Inqilab Logo

ঢাকা, শুক্রবার ১৯ জুলাই ২০১৯, ০৪ শ্রাবণ ১৪২৬, ১৫ যিলক্বদ ১৪৪০ হিজরী।
শিরোনাম

ছাত্রলীগে শূন্যপদের তালিকা দীর্ঘ হচ্ছে

স্টাফ রিপোর্টার | প্রকাশের সময় : ৭ জুন, ২০১৯, ৮:২৯ পিএম

সংগঠনের গঠনতন্ত্রবিরোধী নানা ‘অপকর্মে জড়িত’ থাকার অভিযোগ এনে নবগঠিত কমিটির ১৯টি পদ ইতোমধ্যে শূন্য ঘোষণা করেছে ছাত্রলীগ। সংগঠনটির এই তালিকা আরও দীর্ঘ হচ্ছে, এতে যুক্ত হচ্ছে আরও নাম। বিভিন্ন মাধ্যমে যাচাই-বাছাই করে ইতোমধ্যে প্রাপ্ত ১৯ জনের বাইরে আরও অন্তত ১৫ জনের নাম পাওয়া গেছে। যাদের বিরুদ্ধে গঠনতন্ত্রবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার প্রমাণ পেয়েছেন ছাত্রলীগ ও আওয়ামী লীগের দায়িত্বশীলরা।

এ বিষয়ে আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও ছাত্রলীগের দায়িত্বপ্রাপ্ত চার নেতার একজন আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম বলেন, ‘শূন্যপদ ঘোষণা করা ১৯ জনসহ বাকিদের নাম শিগগিরই ঘোষণা করা হবে।’

শুক্রবার (৭ জুন) বিকালে বাংলা ট্রিবিউনকে বাহাউদ্দিন নাছিম বলেন, ‘আরও কিছু নাম আমাদের হাতে রয়েছে। বিতর্কিত থাকলে আমরা অবশ্যই ব্যবস্থা নেবো। তাদের বাদ দেওয়া হবে। নাম না প্রকাশ করার মাধ্যমে কানামাছি খেলার কোনও সুযোগ নেই। দ্রুত সব নাম প্রকাশ করা হবে। শূন্যপদগুলো পূরণ করা হবে।’

পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণার পর থেকেই বিতর্কিতদের বাদ দেওয়ার দাবিতে আন্দোলন করে আসছে ছাত্রলীগের একাংশ। যাদের অধিকাংশই পদবঞ্চিত। কমিটি থেকে বিতর্কিতদের বাদ দেওয়াসহ তিন দফা দাবিতে অবস্থান কর্মসূচিতে অনড় রয়েছেন তারা। পদবঞ্চিতদের দাবি, বতর্মান কমিটির সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক বিভিন্ন ইস্যুতে টালবাহানা করছেন। গত ২৮ মে ১৯টি পদ শূন্য ঘোষণা করা হলেও কোন ১৯ জন তালিকায় রয়েছেন তাদের নাম প্রকাশ করা হয়নি। নামগুলো প্রকাশ করা ও বঞ্চিতদের ওপর তিন দফা হামলার বিচার দাবিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে ১৩তম দিনে (শুক্রবার) অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন ছাত্রলীগের সাবেক এই নেতারা।

প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ হাসিনা দেশে ফেরার পর তাকে এসব বিষয়ে জানাবেন ছাত্রলীগ ও আওয়ামী লীগের দায়িত্বশীলরা। দলীয় সভাপতির সম্মতিতে পদ শূন্যের চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ ও শূন্যপদগুলোও পূরণ করা হবে বলেও তারা জানান।

বিতর্কিতদের বাদ দেওয়াকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট সমস্যা সমাধানে একের পর এক আশ্বাস মিললেও সমাধান হচ্ছে না বলে মন্তব্য করেছেন অবস্থান কর্মসূচিতে থাকা ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ হল শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক আরিফ হোসেন রিফাত। তিনি বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আমরা কলঙ্কমুক্ত ছাত্রলীগ চাই। বর্তমান কমিটিতে বিতর্কিতরা স্থান পেয়েছেন। কলঙ্কিত হয়েছে ছাত্রলীগ। আমরা চাই প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী বঙ্গবন্ধুর আদর্শ যারা লালন করেন না, যারা বিতর্কিত, তাদের কমিটি থেকে বাদ দেওয়া হোক। কমিটিতে থাকা ১৯টি পদ শূন্য ঘোষণা করা হয়েছে। কিন্তু কোন ১৯টি পদ শূন্য ঘোষণা করা হয়েছে, তা জানানো হয়নি। আমাদের ওপর যারা হামলা চালালো, তাদেরও বিচার হয়নি। আমরা বিচার চাই। আমাদের বারবার আশ্বাস দেওয়ার পরও কোনও সিদ্ধান্ত পরিষ্কার করা হয়নি।’

বর্তমান ছাত্রলীগ নতুন সিন্ডিকেট তৈরি করছে বলে অভিযোগ করেছেন ছাত্রলীগের সাবেক মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক উপ-সম্পাদক আল-মামুন। তিনি বলেন, ‘ডাকসু নির্বাচন নিয়ে গণভবনে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতের পর তিনি আমার পদের বিষয় বলে দেওয়ার পরও ছাত্রলীগের কমিটিতে আমাকে বঞ্চিত করা হয়েছে। যারা প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ অমান্য করেন, তারা কখনও ছাত্রলীগ হতে পারে না। তারা নতুন সিন্ডিকেটের ছাত্রলীগ। তারা মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ধারণ করে না।’

বিভিন্নভাবে বর্তমান কমিটির সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক প্রহসন করছেন বলে মন্তব্য করেন সাবেক প্রচার সম্পাদক সাইফ বাবু। তিনি বলেন, ‘আমরা বিতর্কিতদের বাদ দিয়ে কমিটি পুনর্গঠন করতে বলছি। ১৯টি পদ শূন্য ঘোষণা করা হলেও তাদের নাম প্রকাশ করা হয়নি। কোনও চাপের মুখে তারা নামগুলো প্রকাশ করছেন না, তা জানতে চাই। আমাদের ওপর দফায় দফায় হামলা হয়েছে। হামলাকারীদের চিহ্নিত করে বিচার চাই।’

আন্দোলনকারীদের মূল ধারার রাজনীতিতে ফিরে আসার আহ্বান জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের আরেক সাংগঠনিক সম্পাদক ও ছাত্রলীগের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতা বি এম মোজাম্মেল হক। তিনি বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘কমিটি থেকে বিতর্কিতদের বাদ দেওয়ার দাবি ওঠার পর আমরা আন্দোলনকারীদের সঙ্গে বসেছি। তাদের কথা শুনেছি। বর্তমান কমিটির সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকসহ সাবেক কমিটির শীর্ষ নেতাদের সঙ্গেও আমরা কথা বলেছি। এখন আর আন্দোলন করার যৌক্তিকতা নেই। তাদের মূল ধারার রাজনীতি করতে হবে। আর যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে, প্রমাণ পাওয়া গেলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবো। এটা সাংগঠনিক প্রক্রিয়া।’

অবস্থান কর্মসূচিতে থাকা নেতাকর্মীদের বিষয়ে সিদ্ধান্ত ও বিতর্কিতদের নাম প্রকাশের ব্যাপারে জানতে ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় কমিটি সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে একাধিকবার ফোনে যোগাযোগ করা হলেও কথা বলা সম্ভব হয়নি।

একই বিষয়ে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও ছাত্রলীগের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতা জাহাঙ্গীর কবির নানককে ফোন করা হলে তিনি ‘ব্যস্ত’ বলে এসএমএস-এর মাধ্যমে জানান।

উল্লেখ্য, ১৩ মে ছাত্রলীগের ৩০১ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করা হয়। এই কমিটিতে অছাত্র, বিবাহিত, চাকরিজীবী, ছাত্রদল রয়েছে বলে দাবি করে আন্দোলন করেন পদবঞ্চিত এবং পদপ্রত্যাশী নেতাকর্মীরা। পরে ১৯ মে আওয়ামী লীগ নেতারা দাবি মেনে নেওয়ার আশ্বাস দিলে তারা আন্দোলন প্রত্যাহার করে নেন। এরপর গত ২৬ মে রাত ১টার দিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্রের (টিএসসি) রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশ অবস্থান নেন তারা।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: ছাত্রলীগ


আরও
আরও পড়ুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ