Inqilab Logo

ঢাকা, মঙ্গলবার ২৩ জুলাই ২০১৯, ০৮ শ্রাবণ ১৪২৬, ১৯ যিলক্বদ ১৪৪০ হিজরী।

সদকায়ে ফিতরের পরিমাণ কিছু কথা-১

মুফতি মুহাম্মাদ ইয়াহইয়া | প্রকাশের সময় : ৩ জুন, ২০১৯, ১২:০৫ এএম

সদাকায়ে ফিতর সম্পর্কিত হাদিসগুলো পর্যালোচনা করলে এ বিষয়ে মোট পাঁচ প্রকার খাদ্যের বর্ণনা পাওয়া যায়- যব, খেজুর, পনির, কিশমিশ ও গম। এ পাঁচ প্রকারের মধ্যে যব, খেজুর, পনির ও কিশমিশ দ্বারা সদকা ফিতর আদায় করতে চাইলে প্রত্যেকের জন্য এক ‘সা’ দিতে হবে। আর গম দ্বারা আদায় করতে চাইলে আধা ‘সা’ দিতে হবে। এটা হলো ওজনের দিক দিয়ে তফাত। আর মূল্যের দিক থেকে তো পার্থক্য রয়েছেই। যেমন-
(ক) আজওয়া (উন্নতমানের) খেজুরের মূল্য প্রতি কেজি এক হাজার টাকা হলে একজনের সদকায়ে ফিতর দাঁড়ায় তিন হাজার দুই শ’ ছাপ্পান্ন টাকা। (খ) মধ্যম ধরনের খেজুর, যার মূল্য প্রতি কেজি ৩০০ টাকা হলে একজনের সদকায়ে ফিতর দাঁড়ায় ৯৭৭ টাকা। (গ) কিশমিশ প্রতি কেজি ২৩০ টাকা করে হলে একজনের সদকায়ে ফিতর দাঁড়ায় ৭৪৮ টাকা। (ঘ) পনির প্রতি কেজি ৫০০ টাকা করে ধরা হলে একজনের সদকায়ে ফিতর দাঁড়ায় এক হাজার ছয় শ’ আটাশ টাকা। (ঙ) গম দিয়ে আদায় করলে একজনের সদকায়ে ফিতর দাঁড়ায় ৭০ টাকা। (এসব মূল্য নিজ নিজ এলাকার বাজার দর অনুযায়ী প্রাক্কলিত। স্থান ও সময়ভেদে এসব পরিবর্তনযোগ্য। মূল্যটি মুখ্য নয়, বরং পরিমাপের সাথে মিলে যায় এমন পরিমাণ মূল্য যেন ফিতরায় দেয়া হয়।)

হাদিসে এ ৫টি দ্রব্যের যেকোনোটি দ্বারা ফিতরা আদায়ের সুযোগ দেয়া হয়েছে যেন মুসলমানগণ নিজ নিজ সামর্থ্য ও সুবিধা অনুযায়ী এর যেকোনো ১টি দ্বারা তা আদায় করতে পারে। এখন লক্ষণীয় বিষয় হলো, সকল শ্রেণীর লোক যদি সবচেয়ে নিম্ন মূল্যমানের দ্রব্য দিয়েই নিয়মিত সদকা ফিতর আদায় করে তবে হাদিসে বর্ণিত অন্য চারটি দ্রব্যের হিসেবে ফিতরা আদায়ের ওপর আমল করবে কে? আসলে এ ক্ষেত্রে হওয়া উচিত ছিল এমন যে, যে ব্যক্তি উন্নতমানের আজওয়া খেজুরের হিসাবে সদকা ফিতর আদায় করার সামর্থ্য রাখে সে তা দিয়েই আদায় করবে। যার সাধ্য পনিরের হিসাবে দেয়ার সে তাই দেবে।

এর চেয়ে কম আয়ের লোকেরা খেজুর বা কিশমিশের হিসাব গ্রহণ করতে পারে। আর যার জন্য এগুলোর হিসাবে দেয়া কঠিন সে আদায় করবে গম দ্বারা। এটিই উত্তম নিয়ম। এ নিয়মই ছিল নবী, সাহাবা-তাবেইন ও তাবে তাবেইনের স্বর্ণযুগে। এ পর্যন্ত কোথাও দুর্বল সূত্রে একটি প্রমাণ মেলেনি যে, স্বর্ণযুগের কোনো সময়ে সব শ্রেণীর সম্পদশালী সর্বনিম্ন মূল্যের দ্রব্য দ্বারা সদকা ফিতর আদায় করেছেন। এখানে এ সংক্রান্ত কিছু বরাত পেশ করা হচ্ছে।
হাদিস : নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে সর্বোত্তম দান সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি ইরশাদ করেন- ‘দাতার নিকট যা সর্বোৎকৃষ্ট এবং যার মূল্যমান সবচেয়ে বেশি।’ -সহিহ বুখারী, কিতাবুল ইতক ৩/১৮৮; সহিহ মুসলিম, কিতাবুল ঈমান বাব আফযালুল আমল ১/৬৯।
সাহাবায়ে কেরামের আমল : (ক) হজরত আবু সাঈদ খুদরি (রা.) বলেন, ‘আমরা সদকা ফিতর আদায় করতাম এক ‘সা’ খাদ্য দ্বারা অথবা এক ‘সা’ যব অথবা এক ‘সা’ খেজুর কিংবা এক ‘সা’ পনির বা এক ‘সা’ কিশমিশ দ্বারা। আর এক ‘সা’-এর ওজন ছিল নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ‘সা’ অনুযায়ী। (মুয়াত্তা মালেক পৃ.১২৪; আল ইসতিযকার, হাদিস ৫৮৯, ৯/৩৪৮)। এ হাদিসে রাসূলের যুগে এবং সাহাবাদের আমলে সদকা ফিতর কোন কোন বস্তু দ্বারা আদায় করা হতো তার সুস্পষ্ট বর্ণনা রয়েছে।

(খ) হজরত আবদুল্লাহ ইবনে ওমর রা. সারা জীবন খেজুর দ্বারাই সদকা ফিতর আদায় করেছেন। তিনি একবার মাত্র যব দ্বারা আদায় করেছেন। (আল ইসতিযকার, হাদিস নং ৫৯০, ৯/৩৫৪)। ইবনে কুদামা (রা.) আবু মিজলাযের বর্ণনা উল্লেখ করে বলেন, এ বর্ণনা দ্বারা বোঝা যায় যে, সাহাবায়ে কেরাম অধিকাংশই যেহেতু খেজুর দ্বারা ফিতরা আদায় করতেন তাই ইবনে ওমর (রা.) সাহাবাদের তরিকা অবলম্বন করতে সারা জীবন খেজুর দ্বারাই আদায় করেছেন। এ প্রসঙ্গে ইবনে ওমরের ভাষ্য হলো- ‘সাহাবিগণ যে পথে চলেছেন আমিও সে পথেই চলতে আগ্রহী।’
এবার দেখা যাক মাজহাবের ইমামগণ উত্তম সদকা ফিতর হিসেবে কোনটিকে গ্রহণ করেছেন।



 

Show all comments
  • Shahid Ahmed ৩ জুন, ২০১৯, ২:২৯ এএম says : 0
    ফিতরা বা সদকাতুল ফিতর হলো সেই নির্ধারিত সদকা, যা ঈদের নামাজের আগে প্রদান করতে হয়। একে জাকাতুল ফিতরও বলা হয়।
    Total Reply(0) Reply
  • মিরাজ আলী ৩ জুন, ২০১৯, ২:৩০ এএম says : 1
    যাঁরা নিসাব পরিমাণ সম্পদের মালিক নন, তাঁদের জন্যও ফিতরা আদায় করা সুন্নত ও নফল ইবাদত। একে অন্যের ফিতরা আদায় করতে পারবেন। সুবিধার জন্য রমজানেও ফিতরা আদায় করা যায়। যাঁদের জাকাত দেওয়া যায়, তাঁদের ফিতরাও দেওয়া যায়।
    Total Reply(0) Reply
  • হৃদয় ৩ জুন, ২০১৯, ২:৩০ এএম says : 0
    হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) সূত্রে বর্ণিত, হজরত রাসূলুল্লাহ (সা.) সদকাতুল ফিতরকে অপরিহার্য করেছেন, অনর্থক অশালীন কথা ও কাজে রোজার যে ক্ষতি হয়েছে তা পূরণের জন্য এবং নিঃস্ব লোকের আহার যোগানোর জন্য। -সুনানে আবু দাউদ, হাদিস: ১৬০৯
    Total Reply(0) Reply
  • সাইফুল ইসলাম ৩ জুন, ২০১৯, ২:৩১ এএম says : 0
    সদকার ক্ষেত্রে উদ্দেশ্য হলো, গরীবদের প্রয়োজন পূরণ ও তাদের স্বার্থ সংরক্ষণ। এর পাশাপাশি আদায়কারীর সামর্থ্যকেও বিবেচনায় রাখা হয়। অতএব এ দিক বিবেচনায় সামর্থ্যবান ব্যক্তিদের জন্য সামর্থ্য অনুযায়ী বেশি মূল্যের খাদ্যবস্তু যথা এক ‘সা’ খেজুর, পনির ও কিশমিশ ইত্যাদিকে মাপকাঠি ধরে সদকাতুল ফিতর আদায় করা বাঞ্ছনীয়।
    Total Reply(0) Reply
  • মোঃ নাজমুল ইসলাম ৩ জুন, ২০১৯, ২:৩২ এএম says : 0
    মুজতাহিদ ফকিহগণের মতে, যেখানে যা প্রধান খাদ্য তা দ্বারা আদায় করা শ্রেয়। মুজতাহিদ ইমামগণের মতে, যেসব খাদ্যবস্তু (ক) সহজে সংরক্ষণযোগ্য, (খ) সহজে বিনিময়যোগ্য ও (গ) বাজারমূল্য স্থিতিশীল থাকে; সেসব খাদ্যদ্রব্য দ্বারা সদকাতুল ফিতর আদায় করা যায়। উল্লেখ্য, চালের মধ্যে এই তিনটি বৈশিষ্ট্য বিদ্যমান এবং সৌদি আরবসহ সব আরব দেশ এবং প্রায় সব মুসলিম দেশ বর্তমানে চালের হিসাব গ্রহণ করেছে।
    Total Reply(0) Reply

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: ইসলাম

১৮ জুলাই, ২০১৯
১৬ জুলাই, ২০১৯

আরও
আরও পড়ুন
গত​ ৭ দিনের সর্বাধিক পঠিত সংবাদ