Inqilab Logo

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ০৭ ফাল্গুন ১৪২৬, ২৫ জামাদিউস সানি ১৪৪১ হিজরী

ছুটির দিনেও ব্যাংকে লেনদেন

সোমবার পূর্ণ দিবস ব্যাংক খোলা

অর্থনৈতিক রিপোর্টার | প্রকাশের সময় : ২ জুন, ২০১৯, ৩:৫৫ পিএম

গ্রাহকদের সুবিধার্থে আসন্ন পবিত্র ঈদুল ফিতরের ছুটির আগে শবে কদরের ছুটি ছিল আজ রোববার। সরকারি ছুটি থাকা স্বত্তেও এ দিন অধিকাংশ ব্যাংকের গুরুত্বপূর্ণ শাখা খোলা ছিল। যদিও বাংলাদেশ ব্যাংক এর আগে এক সার্কুলারে পোশাক শিল্পে কর্মরত শ্রমিক-কর্মচারীদের বেতন, বোনাস ও অন্যান্য ভাতাদি পরিশোধ ও রপ্তানি বাণিজ্য সচল রাখার সুবিধার্থে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর কিছু শাখা খোলা রাখার নির্দেশনা দেয়। তবে অধিকাংশ ব্যাংকই পোশাক শিল্প সংশ্লিষ্ট ছাড়াও গুরুত্বপূর্ণ শাখাগুলো খোলা রাখে। এদিকে সাধারণত ঈদের আগে ব্যাংক থেকে গ্রাহকদের টাকা উত্তোলন বেড়ে যায়। এ সময় অধিকাংশ ব্যাংকের নগদ টাকার সংকটের কারণে কলমানি মার্কেটে সুদের হারও বাড়ে। তবে এবার দেখা গেছে ভিন্ন চিত্র। ঈদের আগে ব্যাংকগুলোতে নগদ টাকার লেনদেন বাড়লেও স্বাভাবিক ছিল আন্তঃব্যাংক মুদ্রাবাজারে কলমানির সুদহার। ব্যাংকগুলোর টাকার লেনদেনে সংকট দেখা দিলে আন্তঃব্যাংক মুদ্রাবাজার অর্থাৎ কলমানি মার্কেট থেকে তারা স্বল্পসময়ের জন্য ধার করে থাকে। টাকার চাহিদা বেশি থাকলে ধার করতে হয় বেশি সুদে। আর চাহিদার চেয়ে সরবরাহ বেশি থাকলে সুদ কম গুনতে হয়।

বিভিন্ন ব্যাংকে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এবার ঈদবাজারে নগদ টাকার লেনদেনের তেমন কোনো প্রভাব ব্যাংকের ওপরে পড়েনি। পাশাপাশি ঈদ কেন্দ্রিক নতুন টাকার সরবরাহও স্বাভাবিক ছিল। রোববার ছুটির দিনেও বিভিন্ন ব্যাংকের ক্যাশ কাউন্টারে গ্রাহকের ভিড় ছিল। কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ব্যস্ত সময় পার করেছেন।

মতিঝিল রূপালী ব্যাংকের লোকাল ব্রাঞ্চের জেনারেল ম্যানেজার খান ইকবাল হোসেন বলেন, ঈদের আগে লেনদেন বেশি হয়, বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা এবং গ্রাহকদের সুবিধার্থে ছুটির দিনেও তাই আমরা অফিস করছি। তবে কাল সোমবার স্বাভাবিকভাবেই ব্যাংক খোলা থাকবে। ঈদে নগদ টাকার সমস্যা আছে কিনা জানতে চাইলে এ কর্মকর্তা বলেন, আমাদের নগদ টাকার কোনো সমস্যা নেই। গ্রাহকের চাহিদা মতো পরিশোধ করছি। এবার কলমানি রেট কম। তার মানে নগদ টাকার সংকট কম বলে তিনি উল্লেখ করেন।

কয়েকটি ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা জানান, গ্রাহকদের সুবিধার্থে লেনদেন স্বাভাবিক রাখতেই ব্যাংকের গুরুত্বপূর্ণ শাখাগুলো খোলা রাখা হয়েছে। শনিবারও ওইসব শাখা খোলা ছিল। রোববার সকাল ১১টা থেকে বিকাল ২টা পর্যন্ত ব্যাংকে লেনদেন হয়। বিশেষ দিনে ব্যাংক খোলা রাখতে ব্যাংকগুলোকে আগে থেকেই পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন ব্যাংক কর্মকর্তারা।

ব্যাংকগুলোর প্রধান নির্বাহীদের কাছে পাঠানো বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, পোশাক শিল্পে কর্মরত শ্রমিক-কর্মচারীদের বেতন, বোনাস ও অন্যান্য ভাতাদি পরিশোধ ও রপ্তানি বাণিজ্য সচল রাখার সুবিধার্থে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর কিছু শাখা খোলা রাখার জন্য। এর মধ্যে ঢাকা মহানগরী, সাভার, আশুলিয়া, গাজীপুর, টঙ্গী, ভালুকা, নারায়ণগঞ্জ ও চট্টগ্রামে অবস্থিত বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর তৈরি পোশাক শিল্পের লেনদেন সংশ্লিষ্ট শাখাগুলো খোলা রাখার নির্দেশনা ছিল।

জনতা ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আবদুছ ছালাম আজাদ ইনকিলাবকে বলেন, ঈদ কেন্দ্রীক গ্রাহকদের সুবিধার্থে এবং বৈদশিক লেনদেনের বিষয়টি মাথায় রেখেই ব্যাংকের গুরুত্বপূর্ণ শাখাগুলো খোলা রাখা হয়েছে। গত শনিবার এবং আজ রোববার ছুটির দিনে তিনি শাখার কার্যক্রম পরিদর্শনও করেছেন বলে উল্লেখ করেন। তবে কাল সোমবার ঈদের আগে শেষ কর্মদিবস হিসেবে স্বাভাবিক নিয়মেই ব্যাংক খোলা থাকবে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

উল্লেখ্য, সাপ্তাহিক ছুটি ও শবে কদর উপলক্ষে শনিবার ও রোববার সরকারি ছুটির কারণে নির্দিষ্ট কিছু শাখা ব্যাতিত ব্যাংক বন্ধ থাকার কথা ছিল। আর ঈদের আগে কাল সোমবার শেষ ব্যাংকিং লেনদেন হবে। এদিন পূর্ণ দিবস ব্যাংক খোলা থাকবে।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

আরও পড়ুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ