Inqilab Logo

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৭ অক্টোবর ২০১৯, ০২ কার্তিক ১৪২৬, ১৭ সফর ১৪৪১ হিজরী

অতি উৎসাহি পুলিশ বটে !

মংলা সংবাদদাতা | প্রকাশের সময় : ১২ জুন, ২০১৯, ৬:০৯ পিএম

পুলিশ নিজে অতি উৎসাহি হয়ে কল্পকাহিনী সৃষ্টি করে আমাকে সাক্ষী করেছেন। আমি এ বিষয়ে কিছুই জানি না, তাই আমার সাক্ষী দেয়ার তো প্রশ্নই আসেনা, আমি কি সাক্ষী দিবো। আমি উল্টো আদালতে এই পুলিশ কর্মকর্তা বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য অনুরোধ করবো ।এমনটাই জানালেন আঃ রহিম নামের এক লোক । মংলায় জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে এক মুক্তিযোদ্ধার সন্তানকে তার ভিটেমাটি থেকে উচ্ছেদের উদ্দেশ্যে একটি মিথ্যা মামলা দিয়ে অহেতুক হয়রানীর অভিযোগ উঠেছে প্রতিপক্ষ প্রতিবেশীর বিরুদ্ধে। সেই মামলায় পুলিশের ভূমিকায় এমন প্রতিক্রিয়া জানান তিনি ।


খোঁজ খবরে জানা গেছে, পৌরসভার ২ নং ওয়ার্ডের কুমারখালী গ্রামের মৃত ফুলমিয়া মীরের ছেলে মোঃ ইসমাইল মীর দীর্ঘদিন ধরে তার প্রতিবেশী মুক্তিযোদ্ধা মকবুল হোসেনের পুত্র মনির শেখের জমি দখলের পায়তারা চালিয়ে আসছে। পায়তারা স্বরুপ গত বছরের ১০ নভেম্বর ইসমাইল তার খামার বাড়িতে চুরি হয়েছে অভিযোগ তুলে প্রতিবেশী মনিরের বিরুদ্ধে থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলা নং-০১, তারিখ-০১/১২/২০১৮ইং। মামলায় তিনি উল্লেখ করেন, তার খামার বাড়িতে রাখা সাড়ে ৯ ভরি স্বর্ণ ও নগদ ৩ লক্ষ ৬৫ হাজার টাকা রাখা ছিল, যা চুরি হয়েছে। তার দাবী অনুযায়ী চুরির ঘটনা সংগঠিত হওয়ার ২১ দিন পর ইসমাইল মীর বাদী হয়ে থানায় মামলাটি করেন। তদন্ত শেষে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই মোঃ সেলিম হোসেন চলতি বছরের ৩০ এপ্রিল বাগেরহাটের বিজ্ঞ আদালতে মনির হোসেনের নামে অভিযোগ পত্র দাখিল করেন। এজাহারে মনির হোসেনের স্ত্রী মরিয়ম বেগমের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে । অভিযোগ পত্রের সাথে মামলার আইও এসআই মো: সেলিম ৫ জন স্বাক্ষীর স্বাক্ষ্য ১৬১ ধারায় জবানবন্দি রেকর্ড করেন। স্বাক্ষীদের মধ্যে ৪ জন স্বাক্ষীর রেকর্ডে দেখা যায় তারা চুরির বিষয়টি অন্যের মুখে শুনেছেন মাত্র এরচেয়ে বেশি কিছু জানেন না তারা। অপর স্বাক্ষী মোঃ আঃ রহিম তিনিও কিছু জানেন না। রহিম বলেন, পুলিশ অহেতুক তার নাম জড়িয়ে কল্পকাহিনী সৃষ্টি করে তাকে স্বাক্ষী করেছেন। তিনি আরো বলেন, যেহেতু আমি এ বিষয়ে কিছুই জানি না, সেহেতু আমার স্বাক্ষী দেয়ার তো প্রশ্নই আসেনা, আমি কি স্বাক্ষী দিবো।

ভুক্তভোগী মনিরের শিশু পুত্র নিয়ামুল ইসলাম মাহি বলেন, আমি মংলা টি,এ ফারুক স্কুলে ৫ম শ্রেণীতে পড়তাম। কিন্তু স্কুলে যাওয়ার পথে প্রতিপক্ষের লোকজন কুকুর লেলিয়ে দিয়ে ও পথরোধ করে স্কুলে যাওয়া বন্ধ করে দেয়। এরপর আমি অন্য স্কুলে ভর্তি হই। একই কথা বলেন, মনিরের অনার্স পড়–য়া কন্যা মনিয়া তাঞ্জুম মীম। মীম বলেন, ইসমাইলের সহযোগী সালাম, সালেহা, হাসনাসহ বেশ কয়েক ব্যক্তি তাকে অপহরণের চেষ্টা ও ভয়ভীতি দেখিয়ে আসছে।
প্রতিপক্ষের মামলা ও হয়রানীর শিকার মনির শেখ বলেন, আমার জায়গা জমি থেকে উচ্ছেদ ও দখলের উদ্দেশ্যেই ইসমাইল মীর মিথ্যা চুরির সাজিয়ে আমার নামে মামলা দিয়ে হয়রানী করছে। আমি প্রতিকার চাই। এ ব্যাপারে ইসমাইল মীরের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে (মোবাইল নং ০১৭১০-৯০০১৮৬) তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

পৌরসভার ২ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর মো: হাবিবুর রহমান বলেন, ইসমাইল মীর তার পরিবার নিয়ে আলাদা বাড়ীতে থাকেন। খামার বাড়ীতে তো থাকেন না। সেখানে মাঝে মধ্যে আসেন। সেখান থেকে যে স্বর্ণালংকার চুরি হয়েছে এটি বিশ্বাস যোগ্য নয়। এটি পরিকল্পিত যড়যন্ত্র ছাড়াই কিছু না। নিজ বাড়ী ঘর রেখে কেউই কি খামার বাড়ীতে স্বর্ণালংকার ও নগদ টাকা পয়সা রাখে।
তবে ভুয়া স্বাক্ষী সাজিয়ে মামলার চার্জশিট দাখিলকারী তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই মোঃ সেলিম হোসেন বলেন, তারা আগে চুরির বিষয়ে আমার কাছে স্বাক্ষী দিয়েছেন, এখন যদি তারা উল্টে যান সেক্ষেত্রে আমার কি করার আছে। এছাড়া খামার বাড়ী (মৎস্য খামার) থেকে স্বর্ণালংকার ও টাকা পয়সা চুরির বিষয়টি রহস্যজনক কিনা এমন প্রশ্নের জবাব না দিয়ে তিনি বিষয়টি এড়িয়ে যান।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: পুলিশ

১২ অক্টোবর, ২০১৯
১২ সেপ্টেম্বর, ২০১৯

আরও
আরও পড়ুন