Inqilab Logo

ঢাকা, বুধবার ১৭ জুলাই ২০১৯, ০২ শ্রাবণ ১৪২৬, ১৩ যিলক্বদ ১৪৪০ হিজরী।

ওসিকে পালানোর সুযোগ দেয়া হয়েছে : টিআইবি

স্টাফ রিপোর্টার | প্রকাশের সময় : ১০ জুন, ২০১৯, ১২:০৫ এএম

ফেনীর নুসরাত হত্যাকান্ডে বিতর্কিত ভূমিকার জন্য সমালোচিত সোনাগাজী থানার সাবেক ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোয়াজ্জেম হোসেন গ্রেফতারি পরোয়ানা মাথায় নিয়েই পালিয়ে যাওয়ায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। গতকাল রোববার এক বিবৃতিতে সংস্থাটি বলেছে, এ ঘটনায় নুসরাত হত্যাকান্ডে ওই পুলিশ কর্মকর্তার ভূমিকার সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিতে পুলিশ কর্তৃপক্ষের সদিচ্ছা নিয়েই প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক।

ওসি মোয়াজ্জেমকে কি পালিয়ে যাওয়ার সুযোগ করে দেয়া হয়েছে? এটা দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে রীতিমতো অশনি সঙ্কেত। টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবর থেকে আমরা জেনেছি, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে ওসি মেয়াজ্জেমের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের পর ফেনী পুলিশ সুপার কার্যালয় হয়ে রংপুর রেঞ্জে পৌঁছাতে এক সপ্তাহেরও বেশি সময় লেগে যায়। এখন আবার রংপুর রেঞ্জ বলছে, কাজটি বিধি মোতাবেক হয়নি। এই সুযোগে ওসি মোয়াজ্জেম হোসেন ‘পালিয়ে গেলেন’ বলা হচ্ছে। ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে সাধারণ নাগরিকদের ক্ষেত্রে যেখানে গ্রেফতারি পরোয়ানা ছাড়া আটক করাই স্বাভাবিক; সেখানে বহুল আলোচিত একটি মামলার ক্ষেত্রে পুলিশ প্রশাসনের দায়িত্ব পালনে এ ধরনের দৃশ্যমান ব্যর্থতার ফলে যৌক্তিকভাবেই নুসরাত হত্যাকান্ডে সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিতে পুলিশের সদিচ্ছা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

এর আগে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)-এর দেয়া অভিযোগপত্র থেকে সোনাগাজী থানার তৎকালীন ওসির অব্যাহতিও প্রশ্নবিদ্ধ ছিল উল্লেখ করে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক বলেন, নুসরাত হত্যাকান্ডকে ‘আত্মহত্যা বলে ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টা’ এবং ‘হত্যাকারীদের সুরক্ষা প্রদানে যোগসাজশের’ সুনির্দিষ্ট অভিযোগ থাকার পরও অভিযোগপত্রে তাকে অব্যাহতি দেয়ার কোনো যুক্তিগ্রাহ্য কারণ রয়েছে কি না, বা আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সদস্য হওয়ায় তাকে দায়মুক্তি দেয়া হচ্ছে কি না- আমরা সেই প্রশ্ন তুলেছিলাম। এখন তার পালিয়ে যাওয়ার খবরে আমাদের সেই আশঙ্কা আরো জোরালো হলো। ঘটনাপ্রবাহ থেকে তাকে কার্যত পালিয়ে যাওয়ার সুযোগ করে দেয়া হয়েছে কি না এমন প্রশ্ন ওঠা খুবই স্বাভাবিক।

নুসরাত হত্যাকান্ডে স্থানীয় পুলিশ বাহিনীর ভূমিকা নিয়ে আবারও বিচার বিভাগীয় তদন্তের দাবি জানিয়ে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক বলেন, দেশে নারী ও শিশুর প্রতি সহিংসতা গভীরতম উদ্বেগজনক পর্যায়ে পৌঁছে গেছে। এমন অবস্থায় পুলিশ বাহিনীর কর্মকান্ডে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা না গেলে দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকার ভূলুণ্ঠিত হবে। তাই ওসি মোয়াজ্জেমকে দ্রুত আটক করে বিচারের মুখোমুখি করার পাশাপাশি নুসরাতের নৃশংস হত্যাকান্ডের ঘটনায় দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগের নিরপেক্ষ বিচার বিভাগীয় তদন্তের বিকল্প নেই।



 

Show all comments
  • MD Alomgir Hossin Alomgir ১০ জুন, ২০১৯, ১:১৮ এএম says : 0
    এটা নিশ্চিত সৈরাচার সরকারের পৃষ্ঠপোষকতায় হয়তো ভারতে চলেগেছে।না হয় দেশেই আত্ম গোপনে আছে
    Total Reply(0) Reply
  • Mahibur Rahman ১০ জুন, ২০১৯, ১:১৮ এএম says : 0
    Passport sara chole gache
    Total Reply(0) Reply
  • Salah Ahmedi ১০ জুন, ২০১৯, ১:১৮ এএম says : 0
    Police parena ba parbena amon kaj nai.chiruni ovijan chalaite hobe 07 days lagbe arrest korte jodi antorik vabe chay
    Total Reply(0) Reply
  • Billal Hossain ১০ জুন, ২০১৯, ১:১৮ এএম says : 0
    একটা নাটক সাজিয়েছে ওকে সরকার আত্মগোপনে রেখেছে তা না হলে পাসপোর্ট ছাড়া কোথায় গেল। আর যদি পাসপোর্ট নিয়ে যায় তাহলে কিসের জন্যে এয়ারপোর্ট থেকে তাকে ছেড়ে দিল
    Total Reply(0) Reply
  • Younus Bhuiyan ১০ জুন, ২০১৯, ১:১৯ এএম says : 0
    এটা কোন ব্যপার না আজব সরকার দেশ চালাইতেছে!!এর চেয়ে আর ভালো আশা করার কি আছে?
    Total Reply(1) Reply
    • abdul ১০ জুন, ২০১৯, ৯:৫২ এএম says : 0
      Good for countrywide peoples ,
  • Gafur Miah ১০ জুন, ২০১৯, ১:১৯ এএম says : 0
    যদি পালিয়ে থাকে তাহলে সরকারের সহযোগিতায় পালাইছে। এই দায়ভার সরকারকে বহন করতে হবে
    Total Reply(0) Reply
  • Jahid Hasan ১০ জুন, ২০১৯, ১:১৯ এএম says : 0
    দেশ এখন যাদের অধিনে আছে তাদের দিয়া সবই সম্ভব
    Total Reply(0) Reply
  • Siraj Haque ১০ জুন, ২০১৯, ১:১৯ এএম says : 0
    ওসি পালিয়ে গেলে আদালত ঐ জেলার এসপিকে নির্দেশ দিক ২৪ ঘন্টার মধ্যে ওসিকে আদালতে হাজির করতে অন্যথায় এসপিকে সাসপেন্ড করার জন্য আইজিপিকে নির্দেশ দিক।
    Total Reply(0) Reply
  • mohammad Sirajullah ১০ জুন, ২০১৯, ১:৫৩ এএম says : 0
    It is obvious that Police administration is involved in covering up their colleague and doing various "TAL BAHANA".
    Total Reply(0) Reply
  • habib ১০ জুন, ২০১৯, ৯:২৫ এএম says : 0
    Awamlegue parena emon kono kaz nai.....
    Total Reply(0) Reply

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

আরও পড়ুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ