Inqilab Logo

ঢাকা, সোমবার ১৭ জুন ২০১৯, ৩ আষাঢ় ১৪২৬, ১৩ শাওয়াল ১৪৪০ হিজরী।

কুমিল্লার বুড়িচং এ দুই ছাত্রলীগ নেতাকে কুপিয়ে জখম

কুমিল্লা সংবাদদাতা | প্রকাশের সময় : ১২ জুন, ২০১৯, ৯:২৪ পিএম

কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার ষোলনলে গ্রামে রাতের অন্ধকারে ছাত্রলীগ নেতা সোলায়মানসহ দুইজনকে কুপিয়ে হত্যার চেষ্টা করে সন্ত্রাসীরা।

মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে ভরাসার বাজার থেকে বাড়ি ফেরার পথে ছয়ঘড়িয়া ঈদগাহের পাশে সিরাজ ইসলাম মেম্বারের বাড়ির সামনে এ ঘটনা ঘটে।

আহতরা হলেন ষোলনল গ্রামের শাহজালাল মিয়ার ছেলে সোলায়মান ও একই গ্রামের মৃত সবুর খানের ছেলে। সোলায়মানবুড়িচং উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ষোলনল ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি প্রার্থী।

আহতদের পরিবারের লোকজন জানায়, পূর্ব শত্রুতার জেরে সন্ত্রাসী সিরাজ ইসলাম মেম্বারের নেতৃত্বে মমিন, হালু, খায়েরসহ তার বাহিনীর ভাড়াটে সন্ত্রাসীদের এলোপাতাড়ি কোপের আঘাতে গুরুতর আহত হয় ছাত্রলীগ নেতা সোলায়মান ও আরজু।

পরে স্থানীরা আহতদের উদ্ধার করে কুমেক হাসপাতালে নিয়ে গেলে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে উন্নত চিকিৎসার জন্য আহতদের ঢাকায় রেফার্ড করে চিকিৎসকরা। দুজনই বর্তমানে ধানমন্ডি নর্দান হাসপাতালের আইসিইউতে আশংকাজনক অবস্থায় ভর্তি রয়েছে।

জানা গেছে, গত কিছুদিন আগে পাওনা টাকার জন্য ষোলনল ইউপির ৬নং ওয়ার্ডের সদস্য সিরাজুল ইসলামকে গালাগাল করে মোটরসাইকেল আটকে রাখে ছাত্রলীগ নেতা সোলায়মান। পরে টাকা দেয়ার শর্তে স্থানীয়ভাবে মিমাংসা হয় বিষয়টি।

এর জের ধরেই পরিকল্পিতভাবে মঙ্গলবার রাত ১০টায় ছয়ঘরিয়া এলাকায় সিরাজ মেম্বারের বাড়ির সামনে এ হামলা চালায় সিরাজ মেম্বার ও তার ভাড়াটে বাহিনীর সদস্যরা।

থানায় খোঁজ নিয়ে এবং স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সিরাজ মেম্বার এলাকায় ডাকাতিসহ নানা অপকর্মের সঙ্গে জড়িত।

ষোলনল এলাকার বাসিন্দা মাহবুব, শাওন এবং সোলেমানের মা ও চাচা জানান, একাধিক মামলার আসামি সিরাজ একসময় পেশাদার ডাকাত হিসেবে এলাকায় পরিচিত। একাধিকবার র‌্যাব, ডিবি ও পুলিশের হাতে আটক সিরাজের অপকর্মে বাঁধা দেয়া ও প্রতিবাদ করাই কাল হয়ে দাঁড়িয়েছে সোলেমানের জন্য।

স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগ নেতা মো. সিরাজুল ইসলাম বলেন, আমি এঘটানার তীব্র নিন্দা প্রতিবাদ জানাই। ছাত্রলীগ নেতা সোলায়মান এবং আরজুর ওপর সন্ত্রাসী হামলাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করছি।

এসব বিষয়ে সিরাজ মেম্বার মোবাইল ফোনে জানান, সোলায়মান দীর্ঘ কয়েক মাস ধরে আমার নিকট চাঁদা দুই লাখ টাকা দাবি করে আসছে। এজন্য বিভিন্ন সময় টাকার জন্য চাপ সৃষ্টি করতো।

গত দেড় মাস আগে সোলেমান টাকা না দেয়ায় আমার মোটরসাইকেল নিয়ে যায়। যার কারণে আমি বুড়িচং থানা একটি অভিযোগ দায়ের করি।

সোলায়মানের ওপর সন্ত্রাসী হামলার বিষয়ে বলেন, মঙ্গলবার রাত ১১টার দিকে ৩-৪টি মোটরসাইকেল যোগে ৭-৮ জন লোকজন এসে আমার দোকানে হামলা চালায়। তখন আমরা পাল্টা হামলা করি। এতে সোলেমানসহ দুইজন আহত হয়। এ ঘটনার পর সোলায়মানের লোকজন আমার বাড়িঘরে হামলা চালায় এবং ভাংচুরসহ নগদ টাকা লুট করে নিয়ে যায়।

এ বিষয়ে সিরাজ মেম্বারের মা রাহেলা বেগম ও তার স্ত্রী কোহিনূর আক্তার বলেন, রাত ১১টার দিকে সোলায়মানের লোকজন আমাদের বাড়িতে এসে ভাংচুর ও লুটপাট করে। এসময় তারা ৫ ভরি স্বর্ণালংকার নগদ ৫ লাখ টাকা নিয়ে যায়।

এ বিষয়ে বুড়িচং উপজেলা যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান বিল্লাল হোসেন বলেন, হত্যার উদ্দেশ্যেই তার ওপর পরিকল্পিত ভাবে এ হামলা চালানো হয়েছে।

বুড়িচং থানার ওসি আকুল চন্দ্র বিশ্বাস বলেন, ঘটনার খবর পেয়ে সঙ্গে সঙ্গে আমি নিজে ফোর্স নিয়ে ঘটনাস্থলে যাই। ঘটনাস্থলে আসামিদের কাউকে পাওয়া যায়নি। ঘটনার পরপর উত্তেজনাকর পরিস্থিতি ও অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা এড়াতে বুধবার ভোররাত পর্যন্ত এলাকায় পুলিশ অবস্থান নেয়।

তিনি বলেন, এ বিষয়ে সোলায়মানের পরিবার বাদী হয়ে উল্লেখিত মামলা দায়ের করেছে। আসামিদের ধরতে অভিযান চলছে।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

আরও পড়ুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ