Inqilab Logo

ঢাকা, শুক্রবার ১৯ জুলাই ২০১৯, ০৪ শ্রাবণ ১৪২৬, ১৫ যিলক্বদ ১৪৪০ হিজরী।
শিরোনাম

কারাগারেই খুন ভয়ঙ্কর ‘খুনি’ অমিত মুহুরী

রফিকুল ইসলাম সেলিম | প্রকাশের সময় : ৩১ মে, ২০১৯, ১২:০৮ এএম


কারাগারেই খুন হলেন চট্টগ্রামের ভয়ঙ্কর ‘খুনি’ অমিত মুহুরী (৩২)। নিজে যুবলীগ ক্যাডার। অথচ তার বিরুদ্ধে ছাত্রলীগ ও যুবলীগের অর্ধডজন নেতাকর্মীকে খুনের অভিযোগ রয়েছে। বাল্যবন্ধু ও যুবলীগ কর্মী ইমরানুল হক ইমনকে নির্মমভাবে খুনের অভিযোগে চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দি ছিলেন অমিত।

বুধবার রাত ১১টায় রক্তাক্ত অবস্থায় চমেক হাসপাতালে নেয়ার পর রাত ১টায় চিকিৎসকেরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। কারাগারের ৩২ নম্বর সেলে তার উপর হামলা হয়। অস্ত্র মামলায় গ্রেফতার রিপন নাথকে (২৭) একমাত্র হামলাকারী বলছেন জেলার নাসির আহমেদ।

চমেক হাসপাতালের সহকারী রেজিস্ট্রার ডা. খুরশীদ আনোয়ার চৌধুরী বলেন, অমিতকে গুরুতর আহত অবস্থায় আনা হয়েছিল। তার মাথার উপরে এবং পেছনে ও পিঠে গুরুতর জখম ছিল। ধারালো কিছুর আঘাতে জখম হয়েছিল। ৩০টির মতো সেলাই দিতে হয়েছে। হাসপাতালে আনার পর থেকে তাকে অক্সিজেন দিয়ে রাখা হয়েছিল। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে তার মৃত্যু হয়েছে।

যুবলীগের কেন্দ্রীয় নেতা হেলাল আকবর চৌধুরী বাবরের অনুসারী হিসাবে পরিচিত অমিত মুহুরীর বিরুদ্ধে সিআরবিতে জোড়া খুনসহ অসংখ্যা মামলা রয়েছে। কারাগারে মারামারিতে অমিতের মৃত্যুর খবরে তার অনুসারী যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা ওই রাতেই চমেক হাসপাতালে ভাঙচুর করে। পুলিশ জানায়, শতাধিক কর্মী রাত ২টায় চমেক হাসপাতালের ২৮ নম্বর নিউরো সার্জারি ওয়ার্ডে হামলা চালিয়ে কলাপসিবল গেইট ও দরজা জানালা ভাঙচুর করে। পরে পুলিশ তাদের ধাওয়া দেয়।

অমিতের বাবা অরুণ মুহুরীও তার ছেলের খুনের ঘটনা তদন্ত ও দোষীদের শাস্তি দাবি করেছেন। তিনি বলেন, বুধবার রাত ১১টায় কারাগার থেকে ফোনে জানানো হয় অমিতকে আহত অবস্থায় হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। এরপর আমি হাসপাতালে ছুটে যাই। আমার ছেলেকে কারা খুন করেছে, আমি এর তদন্ত এবং বিচার চাই।

এদিকে মারামারিতেই সন্ত্রাসী অমিত কুমার মুহুরী নিহত হয়েছে দাবি করে গতকাল বৃহস্পতিবার কোতোয়ালী থানায় মামলা করেন জেলার নাসির আহমেদ। কারাগারে যার সঙ্গে ‘মারামারিতে’ অমিত নিহত হয়েছেন, সেই রিপন নাথকেই মামলায় একমাত্র আসামি করা হয়েছে বলে ওসি মোহাম্মদ মহসিন জানিয়েছেন।
চট্টগ্রামের সীতাকুÐ উপজেলার মৃত নারায়ণ চন্দ্র নাথের ছেলে রিপন পাহাড়তলী থানার একটি অস্ত্র মামলায় গ্রেফতার হয়ে কারাগারে আছেন। গত ৯ এপ্রিল পাহাড়তলীর সাগরিকা এলাকায় অর্গানিক জিন্স নামের একটি পোশাক কারখানায় ছুরি নিয়ে ঢুকে বেশকিছু কর্মীকে জিম্মি করার ঘটনায় গ্রেফতার হয়েছিলেন রিপন নাথ।

কারাগারের ৩২ নম্বর সেলের একটি কক্ষে থাকতেন অমিত মুহুরী ও অপর দুই হাজতি রিপন নাথ ও বেলাল। মামলার এজাহারে জেলার নাসির আহমেদের ভাষ্য, রাত ১০টায় ৩২ নম্বর সেলের ওই কক্ষে কথা কাটাকাটির জেরে অমিত মুহুরীকে ইটের টুকরো দিয়ে মাথায় আঘাত করে রিপন। কি নিয়ে মারামারি এবং কারাকক্ষের ভেতরে ইট কিভাবে আসলো তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন জেলার নাসির আহমেদ।

নগরীর নন্দন কাননে নিজ বাসায় বাল্যবন্ধু ইমনকে ডেকে এনে কুপিয়ে হত্যা করে অমিত। পরে ওই লাশ ড্রামে ভরে এসিড দিয়ে গলিয়ে সিমেন্টে দিয়ে ঢালাই করা হয়। দুইদিন পর লাশভর্তি ড্রাম নগরীর এনায়েত বাজারের রাণীর দীঘিতে ফেলা হয়। ওই দীঘি থেকে ড্রাম ভর্তি লাশ উদ্ধারের পর কুমিল্লা থেকে ২০১৭ সালের ২ আগস্ট তাকে গ্রেফতার করে পুলিশ। সেই থেকে কারাগারারে বন্দি অমিত। ২০১৩ সালে সিআরবিতে রেলওয়ের টেন্ডার নিয়ে জোড়া খুনের মামলার আসামি অমিত মুহুরীকে ২০১৫ সালের ৫ নভেম্বর নগর গোয়েন্দা পুলিশ গ্রেফতার করেছিল। পরে অমিত জামিনে বেরিয়ে আসেন।

২০১৭ সালের ১৪ এপ্রিল পহেলা বৈশাখের দিন নগরীর ডিসি হিলে পুলিশের ওপর হামলা চালায় অমিত মুহুরী ও তার অনুসারী সন্ত্রাসীরা। এরপর ২৮ এপ্রিল রাতে নগরীর ঝাউতলায় স্থানীয় কিশোর-তরুণদের মধ্যে ঝগড়া হয়। এর একপর্যায়ে তারা মারামারিতে জড়িয়ে পড়ে। সেখানে অমিত মুহুরীর অস্ত্র উঁচিয়ে গুলি করার চিত্র ভিডিও ফুটেজে পেয়ে ২৫ মে তাকে গ্রেফতার করে কোতয়ালী থানা পুলিশ। কিন্তু ২৬ জুন অমিত জামিনে বেরিয়ে আসে।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: কারাগার


আরও
আরও পড়ুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ