Inqilab Logo

ঢাকা, বুধবার ১৭ জুলাই ২০১৯, ০২ শ্রাবণ ১৪২৬, ১৩ যিলক্বদ ১৪৪০ হিজরী।

ইতিহাসের সবচেয়ে বেদনাদায়ক ঈদ হবে এবার -রিজভী

স্টাফ রিপোর্টার | প্রকাশের সময় : ৩ জুন, ২০১৯, ১২:৩৭ পিএম | আপডেট : ২:৩৭ পিএম, ৩ জুন, ২০১৯

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, ইতিহাসের সবচেয়ে স্বস্তিদায়ক ঈদ হবে এবার। ওবায়দুল কাদেরের বক্তব্যের প্রেক্ষিতে বলতে চাই-বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে স্বস্তিদায়ক নয়, সবচেয়ে বেদনাদায়ক ঈদ হবে এবার। কারণ দেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় নেত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে অবৈধ ক্ষমতার জোরে কারাবন্দী রাখা হয়েছে। একদলীয় বাকশালী সরকারের কবলে পড়ে দেশ এখন এক চরম নৈরাজ্যজনক অবস্থার মধ্যে নিপতিত। তাই বেশীর ভাগ জনগোষ্ঠীর মধ্যে ঈদের আনন্দ নেই। এছাড়াও ধানের ন্যায্য মূল্য না পাওয়ায় কোটি কোটি কৃষকের ঘরে ঘরে কোন ঈদ আনন্দ নেই।
সোমবার (৩ জুন) দুপুরে নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
রুহুল কবির রিজভী বলেন, বেশীর ভাগ মানুষের পকেটে টাকা না থাকায় মার্কেটগুলো প্রায় ফাঁকা, বেচাকেনা নেই সেটি স্বীকার করেছেন ব্যবসায়ীরা। সুতরাং তাদের মনেও ঈদের আনন্দ নেই। এমপিওভুক্ত স্কুল-মাদ্রাসার অনেক শিক্ষকরা এখনও বেতন-বোনাস পাননি। তাদের মনেও ঈদের আনন্দ নেই। বিদেশ থেকে অনেক প্রবাসীর টাকা আসতো বাংলাদেশে, এখন সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো থেকে এবং অন্যান্য দেশ থেকে কাজ না থাকায় অনেক প্রবাসী বাংলাদেশীকে দেশে ফেরত পাঠিয়ে দিয়েছে। দেশে কোটি কোটি যুবক বেকার। তাদের কোন কাজ নেই, আয়ও নেই। তাদের ঘরেও ঈদের আনন্দ নেই। শেয়ার বাজার বারবার ধ্বসের কারণে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের পূঁজিসহ সব নি:শেষ হয়ে গেছে, তাদের ঘরেও ঈদ আনন্দ নেই। বিএনপিসহ বিরোধী দলের ৫০ লাখ নেতাকর্মী বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা, তারা বাড়ীছাড়া, ঘরছাড়া অথবা কারাগারে, তাদের ঘরেও ঈদ আনন্দ নেই।
তিনি বলেন, বর্তমান দু:শাসনের কবলে পড়ে হাজার হাজার মানুষ গুম-খুনের শিকার, নারী-শিশুরা খুন, ধর্ষণ ও নির্যাতনের শিকার, তাদের পরিবারেও ঈদের আনন্দ নেই। সুতরাং স্বস্তির ঈদ নিয়ে ওবায়দুল কাদেরের বক্তব্য চরম মিথ্যাচার, অনুশোচনাহীনতা ও নির্যাতিত মানুষদের প্রতি ইতিহাসের সেরা তামাশা।
জঙ্গিদের জামিন পাওয়ার সমালোচনা করে রিজভী বলেন, র‌্যাব এর মহাপরিচালক বলেছেন-গুলশানের হলি আর্টিজান হামলার পর থেকে গ্রেফতার হওয়া জঙ্গিদের মধ্যে ৩০০ জন পলাতক রয়েছেন। তিনি আরও বলেন-২০১৬ সালের ঐ হামলার পর গ্রেফতারকৃত ৫১২ জন জঙ্গির মধ্যে ৩০০ জন জামিনে রয়েছেন। তিনি বলেছেন-জামিনে থাকা জঙ্গিদের মধ্যে অধিকাংশ এখন পলাতক।
বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব বলেন, র‌্যাব এর মহাপরিচালকের বক্তব্য শুনে সারাজাতি বিস্মিত ও স্তম্ভিত। জঙ্গিরা জামিন পাচ্ছে কিভাবে? কারণ আমরা জানি নিম্ন আদালত সম্পূর্ণরুপে সরকারের করায়ত্ত্বে। গণতান্ত্রিক আন্দোলনে অংশগ্রহণের জন্য বিএনপিসহ বিরোধী দলের নেতাকর্মী, মানবাধিকার কর্মী, বরেণ্য আইনজীবী কেউই নিম্ন আদালত থেকে জামিন পান না। তাহলে সরকারের নিয়ন্ত্রণে থাকা নিম্ন আদালত থেকে কিভাবে ভয়ংকর জঙ্গি হামলায় জড়িত জঙ্গিরা জামিন পাচ্ছে? সরকার জঙ্গি দমনের নামে যা করছে তা পরিকল্পিত নাটক কি না তা নিয়ে জনমনে দীর্ঘদিন থেকে সংশয় রয়েছে। র‌্যাবের মহাপরিচালকের বক্তব্যে সেই সংশয় আরও গভীর থেকে গভীরতর হলো। আসলে জঙ্গি দমনের নামে কোন খেলাধুলা চলছে কি না সেই প্রশ্নও মানুষের মধ্যে বিদ্যমান ছিল।
তিনি বলেন, কোন সহানুভুতি লাভের জঙ্গি দমনের নামে রুপকথার সিন্দাবাদের দৈত্যের কাহিনী রচনা করা হচ্ছে কি না সেই প্রশ্নটিও আরও দীর্ঘতর হলো র‌্যাবের মহাপরিচালকের বক্তব্যের মধ্য দিয়ে। আসলে জঙ্গি দমনের নামে কর্তৃত্ববাদী শাসন দীর্ঘায়িত করা, গণতন্ত্র হরণ ও বিরোধী মত নিধনে গোপন পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে কি না সেটিও আজ মানুষের মুখে মুখে ঘোরপাক খাচ্ছে। তা না হলে বিএনপি’র নেতাকর্মীরা সব মামলা থেকে জামিন পাওয়ার পরেও কারাগারের ফটক থেকে বের হওয়ার সময় তাদের বিরুদ্ধে আরও অজানা মামলার ওয়ারেন্ট নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকে এবং পুনরায় তাদেরকে জেলগেট থেকে গ্রেফতার করে নিয়ে যায়। কিন্তু জঙ্গির নামে যাদের ধরা হয় তারা জামিন পেয়ে আবার লোকচক্ষুর আড়ালেও চলে যাচ্ছে। আসলে সত্য ও বিবেক এদেশ থেকে নির্বাসিত হয়েছে। অবৈধ ক্ষমতার সঙ্গে যুক্ত প্রতিহিংসার সংশ্লেষণে এদেশে রক্তপাত ক্রমবর্ধমান হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে।
একে খন্দকারকে ক্ষমা চাইতে বাধ্য করা হয়েছে অভিযোগ করে বিএনপির এই নেতা বলেন, সত্য ও ইতিহাস এখন বাকশালী হুকুমের কাছে বন্দী। আওয়ামী ম্যানুফ্যাকচার্ড ইতিহাসের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ না হলে সেই লেখক কিংবা ইতিহাসবিদকে ক্ষমা চাইতে বাধ্য করা হয়। বই প্রকাশের ৫ বছর পর মহান মুক্তিযুদ্ধের একজন সেক্টর কমান্ডার এবং বর্ষিয়ান সাবেক মন্ত্রীকে যে ক্ষমা চাইতে বাধ্য করা হয়েছে সেটি জনগণের কাছে খুবই পরিস্কার। এর আগে কখনো আদালতকে ব্যবহার করে আবার কখনো গোয়েন্দাদের ব্যবহার করে মুক্তমনের বিবেকবান কবি, সাহিত্যিক, ঔপন্যাসিক, জীবনী লেখক, ইতিহাসবিদদের ওপর চাপ প্রয়োগের মাধ্যমে লিখিত গ্রন্থের বিভিন্ন অধ্যায় পরিবর্তন করতে বাধ্য করা হয়েছে।
রিজভী বলেন, মুক্তিযুদ্ধে আওয়ামী লীগারদের প্রশ্নবিদ্ধ ভুমিকার সত্য ইতিহাস যখন বিভিন্ন লেখকের লেখায় ফুটে উঠে তখন তাদের ব্যর্থতা ঢাকার জন্য অবৈধ ক্ষমতার দম্ভে ও গর্বে আত্মস্ফীত আওয়ামী সরকার বেপরোয়া হয়ে ওঠে এবং সেই লেখকদের নানাভাবে বাধ্য করে লেখার ঐ অংশটুকু মুছে ফেলতে। জনগণকে দু:শাসনের দূর্বিষহ জীবন-যাপনে বাধ্য করে এখন আদালত ও হুমকি দিয়ে ইতিহাসের সত্য উচ্চারণকে ঢেকে রাখা যাবে না। কারণ একজন বিখ্যাত কবি বলেছেন, ইতিহাসের আনন্দিত উচ্চারণ কবিতা। জবরদস্তিমূলকভাবে ইতিহাস রচনা করলে তা আস্তাকুঁড়েই নিক্ষিপ্ত হয়। সত্য উচ্চারণের ইতিহাস জানতে জনগণকে সংবৃত করা অসম্ভব। দুর্নীতি, গুম, গুপ্তহত্যা, চাপ ও হুমকির বাতাবরণের মধ্যেও ইতিহাসে সত্য প্রকাশ অবধারিত।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: রিজভী


আরও
আরও পড়ুন