ফারজানা মান্নান, হাবিবুর রহমান এবং মো. সাইদুর রহমান। ১৪ মে যাদের ডাকা হয়েছে, তারা হলেন, মোহাম্মদ আনোয়ারুল নাসের, শাহ মোমিন, আমিরুল ইসলাম, মো. মাহবুব হাসান, শাহীন, বেগম সারা দিবা, তফদার মো. আকতার হোসেন, মো. জাকির হোসেন, মো, সিদ্দিকুর রহমান, ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রীর একান্ত সচিব মোহাম্মদ খুরশিদ আলম. এমদাদুল হক। ১৫ জুন যাদের ডাকা হয়েছে তারা হলেন, এইচ এম নুরুল ইসলাম, শাহানারা বেগম, মোহাম্মদ সাজ্জাদ উল হাসান, মোহাম্মদ শাহীম আলম, মুহাম্মদ আব্দুস সালাম, মোহাম্মদ হোসেন, জালাল সাইফুল রহমান, তরিবুর রহমান। ১৬ জুন যাদের ডাকা হযেছে তারা হলেন, বেগম সালমা খাতুন, মো. হারুন-অর-রশিদ, জসিম উদ্দিন হায়দার, মা. আমিনুল হক, বেগম শাহানারা ইয়াসমিন লিলিসহ প্রায় চারশত কর্মকর্তাদের ডাকা হয়েছে।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: ডিসি

১২ জুলাই, ২০১৯

আরও
আরও পড়ুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ