Inqilab Logo

ঢাকা, সোমবার ১৭ জুন ২০১৯, ৩ আষাঢ় ১৪২৬, ১৩ শাওয়াল ১৪৪০ হিজরী।

ডেঙ্গু প্রতিরোধে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে

| প্রকাশের সময় : ১০ জুন, ২০১৯, ১২:০৬ এএম

বর্ষা আসার আগেই ঢাকায় ডেঙ্গু জ্বরের প্রকোপ অস্বাভাবিক হারে বেড়ে গেছে। চলতি বছর ঢাকার সরকারী হাসপাতালগুলোতে আড়াই শতাধিক ডেঙ্গু রোগী ভর্তির তথ্য জানিয়েছে স্বাস্থ্য সেবা অধিদফতর। এর মধ্যে শুধুমাত্র মে মাসেই প্রায় দেড়শ ডেঙ্গু রোগী ভর্তির তথ্য জানা যায়। ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তির ক্ষেত্রে গত এক দশকের মধ্যে এটি সর্বোচ্চ রেকর্ড বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। কয়েক বছর আগে ঢাকায় ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়া রোগ বড় ধরনের আতঙ্ক হয়ে দেখা দিলে সরকারের তরফ থেকে ঢাকায় মশা নিধন এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধির উপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছিল। উল্লেখ্য, দেশের প্রায় সব শহরই মশাবাহিত রোগ ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়ার ঝুঁকিতে থাকলেও শুরু থেকে ঢাকাই হচ্ছে এসব রোগের উদ্ভবের স্থল। এক জরিপে দেখা যায়, ২০০০ সাল থেকে ২০০৯ সাল পর্যন্ত দেশের মোট ডেঙ্গু রোগির শতকরা ৯১ ভাগই ছিল ঢাকায়। ডেঙ্গু, চিকুনগুনিয়ার মত অপ্রচলিত রোগের আকষ্মিক প্রাদুর্ভাব ও মানুষের মৃত্যুর কারণে আতঙ্কজনক পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে মশক নিধন ও জনসচেতনতা সৃষ্টির ব্যাপক উদ্যোগের কথা শোনা গেলেও চলতি বাস্তবতা থেকে সহজেই আঁচ করা যায়, আদতে অবস্থার তেমন কোনো পরিবর্তন ঘটেনি।

ঢাকার পয়ো:ব্যবস্থা ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, পরিবেশ দূষণসহ নানাবিধ নাগরিক বিড়ম্বনায় মশার প্রাদুর্ভাব ও মশাবাহিত রোগ ব্যাধি এখন নাগরিক জীবনের জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবেশ দূষণ, ময়লা-আবর্জনার বিস্তার ও মশার বিড়ম্বনা বৃদ্ধি পারস্পরিক সম্পর্কযুক্ত বিষয়। সামগ্রিক পরিচ্ছন্নতা ও পরিবেশগত নিয়ন্ত্রণ ও নিরাপত্তা বিধানের ব্যবস্থা না করে বিচ্ছিন্নভাবে মশক নিধনের কর্মসূচি কখনো সফল হতে পারে না। প্রকাশিত তথ্যে জানা যায়, এডিস ইজিপ্টি ও এডিস অ্যালবোপিকটাস নামের দুই প্রজাতির মশা ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়ার মত রোগ ছড়ায়। এসব মশার বংশবৃদ্ধি ও বিস্তার লাভের কারণেই ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়ায় আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বেড়েছে। নগরীর সৌন্দর্য বৃদ্ধি ও মশক নিধনের উপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ এবং রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি থাকা সত্তে¡ও মশাবৃদ্ধি ও মশাবাহিত রোগের প্রাদুর্ভাব বৃদ্ধির বাস্তবতা থেকেই ঢাকার মশক নিধন, পরিবেশ ও পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিতে মেয়রসহ সরকারের সংশ্লিষ্টদের কোনো প্রতিশ্রুতিই পুরণ হয়নি। তবে সতের কোটি মানুষের দেশের রাজধানী ও প্রধান শহর, দুই কোটি মানুষের বাসস্থান ঢাকার জনস্বাস্থ্য ও নাগরিক নিরাপত্তার প্রশ্নটি শুধু রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতির বিষয় নয়। এটি নাগরিকদের নিরাপত্তা ও অধিকারের প্রশ্ন। নগরীর বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, পরিবেশগত নিরাপত্তা ও জনস্বাস্থ্য সম্পর্কে জনসচেতনতা ও নজরদারি নিশ্চিত করা না হলে এ থেকে উত্তরণের কোনো শর্টকাট রাস্তা নেই।

ঢাকার ১৯টি এলাকাকে ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়ার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করেছিল স্বাস্থ্য অধিদফতর। এসব এলাকার স্বাস্থ্যঝুঁকি নিরসনে কোনো বিশেষ ব্যবস্থা বা প্রকল্প গ্রহণ করেছে কিনা তা জানা যায়নি। তবে মশক নিধনের দায়িত্বে নিয়োজিত পুরনো প্রতিষ্ঠানগুলোও এখন অকার্যকর হয়ে পড়েছে। গতকাল একটি ইংরেজী দৈনিকে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে জানা যায়, ঢাকার নিবারণের প্রথম সরকারী প্রতিষ্ঠান হিসেবে ‘মশক নিবারণী দপ্তর’ ১৯৪৮ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। কালপরিক্রমা ও রাজনৈতিক পরিবর্তনের ধারাবাহিকতায় এই প্রতিষ্ঠানটিও সরকারী স্বীকৃতি ও কর্মপরিকাঠামোর আওতাভুক্ত হলেও আদতে এর কার্যক্রম অকার্যকর হয়ে পড়েছে। শহরের পরিধি ও জনসংখ্যার বিস্তৃতির প্রেক্ষাপটে মশক নিধনের মত কর্মসূচির আরো ব্যাপকতা বৃদ্ধির কথা থাকলেও বাস্তবে তা হয়নি। তবে ঢাকার দুই সিটি কর্পোরেশন এ খাতে বছরে শত শত কোটি টাকা ব্যয় করলেও এসব অর্থ অপচয়, অব্যবস্থাপনা ও অস্বচ্ছতায় লুটপাট হয়ে যাচ্ছে। শহরকে পরিচ্ছন্ন, পরিবেশবান্ধব ও বাসযোগ্য করে তোলার জন্য টেকসই উন্নয়নের মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন ছাড়া মশা, ডেঙ্গু-চিকুনগুনিয়ার মত জনস্বাস্থ্যের হুমকির স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়। তবে ক্রমবর্ধমান ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়া রোগীর প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিত করার কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে। হাসপাতালগুলোতে এসব রোগের বিশেষায়িত চিকিৎসা নিশ্চিত করার পাশাপাশি মশক নিধন ও মশার উৎপত্তিস্থল সম্পর্কে জনসচেতনতা সৃষ্টির সামাজিক উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে। স্থানীয় প্রশাসনের প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা এবং নাগরিকদের সচেতন উদ্যোগ ছাড়া নাগরিক শৃঙ্খলা, পরিচ্ছন্নতা, মশক নিধন ও জনস্বাস্থ্যের হুমকিসমূহ মোকাবেলা করা সম্ভব নয়।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

আরও পড়ুন