Inqilab Logo

ঢাকা, বৃহস্পতিবার ১৮ জুলাই ২০১৯, ০৩ শ্রাবণ ১৪২৬, ১৪ যিলক্বদ ১৪৪০ হিজরী।

রাজধানীর বিনোদন : কেন্দ্র ঈদ আনন্দের ভিড়

স্টাফ রিপোর্টার | প্রকাশের সময় : ৮ জুন, ২০১৯, ১২:০৪ এএম

ঈদুল ফিতরের তৃতীয় দিন ছিল গতকাল। ঈদের ছুটিতে দর্শনার্থীদের পদচারণায় মুখর রাজধানীর ও বিনোদন কেন্দ্রগুলো। পরিবার-পরিজন ও বন্ধু নিয়ে ভিড় করছেন অনেকে। দর্শনার্থীদের নিরাপত্তায় বিশেষ ব্যবস্থা রাখার কথা জানিয়েছে প্রশাসন ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী। ঈদের দিন বৈরী আবহাওয়ার কারণে ঢাকায় বেড়াতে পারেননি রাজধানীবাসী। বিনোদন কেন্দ্রগুলোয় উপচে পড়া ভিড় দেখা গেছে। শিশু-কিশোরদের সঙ্গে বাবা-মা বা আত্মীয়স্বজন ঈদের আনন্দ উদ্যাপন করতে বিনোদন কেন্দ্রগুলোয় ভিড় জমিয়েছিলেন। রাজধানীর মিরপুর জাতীয় চিড়িয়াখানা, জিয়া উদ্যাণ, হাতির ঝিল, শিশু পার্ক, লালবাগের কেল্লা ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি ও এর আশপাশ এলাকায়ও ভিড় করে অগণিত মানুষ। শ্যামলী শিশু পার্ক আর মিরপুরের জাতীয় চিড়িয়াখানায় ছিল প্রচন্ড ভিড়। বিকাল থেকে ভিড় বাড়ে হাতির ঝিল এলাকায়। গভীর রাত পর্যন্ত এখানে বিনোদনপ্রেমীদের পদচারণ লেগে ছিল।

গতকাল শুক্রবার আবহাওয়া ভালো থাকায় ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করার জন্য জাতীয় সংসদ ভবনের সাসন, জাতীয় চিড়িয়াখানায়, বিমান বাহিনী জাদুঘর, জিয়া উদ্যান, শ্যামলী শিশু মেলা, হাতির ঝিল, যুমনা ফিউচার পার্ক, রমনা পার্ক, টিএসসি মোড়, সহ বিভিন্ন বিনোদন কেন্দ্র ঘুরতে এসেছেন অনেকে।

গতকাল চিড়িয়াখানায় দেখা গেছে প্রবেশগেটে টিকেট কাটার লম্বা লাইন। টিকেট কেটে যারা ভেতরে প্রবেশ করতে পারছেন তাদের মুখে আনন্দের হাসি। মোহাম্মদপুর থেকে আসা ছাব্বি বলেন, এবার ঢাকায় প্রথম ঈদ করা হচ্ছে। তাই ছেলেমেয়েদের নিয়ে চিড়িয়াখানায় বেড়াতে এসেছি। রাস্তায় কোনো যানজট না থাকায় দ্রæত চিড়িয়াখানায় বেড়াতে আসতে পেরেছি। তবে ভিতরে ঘুরে অনেক মজা পেয়েছি। বাঘ, বানর, জিরাফসহ বিভিন্ন প্রাণীদের দেখে আমার ছেলে খুব মজা পেয়েছে। আর এতেই আমার ঈদের আনন্দ দ্বিগুণ হয়েছে।

রাব্বি নামের এক শিশু বলেন, বাঘ মামাকে দেখতে চিড়িয়াখানায় এসেছি। কিন্তু বাঘ মামাতো ঘুমিয়ে ছিলেন, তাই দেখতে পারিনি। তবে বানরদের সঙ্গে খুব মজা করেছি। নিজ হাতে কলা খাইয়েছি তাদের। রতনা নামের আরেক শিশু বলেন, সকাল থেকেই শিশুমেলায় ঘুরেছি। সেখান থেকে চিড়িয়াখানায় এসেছি। বাবা টিকেট কাটতে গেছে। আসলেই প্রবেশ করব। রতনার ববার রফিকুল বলেন, ঈদের দিন বৃষ্টির কারণে সকালে বাচ্চাদের নিয়ে বাহির হতে পারিনি। যাও বিকেলে শিশুপার্কে গিয়েছি কিন্তু গিয়ে দেখি বন্ধ। পরে মেয়েদের বাসায় নিয়ে চলে আসছি। গতকাল সকাল সকাল আবহাওয়া ভালো দেখে তাদের নিয়ে ঘুরতে বেরিয়েছি। সকালে প্রথমে শ্যামলী শিশু মেলায় গেছি। সেখান থেকে এখন চিড়িয়াখানায় এসেছি।

চিড়িয়াখানার নিরাপত্তাকর্মী শাহাজাহান বলেন, বৃহস্পতিবার লোক হয়নি। গতকাল অনেক মানুষ এসেছে। চিড়িয়াখানায় ভাল্লুক, জিরাফ, হাতি, হরিণ, ময়ূরসহ সব খাঁচার সামনেই ছিল দর্শনার্থীদের জটলা। বৃহস্পতিবার ও গতকাল শুক্রবার বিকালে রাজধানীর শাহবাগের জাতীয় জাদুঘর ও শিশু পার্কে ভিড় দেখা যায়। বেলা ৩টার দিকে জাদুঘরের গেট দর্শনার্থীদের জন্য খুলে দেওয়া হয়। এর অনেক আগে থেকেই গেটের সামনে ভিড় জমান অনেকে। কথা হয় রাজধানীর বসিলা থেকে লিওনের সঙ্গে। তিনি বলেন, অন্য সময়ে যানজটের কারণে ঝট করে ঘুরে যাওয়া হয় না। এখন ভিড় কম। ভোগান্তি কম। তাই এই সুযোগে ছেলেকে নিয়ে জাদুঘর দেখতে এসেছি।

পুরান ঢাকার লালবাগ কেল্লা অন্যতম দর্শনীয় স্থান। বিভিন্ন উৎসবে এখানে বিনোদনপ্রেমীর ঢল নামে। এবার ঈদেও এর ব্যতিক্রম হয়নি। শুক্রবার অসংখ্য নারী-পুরুষ ও শিশুকে লম্বা লাইনে দাঁড়িয়ে টিকিট কেটে লালবাগ কেল্লার ভিতরে প্রবেশ করতে দেখা যায়। দর্শনার্থীরা জানান,টিকিট কেটে ভিতরে প্রবেশ করে সবুজে ঘেরা বিশাল প্রান্তরে পরী বিবির সমাধি, দরবার হল, সুউচ্চ দুর্গ, হাম্মামখানা, পুকুর, ঝরনা, মসজিদ, বিভিন্ন ফুল ও ঘাসের গালিচায় হেসেখেলে ছবি তোলার সুন্দর জায়গা এটি।

যাত্রাবাড়ি থেকে আসা শিক্ষকা রিনা বেগম বলেন, অন্য দিন তো আর সুযোগ হয় না। এ কারণে ঈদের ছুটিতে দুই সন্তানকে দর্শনীয় এ স্থানে নিয়ে এসেছি, ঘুরছি। ভালো লাগছে। দর্শনার্থীদের আকৃষ্ট করতে ঈদের আগেই বিনোদন কেন্দ্রগুলো বাহারি সাজে সাজানো হয়। ঈদের দিন থেকে নির্মল আনন্দের স্বাদ নিতে নানা বয়সের মানুষ বেড়াতে আসেন বিনোদন কেন্দ্র গুলোতে।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: রাজধানী


আরও
আরও পড়ুন