Inqilab Logo

ঢাকা, বুধবার ১৭ জুলাই ২০১৯, ০২ শ্রাবণ ১৪২৬, ১৩ যিলক্বদ ১৪৪০ হিজরী।

এবার বাংলায় ‘জয় শ্রীরাম’ বলাতে মুসলমানকে চড়-ওঠবস!

ইনকিলাব ডেস্ক | প্রকাশের সময় : ৩১ মে, ২০১৯, ১২:৪৫ এএম

 ভারতে দ্বিতীয়বার ক্ষমতায় এসেই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বলেছেন, ‘সব কে সাথ, সব কা বিকাশ, সব কা বিসওয়াস।’ অর্থাৎ জাত, ধর্ম নির্বিশেষে তিনি সকলের সঙ্গে, সকলের বিকাশের জন্যে এবং সকলের বিশ্বাস অর্জনে কাজ করে যাবেন। কিন্তু বাস্তবে পুরো ভারতজুড়েই শুরু হয়েছে সেই বিদ্বেষের সুর। কোথাও ফেজ টুপি পরার জন্যে মুসলিম ব্যক্তিকে মারধর, কোথাও বা গরুকে কেন্দ্র করে মুসলিমদের (এমনকি মহিলাও) অত্যাচার।
সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, এক বাঙালি মুসলমান ব্যক্তিকে কান ধরে ওঠবস করানো হচ্ছে। বলতে বলা হচ্ছে ‘জয় শ্রীরাম’। শুধু তাই নয়, তাকে বলা হচ্ছে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম আর নেয়া যাবে না। কোনো তৃণমূল নেতার সঙ্গেও তাকে যেন আর দেখা না যায়। সেইসঙ্গে চলতে থাকে চড়। প্রাণের ভয়ে কার্যত আক্রমণকারীদের কথা অক্ষরে অক্ষরে পালন করছেন ওই ব্যক্তি। তবে ঘটনাস্থল কোথায় তা ওই ভিডিওতে স্পষ্ট নয়। তবে গোটা কথপোকথনটাই চলতে থাকে বাংলায়। এ বিষয়ে যদিও এখনও বিজেপি বা তৃণমূল-কোনও দলেরই কোনও প্রতিক্রিয়া মেলেনি।
ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে এসব ঘটনা অহরহ ঘটলেও মূখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপধ্যায়ের নেতৃত্বে পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের মুসলমানরা নিরাপদে ছিলেন। সেখানে লোকসভা নির্বাচনের আগেও হিন্দু-মুসলিম সম্প্রীতি ছিল চোখে পড়ার মতো। লোকসভা নির্বাচনে বাংলাতেও বিজেপির উত্থান হওয়ায় সে সম্প্রীতি এবার ভাঙনের মুখে পড়েছে। সেখানে রাজ্য সরকারে তৃণমূল থাকলেও লোকসভায় অনেকগুলো আসন হারিয়ে বেশ বেকায়দায় পড়েছেন মমতা। এর মধ্যেই তৃণমূলের বেশ কিছু বিধায়ক দল ছেড়ে বিজেপি’তে যোগ দিয়েছেন। ফলে সেখানেও বিজেপির হিন্দুত্ব নীতির চর্চা শুরু হয়েছে। আবহমান শান্তি ও সম্প্রীতির বাংলায় বিজেপি এখন ছড়াতে শুরু করেছে মুসলিম বিদ্বেষের বীজ। সূত্র : টাইমস অব ইন্ডিয়া।

 



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

আরও পড়ুন