Inqilab Logo

ঢাকা, রোববার ২১ জুলাই ২০১৯, ০৬ শ্রাবণ ১৪২৬, ১৭ যিলক্বদ ১৪৪০ হিজরী।

কেন্দুয়ায় গার্মেন্টস কর্মীকে গণধর্ষণ থানায় মামলা

তিন ধর্ষক গ্রেফতার

নেত্রকোনা জেলা সংবাদদাতা | প্রকাশের সময় : ৮ জুন, ২০১৯, ৫:৪৯ পিএম | আপডেট : ৬:১৯ পিএম, ৮ জুন, ২০১৯

ঈদে নিজ বাড়ি বেড়াতে এসে কথিত প্রেমিকের সাথে বেড়াতে গিয়ে গণধর্ষনের শিকার হওয়া গার্মেন্টস কর্মীর ধর্ষণ মামলায় ধর্ষক টিপু মিয়া (২৩), আনোয়ার (২৪) ও আমির হামজাকে (২৫) গ্রেফতার করেছে কেন্দুয়া থানা পুলিশ। গ্রেফতারকৃতরা হচ্ছে কেন্দুয়া উপজেলার কান্দিউড়া ইউনিয়নের বৈরাটি গ্রামের রঙ্গ মিয়ার ছেলে টিপু মিয়া, একই গ্রামের আব্দুল কাদিরের ছেলে আমির হামজা ও সবুজ মিয়ার ছেলে আনোয়ার।

কেন্দুয়া থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ রাশেদুজ্জামান জানান, ধর্ষিতা নিজেই বাদী হয়ে শুক্রবার দুপুরে কেন্দুয়া থানায় মামলা দায়ের করে। মামলার প্রেক্ষিতে পুলিশের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাগন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন এবং ভিকটিমকে সাথে কথা বলেন। এর পরপরই পুলিশ ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদঘাটনের জন্য তদন্তে নামে। তদন্ত কালে টিপু মিয়া, আনোয়ার ও আমির হামজার নাম নাম বেরিয়ে আসে।

পুলিশ তথ্য প্রযুক্তিকে কাজে লাগিয়ে শুক্রবার রাতে গুগবাজার এলাকা থেকে ধর্ষক টিপু মিয়াকে গ্রেফতার করে। তার দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে শনিবার বিকাল ৩টার দিকে ধর্ষক আনোয়ার ও আমির হামজাকে একই এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়। তাদেরকে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা ঘটনার সাথে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে। তারা আরো জানান, গামেন্টস কর্মীর কথিত প্রেমিকের নাম সুমন নয়। তার প্রকৃত নাম নুরে আলম। সে বৈরাটি গ্রামের আব্দুল হামিদ ওরফে শম্ভু মিয়ার ছেলে। নূরে আলম তার পরিচয় গোপন করে ওই নারীর সাথে সম্পর্ক গড়ে তোলে। তারা পরস্পর পরস্পরের বন্ধু। কথিত প্রেমিক সুমন ওরফে নুরে আলমকে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।

উল্লেখ্য, কেন্দুয়া উপজেলার মাস্কা গ্রামের উক্ত নারী গামেন্টর্স কর্মী সাথে পাশ^বর্তী মদন উপজেলার জাওলা গ্রামের সুমন নামে এক পুরুষ গামেন্টর্স কর্মী গাজীপুরস্থ একটি সোয়েটার কোম্পানিতে একসাথে চাকুরী করে আসছিল। তারা দুজনেই বিবাহিত হওয়ার পরও একই জেলার সুবাদে তাদের সাথে পরিচয় ও সখ্যতা গড়ে উঠে। ঈদের ছুটিতে তারা দুজনই নিজ নিজ বাড়িতে বেড়াতে আসে। ঈদের পরদিন বৃহস্পতিবার বিকালে সুমন জাওলা থেকে মোটর সাইকেলে মাস্কায় এসে নারী গামেন্টর্সকর্মীকে তাদের বাড়ীতে বেড়াতে নিয়ে যাওয়ার কথা বলে তুলে নেয়। মোটর সাইকেলে বিভিন্ন স্থানে ঘুরাঘুরি করে সন্ধ্যার পর গুগবাজার এলাকার শাপলা ইট খলার সামনে এসে গাড়ী নষ্ট হয়ে গেছে বলে নারী গামেন্টর্স কর্মীকে গাড়ী থেকে নামতে বলে। সে গাড়ী টিক করার কথা বলে কাকে যেনো মোবাইল করে। এ সময় ইটখলার ভেতর থেকে তিন যুবক এসে সুমন ও নারী গামেন্টর্সকর্মীকে ইটখলার ভেতরে নিয়ে গিয়ে সুমনের হাত বেঁধে নারী কর্মীকে তিন যুবক পালাক্রমে গণধর্ষণ করে। এরপর মেয়েটিকে একা ফেলে রেখে ওই তিন যুবকসহ সুমনও মোটর সাইকেল নিয়ে ঘটনাস্থল থেকে উধাও হয়ে যায়।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: গণধর্ষণ


আরও
আরও পড়ুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ