Inqilab Logo

ঢাকা, রোববার ২১ জুলাই ২০১৯, ০৬ শ্রাবণ ১৪২৬, ১৭ যিলক্বদ ১৪৪০ হিজরী।

গাইবান্ধায় অস্ত্র মামলায় সাবেক সাংসদ কাদের খানের যাবজ্জীবন কারাদন্ড

গাইবান্ধা থেকে স্টাফ রিপোর্টার | প্রকাশের সময় : ১১ জুন, ২০১৯, ৩:০০ পিএম

অবৈধভাবে অস্ত্র রাখার দায়ে গাইবান্ধা-১ (সুন্দরগঞ্জ) আসনের জাতীয় পার্টির সাবেক সাংসদ কর্ণেল (অব.) আবদুল কাদের খানের যাবজ্জীবন কারাদন্ড দিয়েছেন গাইবান্ধা স্পেশাল ট্রাইব্যুনাল-১ এর আদালত। এ ছাড়া অবৈধভাবে গোলাবরুদ রাখার দায়ে একই আদালত কাদের খানের আরও ১৫ বছরের সশ্রম কারাদন্ডের আদেশ দেন। আজ মঙ্গলবার দুপুরে ওই আদালতের বিচারক দীলিপ কুমার ভৌমিক এই রায় দেন। এসময় আবদুল কাদের খান আদালতে উপস্থিত ছিলেন। রাষ্ট্রপক্ষের কৌশুলি শফিকুল ইসলাম জানান, আদালতে উভয় অপরাধ প্রমাণিত হওয়ায় বিজ্ঞ বিচারক এই রায় দেন। কাদের খান একই আসনের আওয়ামী লীগ দলীয় সাংসদ মনজুরুল ইসলাম লিটন হত্যা মামলার প্রধান আসামি।
মামলার বিবরণে উল্লেখ করা হয়, ২০১৬ সালের ৩১ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় সুন্দরগঞ্জের সর্বানন্দ ইউনিয়নের উত্তর সাহাবাজ মাষ্টারপাড়া গ্রামের নিজ বাড়িতে কয়েকজন দুর্বৃত্তের হাতে গুলিবিদ্ধ হন গাইবান্ধা-১ (সুন্দরগঞ্জ) আসনের আওয়ামী লীগ দলীয় তৎকালীন সাংসদ মনজুরুল ইসলাম লিটন। পরে তাকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে রাতেই চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। পরদিন ১ জানুয়ারি মনজুরুল ইসলাম লিটনের বড় বোন ফাহমিদা বুলবুল কাকলী বাদী হয়ে ৪-৫ জনকে অজ্ঞাত আসামী করে সুন্দরগঞ্জ থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। এই হত্যা মামলার তদন্তে সাবেক সাংসদ কর্নেল (অব.) আবদুল কাদের খানকে মূল হোতা ও পরিকল্পনাকারি হিসেবে চিহ্নিত করা হয়।
সাংসদ মনজুরুল ইসলাম হত্যার মূল পরিকল্পনকারী হিসেবে গত ২০১৭ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি বগুড়া শহরের বাসা থেকে গ্রেপ্তার করা হয় অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তা কাদের খানকে। পরদিন ২২ ফেব্রুয়ারি গাইবান্ধার আদালতে তাঁকে হাজির করে ১০ দিনের রিমান্ডে নেয় পুলিশ। ওইদিন রাতেই কাদের খানকে সঙ্গে নিয়ে সুন্দরগঞ্জ উপজেলার ছাপরহাটি ইউনিয়নের পশ্চিম ছাপরহাটি খানপাড়ার তার নিজের বাড়ি থেকে একটি পিস্তল ও ছয় রাউন্ড গুলিসহ একটি ম্যাগজিন উদ্ধার করে পুলিশ। এই ঘটনায় ২৩ ফেব্রুয়ারি সুন্দরগঞ্জ থানার তৎকালীন পরিদর্শক আবু হায়দার মো. আশরাফুজ্জামান বাদি হয়ে একটি মামলা দায়ের করেন। অবৈধভাবে অস্ত্র, গোলাবারুদ, ম্যাকজিন রাখার দায়ে অস্ত্র আইনে এই মামলা দায়েল করা হয়। ২৫ ফেব্রুয়ারি আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়।
এদিকে এই মামলায় ১৮ জন সাক্ষী সাক্ষ্য প্রমান দেন। সাক্ষী প্রমাণে দোষী সাব্যস্ত হওয়ায় বিচারক এই রায় দেন।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

আরও পড়ুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ