Inqilab Logo

ঢাকা শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২০, ৬ কার্তিক ১৪২৭, ০৫ রবিউল আউয়াল ১৪৪২ হিজরী

মৌলভীবাজারে ভোক্তা উপপরিচালক ২ ঘন্টা অবরুদ্ধ

মৌলভীবাজার জেলা সংবাদদাতা : | প্রকাশের সময় : ৩১ মে, ২০১৯, ১:২০ এএম

 মৌলভীবাজারে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের জেলা কার্যালয়ের উপ-পরিচালক মো. আল আমিনকে অভিযানের সময় অবরুদ্ধ করে রাখে মৌলভীবাজার শহরের এম সাইফুর রহমান সড়কের ব্যবসায়ীরা। এসময় ব্যবসায়ীরা দোকান-পাট বন্ধ করে প্রায় ২ ঘন্টা সড়ক অবেরোধ করে রাখেন। পরে জেলা প্রশাসনের আশ্বাসে অবরোধ তুলে নেন ব্যবসায়ীরা। 

গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুর ১টার দিকে শহরের এম সাইফুর রহমান সড়কের কয়েকটি কাপড়ের দোকান ও ডিপার্টমেন্টাল স্টোরে জরিমানা করতে যান ভোক্তা অধিকারের উপপরিচালক মো. আল আমিন। ব্যবসায়ীরা জানান কিছু দিন পূর্বে অভিযানের পর আবারো একই দোকানগুলোতে ঈদের আগে হঠাৎ অভিযান তাদের সন্দেহ হয়। তাই ব্যবসীয়ারা তার প্রতি পণ্যের দাম ও মান নিয়ে চ্যালেঞ্জ ছুঁড়েন। তারপরও তিনি কয়েকটি দোকানে বড় অঙ্কের জরিমানা করতে থাকেন।
একপর্যায়ে তিনি এমবি ও বিলাসে বিদেশী পারফিউম ও অন্যান্য পণ্যের দাম অতিরিক্ত রাখা হয়েছে এমন মন্তব্য করে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করেন। এ নিয়ে চ্যালেঞ্জ ছুড়েন বিলাসের মালিক সুমন আহমদ ও সুহাদ আহমদ। ভোক্তা অধিকারের ওই কর্মকর্তা তখন ক্ষেপে গিয়ে জরিমানার টাকা দেওয়ার কথা বলেন। কথাকাটাকাটির একপর্যায়ে আশপাশের ব্যবসায়ীরা ঈদের আগে এমন অভিযানের বিরুদ্ধে অবস্থান নেন। ব্যবসায়ীরা উপ-পরিচালক মো. আল আমিনকে অবরুদ্ধ করে রাখেন এবং নিজেদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রেখে সড়কে অবস্থান নেন। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েন ঈদের কেনাকাটা করতে আসা ক্রেতারা। পরে জেলা প্রশাসন ও ব্যবসায়ীদের মধ্যস্থতায় পুলিশ ভোক্তা অধিকারের উপ-পরিচালকে অবরুদ্ধ অবস্থা থেকে উদ্ধার করে নিয়ে যায়।
ব্যবসায়ীরা অভিযোগ করেন জরিমানার সময় শুভ্র ভট্রাচার্য্য নামের একই ব্যক্তি সব ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অভিযোগকারী হিসেবে দেখানো হয়েছে। ব্যবসায়ীরা জানান প্রতিবারই অভিযানে আসলে অভিযোগকারী ওই একই ব্যক্তিকে দেখানো হয়। তারা বলেন ভোক্তা অধিকারের ওই উপ পরিচালক আল আমিন ও তার সাথে একটি চক্র আছে। অভিযোগকারী শতকরা ২৫ ভাগ টাকা পায়।
বিলাসের সত্তাধিকারী সুমন আহমদ ও সুহাদ আহমদ জানান কিছু দিন আগে তাদের দোকানে অভিযান দেন ওই উপ-পরিচালক। পণ্যের ক্রয় মূল্য ও বিক্রয় মূল্যের তালিকা দেখানোর পরও তিনি কারণ ছাড়াই জরিমানা আদায় করেন। তারা জানান একটি বিদেশী ব্র্যান্ডের কোম্পানীর নকল পণ্য ধরে তারা তার কাছে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ দিলেও তিনি আমলে নেননি। অথচ অভিযোগ ছাড়া তিনি ঢালাও ভাবে অভিযানের নামে ব্যবসায়ীদের হয়রানী করছেন। এমবির সত্তাধিকারী বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ডা. আব্দুল আহাদ জানান তার প্রতিষ্ঠানে বিদেশী পণ্যের দাম ও মান ঠিক থাকার পরও ওই উপ-পরিচালক জরিমানা করেছেন। তিনি বলেন, তার পরিচয় ও অভিযোগকারী কে এমন বিষয় জানতে চাইলে তিনি তার সাথে খারাপ আচরণ করেন।
স্থানীয় ব্যবসায়ীরা অভিযোগ করে বলেন, অভিযানের আগে উৎকোচ দাবি করেন উপ-পরিচালক মো. আল আমিন। যারা তাকে উৎকোচ দেন তাদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে অভিযোগ পেলেও তিনি অভিযানে যান না। ব্যবসায়ীরা দুর্নীতিবাজ এই কর্মকর্তার অপসারণসহ তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থার দাবি করেন।
এ বিষয়ে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর জেলা কার্যালয়ের উপ-পরিচালক মো. আল আমিন বলেন, যে সকল প্রতিষ্ঠানে অভিযান করা হয়েছে সে সকল ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের পণ্যের অতিরিক্ত দামসহ নানা সমস্যা ছিল। তাই আইনানুযায়ী ওই সকল প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে জরিমানা করা হয়েছে। তিনি বলেন, ব্যবসায়ীরা আমার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজিসহ উৎকোচের যে অভিযোগ তুলেছেন তা ডাহা মিথ্যা। ৬ বছরের মৌলভীবাজার কর্মজীবনে কোথাও এমন উদাহরণ নেই বলে তিনি চ্যালেঞ্জ ছুঁড়েন।

 

 



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

আরও পড়ুন
গত​ ৭ দিনের সর্বাধিক পঠিত সংবাদ