Inqilab Logo

ঢাকা, রোববার ১৬ জুন ২০১৯, ২ আষাঢ় ১৪২৬, ১২ শাওয়াল ১৪৪০ হিজরী।

সড়কে ঝরল ৬০ প্রাণ ঈদের ৪ দিনে

স্টাফ রিপোর্টার | প্রকাশের সময় : ৮ জুন, ২০১৯, ১২:০৪ এএম

ঈদের ছুটিতে বেড়েছে সড়ক দুর্ঘটনা। গত চার দিনে রাজধানীসহ সারা দেশে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন ৬০ জনেরও বেশি। এ সময় আহত দেড় শতাধিক। কেবল ঈদের দিনই সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারান ২৩ জন। তবে এ সময় মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন ২২ জন।
পঙ্গু হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক সুজিত কুমার বলেন, জরুরি বিভাগে ঈদের আগেই প্রতিদিন ৩শ’র মতো আহত আসছে। যেভাবে দুর্ঘটনা বাড়ছে, এর প্রতিকার খুবই প্রয়োজন।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার বেলা ২টার দিকে রাজধানীর হানিফ ফ্লাইওভারের ওপরে মোটরসাইকেল নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পড়ে গিয়ে ইমন (২০) নামে এক কলেজছাত্র নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় মোটরসাইকেলে থাকা তার দুই বন্ধু সোহাগ (১৯) ও নাদিম (২০) আহত হয়েছেন।
আহত সোহাগ জানিয়েছেন, তারা তিন বন্ধু যাত্রাবাড়ী শেখদী বটতলা এলাকায় থাকেন। মোটরসাইকেলে করে ওই এলাকা থেকে শহীদ মিনারে যাওয়ার পথে হানিফ ফ্লাইওভারে মোটরসাইকেলের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে গেলে তারা ছিটকে পড়ে যান। এতে মোটরসাইকেলের পেছনে থাকা ইমনের মাথায় আইল্যান্ডের আঘাত লাগে। পরে তাদেরকে দ্রুত উদ্ধার করে পথচারীরা ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নিলে চিকিৎসক ইমনকে মৃত ঘোষণা করেন। ইমন সিদ্ধেশ্বরী ডিগ্রি কলেজের ছাত্র। তবে আহত দুইজন অন্য কলেজের ছাত্র।
একই দিন বিকেল ৩টার দিকে সায়েদাবাদ এলাকায় মোটরসাইকেল নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রিয়াজ আহমেদ কাউসার (১৮) নামে এক যুবক নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন তার বন্ধু তৌহিদুল ইসলাম (১৮)।
এছাড়া মিরপুর ১১ নম্বর সেকশনে বেপরোয়া দুই বাসের পাল্লাপাল্লিতে দুর্ঘটনার প্রতিবাদে সড়ক অবরোধ করেছেন জনতা। এই দুর্ঘটনায় জড়িত গাড়ির চালকের শাস্তি দাবি করে বিক্ষোভ করছেন তারা। বৃহস্পতিবার বেলা ১টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত এ সড়ক অবরোধ চলে। পরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর আশ্বাসের পরিপ্রেক্ষিতে অবরোধ তুলে নেন আন্দোলনকারীরা। এর আগে দুপুরে মিরপুর ১১ নম্বর সেকশনে বয়েজ বাংলা স্কুলের সামনের সড়কে পরীস্থান ও খাজাবাবা পরিবহনের দু’টি বেপরোয়া বাস পাল্লাপাল্লি করতে গিয়ে সংঘর্ষে জড়ায়। গাড়ি দু’টির দুর্ঘটনার কবলে পড়েছে একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা এবং একটি প্যাডেলচালিত রিকশাও। এতে অন্তত পাঁচজন আহত হন। তাদের মধ্যে দু’জনের অবস্থা গুরুতর।
বিশেষ সংবাদদাতা, কক্সবাজার জানান, কক্সবাজারের চকরিয়ায় ও টেকনাফ বাহারছড়া মেরিন ড্রাইভ এলাকায় পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় পাঁচজন নিহত হয়েছেন। এতে আরো ১৮ জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। ঈদের দ্বিতীয় দিনে গতকাল শুক্রবার বেলা ১১টায় ও দেড়টার দিকে পৃথক এই দুর্ঘটনা ঘটে। কক্সবাজার চট্টগ্রাম মহাসড়কের খুটাখালী মেধাকচ্ছপিয়া ঢালায় বাস-মাইক্রোবাস সংঘর্ষে ১ নারীসহ দু’জন নিহত হয়। এতে আহত হয়েছে আরো ৮ জন। তাদেরকে চকরিয়া উপজেলার বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। নিহতদের হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে। শুক্রবার বেলা পৌনে ১১টায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। দুমড়ে-মুচড়ে যাওয়া দুর্ঘটনাকবলিত গাড়ি দু’টি ঘটনাস্থলে রয়েছে। নিহত দু’জন হচ্ছেন উপজেলার খুটাখালী ইউনিয়নের উত্তর ফুলছড়ি গ্রামের খলিলুর রহমানের স্ত্রী রওশন আরা (৪২) ও ডুলাহাজারা ইউনিয়নের চা বাগান এলাকার দিপক পালের পুত্র সনাক পাল (২৭)।
অপরদিকে কক্সজার-টেকনাফ মেরিন ড্রাইভ সড়কে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে একটি মিনিট্রাক খাদে পড়ে তিনজন মারা গেছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরো ১০ জন। শুক্রবার বেলা দেড়টার দিকে টেকনাফের বাহারছড়া ইউনিয়নের নোয়াখালীপাড়া কচ্ছপিয়া এলাকায় দুর্ঘটনাটি ঘটে।
ফরিদপুর জেলা সংবাদদাতা জানান, পবিত্র ঈদুল ফিতরের দিন সকালবেলায় সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারালেন ছয়জন। এ সময় আহত হয়েছেন আরো অন্তত ২০ জন। বুধবার সকাল পৌনে ৭টার দিকে ফরিদপুর সদর উপজেলায় ধুলদী রেলগেট এলাকায় এ কে ট্রাভেলসের একটি যাত্রীবাহী বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে গাছের সঙ্গে ধাক্কা লাগলে এই হতাহতের ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেন- ঢাকা কলেজের দর্শন বিভাগের সম্মান প্রথম বর্ষের ছাত্র শাহরিয়ার আজাদ সৈকত (২০), গাড়ির চালক খুলনার দৌলতপুরের শুকুর আলী (৩৫), ফরিদপুরের মধুখালীর ছুরমান মোল্লা (৩২), আলফাডাঙ্গার শাহাবুদ্দিন মৃধা (৩৫) এবং মাগুরার শালিখার মালেক মাঝি (৪৮)। অন্যজনের নাম জানা যায়নি। আহতদের মধ্যে ১৩ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
স্টাফ রিপোর্টার গোপালগঞ্জ থেকে জানান, গোপালগঞ্জে পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় ৩ জন নিহত ও কমপক্ষে ৫ জন আহত হয়েছেন। গত সোমবার রাত ১০টা ৪০ মিনিটে ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার গোপীনাথপুর শরীফপাড়া নামক স্থানে মাইক্রোবাস ও মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে মোটরসাইকেল আরোহী কাশিয়ানী উপজেলার ঘোনাপাড়া গ্রামের মকিত মোল্লার ছেলে নয়ন মোল্লা (২৬) ও একই গ্রামের সৈয়দ লিটনের ছেলে সৈয়দ ওয়ালিদ (২২) নিহত হন। আহত মোটরসাইকেল চালক আরিফ শেখ (৩২)সহ ৪ জনকে গোপালগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অন্যদিকে মঙ্গলবার বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের গোপালগঞ্জ জেলার মুকসুদপুর উপজেলার গ্যাড়াখোলা ব্রিজের কাছে মাইক্রোবাস চাপায় মানিক শেখ (১৫) নামে এক মাদরাসাছাত্র নিহত হয়।
সেলিম আহমেদ, সাভার সংবাদদাতা জানান, ঢাকার ধামরাইয়ে বাস ও পিকআপ ভ্যানের মুখোমুখি সংঘর্ষে ৪ জন নিহত হয়েছে। এ ঘটনায় আহত হয়েছে আরো ৫ জন। গত সোমবার রাত সোয়া ৮টার দিকে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের কালামপুর বাসস্ট্যান্ড এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহতদের মধ্যে দু’জনের পরিচয় পাওয়া গেছে। তারা হচ্ছেন- মাগুরা জেলার সদর থানা এলাকার মেহেদী হাসান (২৮) ও রাজবাড়ী জেলা সদর থানার বরাটের কাচরন্দ্র গ্রামের আবদুর রাজ্জাকের ছেলে নজরুল ইসলাম (২৭)। অপর দু’জনের পরিচয় জানাতে পারেনি পুলিশ। এ দিকে ঢাকার সাভারের আশুলিয়ায় পুলিশ বহনকারী ব্যাটারি-চালিত অটোরিকশার সাথে লিচু বোঝাই ট্রাকের সংঘর্ষে নাদিম হোসেন নামের (২০) শিল্প পুলিশের এক কনস্টেবল নিহত হয়েছে। এ ছাড়া এই ঘটনায় আহত হয়েছেন শিল্প পুলিশের আরো ৩ সদস্যসহ ৪ জন। বুধবার ঈদের দিন সকালে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের আশুলিয়ার গণকবাড়ি এলাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটে।
বালাগঞ্জ (সিলেট) উপজেলা সংবাদদাতা জানান, সিলেটের ওসমানীনগরে সিলেটগামী শাহজালাল পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে পড়ে গেলে এক গৃহবধূ নিহত এবং অন্তত ৩০ যাত্রী আহত হয়েছেন। ঈতের আগের দিন মঙ্গলবার ভোরে উপজেলার ব্রাহ্মণ গ্রাম এলাকায় দুর্ঘটনাটি ঘটে। দুর্ঘটনায় নিহত গৃহবধূর নাম খুর্শেদা বেগম (২০)। তিনি সুনামগঞ্জের সদর থানার বেড়িগাঁও গ্রামের ফারুক মিয়ার স্ত্রী। এ ছাড়া আহতরা হচ্ছেন- হযরত আলী (৩০), ফারুক মিয়া (৩০), কামরুন নাহার (২৩) ও আবদুল (৮)।
বোরহানউদ্দিন (ভোলা) উপজেলা সংবাদদাতা জানান, ভোলার বোরহানউদ্দিনে যাত্রবাহী বাসের চাপায় মোটরসাইকেলের ২ আরোহী মো. রুবেল (২৮) ও মো. সোহাগ (২৫) নামের সহোদর ভাইয়ের মৃত্যু হয়েছে। বৃহস্পতিবার সোয়া দুইটার দিকে ভোলা-চরফ্যাশন সড়কের ইদারাহ মূল কেন্দ্র মাদরাসার নিকট ওই দুর্ঘটনা ঘটে। সোহাগ ও রুবেল দৌলতখান উপজেলার সৈয়দপুর ইউনিয়নের তিন নাম্বার ওয়ার্ডের আবুল কালামের ছেলে।
এ ছাড়া ঈদের দিন বুধবার লালমনিরহাটে যাত্রীবাহী লেগুনা নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে উল্টে গিয়ে তিন যাত্রী নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরো অন্তত আটজন। সকালে রংপুর-কুড়িগ্রাম মহাসড়কের লালমনিরহাট সদর উপজেলার বড়বাড়ি স্মৃতিসৌধে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
একই দিনে সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জে পৃথক তিনটি সড়ক দুর্ঘটনায় ট্রাকচালক ও হেলপারসহ তিনজন নিহত হয়েছেন। এসব ঘটনায় আহত হয়েছেন অন্তত ১৩ জন। সকাল থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত হাটিকুমরুল-বগুড়া মহাসড়কের ভুঁইয়াগাতী, তবারিপাড়া ও ষোল মাইল এলাকায় এসব দুর্ঘটনা ঘটে। একই সময়ে ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলায় মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় অজ্ঞাতপরিচয় দুই যুবক নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরো একজন। সকাল ১০টার দিকে উপজেলার খদ্দর খালিশপুর এলাকায় মোটরসাইকেলটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তার পাশে একটি গাছের সাথে ধাক্কা খেলে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
এ দিকে ঈদের দিন বুধবার নরসিংদীতে পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় তিনজন নিহতের খবর পাওয়া গেছে। এতে আহত হয়েছেন কমপক্ষে ১০ জন। দুপুরে সদর উপজেলার ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের মাধবদীর ভগিরথপুর-শিবপুর উপজেলার সিএনবি এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। ঢাকা-টাঙ্গাইল-বঙ্গবন্ধু সেতু মহাসড়কের কালিহাতী উপজেলার সল্লা এলাকায় পিকআপভ্যান-বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে দু’জন নিহত হয়েছেন। দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন আরো চারজন। দুপুরে এ দুর্ঘটনা ঘটে। ঈদে বন্ধুদের সঙ্গে ঘুরতে বেরিয়ে আর ঘরে ফেরা হলো না কলেজছাত্র তাওহিদুল ইসলামের (২২)। মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় ঝরে গেছে তার প্রাণ। দুপুর ২টায় বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলার নিয়ামতি ইউনিয়নের নিয়ামতি গ্রামে এ দুর্ঘটনা ঘটে। বাগেরহাট-পিরোজপুর মহাসড়কে দু’টি মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে দু’জন নিহত হয়েছেন। এতে রহিম শেখ (২৬) নামের আরো একজন গুরুতর আহত হয়েছেন। রাতে মহাসড়কের মোরেলগঞ্জ উপজেলার মহেশপুরা এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটনা ঘটে। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরে সড়ক দুর্ঘটনায় ইমন মিয়া (১৪) নামে এক কিশোর নিহত হয়েছে। বুধবার বিকেলে উপজেলার শ্রীরামপুর এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: ঈদ

১৩ জুন, ২০১৯

আরও
আরও পড়ুন