Inqilab Logo

ঢাকা, রোববার, ১৮ আগস্ট ২০১৯, ০৩ ভাদ্র ১৪২৬, ১৬ যিলহজ ১৪৪০ হিজরী।

পোশাক শ্রমিকরা প্রত্যাশিত মজুরি পাচ্ছেন না

অর্থনৈতিক রিপোর্টার : | প্রকাশের সময় : ৩ জুন, ২০১৯, ১২:০৬ এএম

শ্রমিকদের মৌলিক চাহিদা পূরণ করতে পারার মতো মজুরি (লিভিং ওয়েজ) প্রদানের প্রতিশ্রুতি দিয়ে গত এক দশক ধরেই দিয়ে আসছে পোশাক পণ্যের শীর্ষস্থানীয় বৈশ্বিক ক্রেতা প্রতিষ্ঠানগুলো। কিন্ত এ প্রতিশ্রুতি রক্ষায় বারবার ব্যর্থ হচ্ছে তারা। এর ফলে পোশাক শ্রমিকরা পাচ্ছে না তাদের প্রত্যাশিত মজুরি। লিভিং ওয়েজ পাচ্ছে বিশ্বের ছয় কোটি শ্রমিক, যার মধ্যে বাংলাদেশী শ্রমিক রয়েছেন ৪০ লাখ। সম্প্রতি প্রকাশিত এক গবেষণা প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে। যুক্তরাজ্যের শেফিল্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের শেফিল্ড পলিটিক্যাল ইকোনমি রিসার্চ ইনস্টিটিউট (স্পেরি) গত মাসে ‘করপোরেট কমিটমেন্টস টু লিভিং ওয়েজেস ইন দ্য গার্মেন্ট ইন্ডাস্ট্রি’ শীর্ষক গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশ করে। এ গবেষণার কাজে ক্লিন ক্লথ ক্যাম্পেইনের একটি জরিপ থেকে প্রাপ্ত এবং নিজেদের সংগৃহীত উপাত্ত ব্যবহার করা হয়েছে। লিভিং ওয়েজ প্রদানে এইচঅ্যান্ডএম, সিঅ্যান্ডএ, ইন্ডিট্যাক্স ও প্রাইমার্কসহ বিশ্বের ২০টি পোশাক ক্রেতা প্রতিষ্ঠানের দেয়া প্রতিশ্রুতি ও তা বাস্তবায়নে গৃহীত পদক্ষেপের তুলনাম‚লক চিত্র তুলে ধরা হয়েছে গবেষণায়।
গবেষণা প্রতিবেদনে লিভিং ওয়েজ প্রদানে সাতটি প্রতিবন্ধকতার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এতে বলা হয়, বৈশ্বিক করপোরেশনগুলোর মধ্যে লিভিং ওয়েজের সংজ্ঞা নিয়ে এক ধরনের বিভ্রান্তি ও অসংগতি রয়েছে। একই সঙ্গে লিভিং ওয়েজ প্রদানের প্রতিশ্রুতি ও তা বাস্তবায়নে গৃহীত পদক্ষেপের মধ্যে রয়েছে বড় ধরনের পার্থক্য। লিভিং ওয়েজ প্রদানে প্রতিষ্ঠানগুলোর কোনো বেঞ্চমার্ক কিংবা রোডম্যাপ নেই। শ্রমিকদের প্রকৃতপক্ষে যে মজুরি প্রদান করা হচ্ছে, তা নিয়ে করপোরেশনগুলোর মধ্যে স্বচ্ছতার ঘাটতি রয়েছে বলেও মন্তব্য করা হয়েছে প্রতিবেদনে।

এতে বলা হয়েছে, কোম্পানিগুলোর কাছে তাদের পণ্য সরবরাহকারী তালিকা ও সরবরাহকারী কারখানাগুলো তাদের শ্রমিকদের যে মজুরি প্রদান করছে, তার উপাত্ত চাওয়া হয়। ১৫টি কোম্পানি ঠিকানাসহ তাদের সরবরাহকারী কারখানার তালিকা প্রকাশ করে। কিন্ত প্রত্যেকটি কোম্পানিই সরবরাহকারী কারখানার মজুরি উপাত্ত প্রদানে ব্যর্থ হয়েছে।
প্রতিবেদনে আরো বলা হয়, ভোক্তারা পণ্য কেনার সময় ধরে নেন, যেসব শ্রমিক এসব পণ্য তৈরি করছে তাদের লিভিং ওয়েজ প্রদান করা হচ্ছে। কিন্ত বাস্তবতা হলো, বৈশ্বিক গার্মেন্ট শিল্পে শ্রমিকদের নিম্ন মজুরি দেয়ার প্রবণতা রয়েছে। কিছু গার্মেন্ট কোম্পানি লিভিং ওয়েজ প্রদানে উচ্চাকাঙ্খী প্রতিশ্রুতি প্রদান করে এলেও প্রতিশ্রুতি পূরণের ক্ষেত্রে তারা ক্রমে পিছিয়ে পড়ছে।

লিভিং ওয়েজ প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন এবং নজরদারির ক্ষেত্রে গার্মেন্ট কোম্পানিগুলো অনেকাংশেই সামাজিক নিরীক্ষার (সোস্যাল অডিটিং) ওপর নির্ভরশীল ছিল। কিন্তু এটি বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই ছিল অকার্যকর এবং অনেক ক্ষেত্রে এর অপব্যবহারও হয়েছে। বৈশ্বিক সাপ্লাই চেইনে কীভাবে লিভিং ওয়েজের আরো অর্থবহ অগ্রগতি অর্জন করা যায়, তা নিয়ে প্রতিবেদনে বেশকিছু সুপারিশ প্রদান করা হয়েছে।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: পোশাক শ্রমিক

২২ জানুয়ারি, ২০১৯
৯ জানুয়ারি, ২০১৯

আরও
আরও পড়ুন