Inqilab Logo

ঢাকা, রোববার, ১৮ আগস্ট ২০১৯, ০৩ ভাদ্র ১৪২৬, ১৬ যিলহজ ১৪৪০ হিজরী।

প্রাচীন ইতিহাস ও সাহিত্যকথায় বাংলাদেশ রূপান্তরের ইতিবৃত্ত

ড. মোহাম্মদ আমীন | প্রকাশের সময় : ২ জুন, ২০১৯, ১২:০৬ এএম

বঙ্গ বাংলার একটি অতি প্রাচীন জনপদ। চৌদ্দ শতকে মুসলিম শাসনামলে বঙ্গ নামটি পরিবর্তি হয়ে বাঙ্গালাহ ধারণ করে। গ্রিক ইতিহাসবেত্তাদের লেখা হতে জানা যায়, গঙ্গা নদীর দুটি বিখ্যাত ¯্রােত- ভাগীরথী ও পদ্মার মধ্যবর্তী অঞ্চলে ‘গঙ্গারিডই’ নামে খ্যাত একটি শক্তিশালী রাজ্য ছিল। এই রাজ্যের অধিবাসীরা ‘গঙ্গারিডই’ জাতি নামে পরিচিত। আধুনিক গবেষণায় প্রতীয়মান হয়েছে- এই ‘গঙ্গারিডই’ ছিল বাংলার প্রাচীন নাম এবং ‘গঙ্গারিডই’ জাতিই বাঙালি জাতির প্রাচীন নাম। তবে এর সীমানা বর্তমান বাংলাদেশের মতো ছিল না এবং কতটুকু ছিল তা জানার কোনো উপায় আর নেই।
খিস্টপূর্ব চার ও পাঁচ শতকে লিখিত কালিদাসের রঘুবংশে বলা হয়েছে, রঘু, সুহ্মদের পরাজিত করার পর নৌ-বিদ্যায় বিশেষ পারদর্শী বঙ্গীয়দেরকেও পরাজিত করেন। রঘু, গঙ্গার দুই মোহনার অন্তর্বর্তী বদ্বীপে বিজয়স্তম্ভ নির্মাণ করেন। এটি সুস্পষ্টভাবে প্রমাণ করে, গঙ্গার দুই প্রধান ¯্রােতোধারা ভাগীরথী ও পদ্মার মধ্যবর্তী ত্রিভুজাকৃতির ভূখন্ডটিই বঙ্গ। প্রাচীন গ্রিক ও ল্যাটিন লেখকগণ এই অঞ্চলকেই গঙ্গারিডই বলে আখ্যা দিয়েছেন। খ্রিস্টীয় তিন শতকের চৈনিক গ্রন্থ ডবর-ষঁবয-তে বঙ্গ (চধহ-ুঁবয)-কে ঐধহ-ুঁবয (ঢধহ-মুধিঃ) বা গঙ্গার একটি দেশ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। প্রথম খ্রিস্টপূর্বাব্দ থেকে প্রথম খ্রিস্টাব্দ কালে লিখিত জৈন উপাঙ্গ পন্যবণা (প্রজ্ঞাপনা) গ্রন্থে ‘বঙ্গহ’ কথার উল্লেখ পাওয়া যায়। মহাবংশের কিংবদন্তি থেকে জানা যায়, অশোকের সময় তমলিতি থেকে সিংহলে বোধিবৃক্ষ পাঠানো হয়েছিল।
শক্তিসঙ্গমতন্ত্র-এর সৎপঞ্চাশোদ্দেশ বিভাগে বলা হয়েছে, সমুদ্র থেকে ব্রহ্মপুত্র পর্যন্ত বঙ্গের বিস্তৃতি ছিল। বাৎস্যায়ন-এর কামসূত্র সম্পর্কে যশোধর প্রদত্ত মন্তব্য অনুযায়ী লৌহিত্যের পূর্বে বঙ্গ অবস্থিত ছিল। সেন যুগের লিপি সাক্ষ্যে বঙ্গের ‘বিক্রমপুরভাগ’ ও ‘নাব্যভাগ’-এর উল্লেখ রয়েছে, যা বর্তমান বাংলাদেশের বৃহত্তর ঢাকা, ফরিদপুর ও বরিশাল এলাকা নির্দেশ করে। বৈদ্যদেবের কমৌলি তা¤্রশাসনে ‘অনুত্তর বঙ্গ’ অথবা দক্ষিণ বঙ্গ দেখা যায়। বিশ্বরূপসেনের সাহিত্য পরিষদ তাম্রশাসনে বঙ্গের নাব্য এলাকার রামসিদ্ধি পাটকের ‘বঙ্গাল-বড়াভূ’-এর উল্লেখ পাওয়া যায়।
বৃহৎসংহিতায় প্রদত্ত দক্ষিণ-পূর্ব ভারতের দেশগুলোর তালিকায় ‘উপবঙ্গ’-এর উল্লেখ রয়েছে। ষোল শতকের দিগ্বিজয় প্রকাশ গ্রন্থে সুন্দরবন অঞ্চলকে বলা হয়েছে, ‘উপবঙ্গ’। ওই গ্রন্থে বঙ্গের দক্ষিণ অংশের সমুদ্র তীরবর্তী অংশটিকে বলা হয়েছে বঙ্গাল। ইতিহাসের কোনো এক সময়ে যার ছিল পৃথক ভৌগোলিক অস্তিত্ব। বাংলায় মুসলিম শাসনের প্রথম দিকে এই ইউনিট ‘বং’ নামে উল্লিখিত হয়। খ্রিস্টীয় চৌদ্দ শতকে সমগ্র বাংলা (বর্তমান বাংলাদেশ এবং ভারতের পশ্চিম বাংলা) ‘বাঙ্গালাহ’ নামে পরিচিত হওয়ার পূর্ব পর্যন্ ‘বং’ নামটিই প্রচলিত থাকে।
গঙ্গারিডই ছাড়াও ‘প্রাসিঅয়’ নামে অপর একটি জাতির কথাও গ্রিকরা তাদের লেখায় উল্লেখ করেছেন। ‘প্রাসিঅয়’ রাজধানী ছিল ‘পালিবোথরাখ’ যার বর্তমান নাম পাটলিপুত্র। এই দুজাতিই একই রাজবংশের নেতৃত্বে আলেকজান্ডারের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিল। আলেকজান্ডারের আক্রমণের সময় বাংলার পাটলিপুত্রের নন্দবংশীয় রাজা মগধাদি দেশ জয় করে পাঞ্জাব পর্যন্ত রাজ্য বিস্তার করেছিলেন।
প্রাচীনযুগে বাংলা নামে কোনো অখন্ড রাষ্ট্র ছিল না। বাংলার বিভিন্ন অংশ তখন বঙ্গ, পুÐ, গৌড়, সমতট, বরেন্দ্র, রাঢ়, হরিকেল, চন্দ্রদ্বীপ, সপ্তগাঁও, কামরূপ, তা¤্রলিপ্ত, রূহ্ম (আরাকান), সূহ্ম, বিক্রমপুর ও বাকেরগঞ্জ এই ১৫টি জনপদে বিভক্ত ছিল। বাংলার বিভিন্ন অংশে অবস্থিত প্রাচীন জনপদগুলোর সীমা ও বিস্তৃতি সঠিকভাবে নির্ণয় করা অসম্ভব। কারণ বিভিন্ন সময় এসব জনপদের সীমানার পরিবর্তন হয়েছে। বাংলার জনপদগুলোর মধ্যে প্রাচীনতম হলো পুÐ্র এবং বিখ্যাত হচ্ছে বঙ্গ।
উপরের আলোচনা হতে দেখা যায়, বাংলাদেশ নামে পরিচিত ভৌগোলিক এলাকা অনেক প্রাচীন একটি জনপদ। এই বাংলাদেশ প্রাচীন বাংলার কবি-সাহিত্যিকদের লেখায় ঐতিহাসিকভাবে একই সময়ে বা বিভিন্ন সময়ে, এক বা একাধিক নামেÑ যেমন বঙ্গ, বঙ্গদেশ, বাংলা, বাংলাদেশ, বাঙ্গালাহ, বেঙ্গল, পূর্ববঙ্গ, পূর্ববাংলা প্রভৃতি নামে অভিহিত হতো।
বৃন্দাবন দাসের রচনায় ‘বঙ্গদেশ’ নামের উল্লেখ আছে। বৃন্দাবন দাস একজন মধ্যযুগীয় এবং পদাবলী সাহিত্যের বিখ্যাত কবি ছিলেন। বর্ধমানের কাছে দেনুর গ্রামে ১৬ শতকের প্রারম্ভে তিনি জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর রচিত শ্রীচৈত্যন্যদেবের জীবনী ‘চৈত্যন্যভাগবত’ সবচেয়ে পুরোনোÑ এজন্য তিনি বৈষ্ণব সমাজে বেদব্যাস হিসাবে খ্যাত। তাঁর রচিত গোপিকামোহন কাব্যও বৈষ্ণব সমাজের অতি প্রিয় ও সম্মানজনক গ্রন্থ। তিনি কৃষ্ণকর্ণামৃতটীকা, নিত্যানন্দযুগলাষ্টক, রসকল্পসারস্তুব, রামানুজগুরু-পরম্পরা নামের কয়েকটি সংস্কৃত কাব্য রচনা করে খ্যাতি লাভ করেন। ১৫৪০-এর দশকের মধ্যভাগে বৃন্দাবন দাস ঠাকুর চৈতন্যভাগবত গ্রন্থে লিখেছেন :
‘এইমত বিদ্যারসে বৈকুণ্ঠের পতি।
বিদ্যারসে বঙ্গদেশে করিলেন স্থিতি।’
মধ্যযুগীয় বাংলা কবি দৌলত উজির বাহরাম খান আনুমানিক ১৬শ শতকে বর্তমান ছিলেন। তাঁর আসল নাম আসা উদ্দীন। জন্ম চট্টগ্রাম জেলার হাটহাজারী জেলার ফতেয়াবাদ কিংবা জাফরাবাদে। তাঁর পিতা মোবারক খান ছিলেন চট্টলাধিপতির উজির। ‘লায়লী-মজনু’ এবং ‘ইমাম বিজয়’ তাঁর বিখ্যাত সাহিত্যকর্ম। ১৬৫০ খ্রিস্টাব্দে দৌলত উজির বাহরাম খান লিখেছেন:
‘বঙ্গদেশ মনোহর তার
মধ্যে শোভাকর নগর ফতেয়াবাদ নাম।’
আবদুল হাকিম আনুমানিক ১৬২০ খ্রিস্টাব্দে নোয়াখালী জেলার বাবুপুর মতান্তরে চট্টগ্রাম জেলার স›দ্বীপ উপজেলার সুধারামপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর আটটি কাব্যের কথা জানা গেছে। ‘নূরনামা’ আবদুল হাকিমের লেখা বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থ। তাঁর অন্যান্য উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ হচ্ছ: ইউসুফ-জুলেখা, লালমতি, সয়ফুলমুলুক, শিহাবুদ্দিননামা, নসীহতনামা, কারবালা ও শহরনামা। তিনি ১৬৯০ খ্রিস্টাব্দে মারা যান। বাংলা ভাষা ছাড়াও তিনি আরবি, ফার্সি ও সংস্কৃত ভাষায় পারদর্শী ছিলেন। বাঙালি হিসেবে তাঁর গর্ববোধ ছিল। সেসময় একশ্রেণির লোকের বাংলা ভাষার প্রতি অবজ্ঞার জবাবে তিনি নূরনামা কাব্যে লিখেছেন:
‘যে সব বঙ্গেত জন্মি হিংসে বঙ্গবাণী।
সে সব কাহার জন্ম নির্ণয় ন জানি।।’
উইলিয়াম কেরি (১৭ অগাস্ট ১৭৬১ Ñ ৯ জুন ১৮৩৪) ছিলেন ইংরেজ খ্রিস্টান ধর্মপ্রচারক, যাজক ও অনুবাদক। তিনি ব্যাপ্টিস্ট মিশনারি সোসাইটির অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা। ১৮০২ খ্রিস্টাব্দে, উইলিয়ম কেরি লেখেন, ‘সাহেব এ বাঙ্গালা দেশ।’
অক্ষয়কুমার দত্ত ১৮২০ খ্রিস্টাব্দের ১৫ জুলাই নবদ্বীপের পাঁচ মাইল উত্তরে, চুপী গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। ১৮৩৮ খিস্টাব্দের ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্তের সঙ্গে পরিচয় হলে তিনি অক্ষয়কুমার দত্তকে সংবাদ প্রভাকর পত্রিকায় প্রবন্ধ লিখতে উৎসাহিত করেন। ১৮৩৯ খ্রিস্টাব্দের ৬ অক্টোবর ‘তত্ত¡বোধিনী সভা’ প্রতিষ্ঠিত হলে ২৬ ডিসেম্বর তিনি এ সভার সভ্য হন এবং ১৮৪০ খ্রিস্টাব্দের জানুয়ারি মাসে সহকারী সম্পাদক নির্বাচিত হন। খ্রিস্টাব্দে, অক্ষয়কুমার দত্ত লেখেন, ‘বাঙ্গলাদেশের লোক ...।’
ঊনবিংশ শতকের অন্যতম শ্রেষ্ঠ বাঙালি কবি, নাট্যকার ও প্রহসন রচয়িতা এবং বাংলার নবজাগরণ সাহিত্যের অন্যতম পুরোধা মাইকেল মধুসূদন দত্ত ১৮২৪ খ্রিস্টাব্দের ২৫ জানুয়ারি বাংলা প্রেসিডেন্সির যশোর জেলার সাগরদাঁড়ি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। ধুসূদন দত্ত ১৮৭৩ খ্রিস্টাব্দের ২৯ জুন আলিপুর জেনারেল হাসপাতালে কপর্দকহীন অবস্থায় মারা যান। মারা যাবার কিছুদিন আগে তিনি নিজেই নিজের এপিটাফ বা সমাধি-লিপি লিখেছেন। ওই সমাধি-লিপি শুরু হয়েছে এভাবে:
‘দাঁড়াও, পথিক-বর, জন্ম যদি তব
বঙ্গে! তিষ্ঠ ক্ষণকাল! ...’
বাংলা সাহিত্যের সর্বশ্রেষ্ঠ সাহিত্যিক রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর (৭ মে, ১৮৬১ Ñ ৭ আগস্ট, ১৯৪১) (২৫ বৈশাখ, ১২৬৮ - ২২ শ্রাবণ, ১৩৪৮ বঙ্গাব্দ) ১৮৯২ খ্রিস্টাব্দে লিখেছেন, ‘বাংলাদেশের ধূ ধূ জনহীন মাঠ।’ ১৮৯৫ খ্রিস্টাব্দে লিখেছেন:
‘বুকভরা মধু বঙ্গের বধূ জল লয়ে যায় ঘরেÑ
মা বলিতে প্রাণ করে আনচান, চোখে আসে জল ভরে।’
তিনি আরো লিখেন,
‘আজি বাংলাদেশের হৃদয় হতে কখন আপনি।
তুমি এই অপরূপ রূপে বাহির হলে জননী
ওগো মা তোমায় দেখে দেখে আঁখি না ফেরে...।’
‘সবুজপত্র’ বিংশ শতকের বাংলায় আধুনিকতার বাহন বাংলা সাময়িকী হিসেবে খ্যাত। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের উৎসাহে ১৩২১ বঙ্গাব্দের (১৯১৪ খ্রিস্টাব্দ) মোতাবেক ২৫ শে বৈশাখ প্রমথ চৌধুরীর সম্পাদনায় ‘সবুজপত্র’ প্রথম প্রকাশিত হয়। ১৯২০ খ্রিস্টাব্দে, ‘সবুজপত্র’ পত্রিকা এই দেশের আর্থ-সামাজিক ও রাজনীতিক অবস্থার বর্ণনা দিতে গিয়ে লিখেছেন:
‘বাঙলাদেশের অবস্থা অতি সঙ্কটের জায়গায় এসে পৌঁছেছে।’
বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলাম (২৪ মে ১৮৯৯ Ñ ২৯ অগাস্ট ১৯৭৬; ১১ জ্যৈষ্ঠ ১৩০৬ Ñ ১২ ভাদ্র ১৩৮৩ বঙ্গাব্দ) ১৯৩২ খ্রিস্টাব্দে, নজরুল তাঁর বনগীতিতে লিখেছেন:
‘নম নম নমো বাংলাদেশ মম
চির-মনোরম চির মধুর।’
১৯৪০ খ্রিস্টাব্দে, সুকান্ত ভট্টাচার্য (১৯২৬-৪৭) লিখেছেন:
‘সাবাস, বাংলাদেশ, এ পৃথিবী
অবাক তাকিয়ে রয়:
জ্বলে পুড়ে-মরে ছারখার
তবু মাথা নোয়াবার নয়।’
১৯৫৫ খ্রিস্টাব্দের ২৫ অগাস্ট, পাকিস্তান গণপরিষদে শেখ মুজিবুর রহমান বলেছিলেন, “তারা (পাকিস্তানি) পূর্ববঙ্গের স্থলে ‘পূর্ব পাকিস্তন’ বসাতে চায়।”
১৯৬২ খ্রিস্টাব্দে, সৈয়দ আলী আহসান লেখেন,
‘তুমি আমার পূর্ব-বাংলা-
পুলকিত সচ্ছলতায়, প্রগাঢ় নিকুঞ্জ।’
১৯৬৮ খ্রিস্টাব্দে, আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলায় রাষ্ট্রপক্ষ তার অভিযোগপত্রে দাবি করে:
“[জুন ১৯৬৬ চট্টগ্রাম নাসিরাবাদের] এই সভায় ২ নং আসামি মোয়াজ্জেম সবাইকে তার ডায়রি এবং নোটবুক দেখান যাতে ‘বাংলাদেশ’ নামে প্রস্তাবিত নতুন স্বাধীন রাষ্ট্রের প্রধান দিকগুলো লিপিবদ্ধ ছিল।” ১৯৬৮ খ্রিস্টাব্দের ২০ জুন আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলার কাঠগড়া থেকে শেখ মুজিব সাংবাদিক ফয়েজ আহমদকে উদ্দেশ করে উপস্থিত সবাইকে বলেছিলেন, ‘ফয়েজ, বাংলাদেশে থাকতে হলে শেখ মুজিবের সাথে কথা বলতে হবে।’ ১৯৭১ খ্রিস্টাব্দের ৩ মার্চ, ঢাকার পল্টন ময়দানের জনসভায় পূর্ব পাকিস্তান ছাত্রলীগ প্রচার করে ‘স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশের ঘোষণা ও কর্মসূচি’ শীর্ষক ইশতেহার। ১৯৭১ খ্রিস্টাব্দের ২৬ মার্চ, গ্রেফতার হওয়ার আগে, ওয়্যারলেস-বার্তায়, বঙ্গবন্ধু ঘোষণা করেন, ‘আজ হতে বাংলাদেশ স্বাধীন।’ গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের ১৯৭২ খ্রিস্টাব্দের সংবিধানে লেখা হয়, “বাংলাদেশ একটি একক, স্বাধীন ও সার্বভৌম প্রজাতন্ত্র, যাহা ‘গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ’ নামে পরিচিত হইবে।”



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: ইতিহাস

১৪ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯

আরও
আরও পড়ুন