Inqilab Logo

ঢাকা, সোমবার ১৭ জুন ২০১৯, ৩ আষাঢ় ১৪২৬, ১৩ শাওয়াল ১৪৪০ হিজরী।

ইন্দো-প্যাসিফিক ইস্যুতে একমত ঢাকা-ওয়াশিংটন

কূটনৈতিক সংবাদদাতা | প্রকাশের সময় : ১৩ জুন, ২০১৯, ১২:০৪ এএম

অংশীদারিত্ব সংলাপে একটি স্থিতিশীল ও সমৃদ্ধ ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলকে এগিয়ে নিতে নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা এবং দেশগুলোর জনগণের পরস্পরের মধ্যে সম্পর্ক জোরদারে কাজ করতে একমত হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও বাংলাদেশ। দুই দেশের মধ্যে গত ১০ জুন অনুষ্ঠিত ৭ম অংশীদারিত্ব সংলাপে এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। ওই সভায় দুদেশের সরকার একটি অবাধ, উন্মুক্ত, অন্তর্ভুক্তিমূলক, শান্তিপূর্ণ ও নিরাপদ ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলের বিষয়ে অভিন্ন লক্ষ্যকে এগিয়ে নিতে ঘনিষ্ঠ সহযোগিতা চালাতে একমত হয়।
গত ১০ জুন ওয়াশিংটন ডিসিতে অনুষ্ঠিত ওই সভায় সভাপতিত্ব করেন পররাষ্ট্রসচিব মো. শহীদুল হক এবং যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতি বিষয়ক আন্ডার সেক্রেটারি অব স্টেট ডেভিড হেইল। ঢাকার যুক্তরাষ্ট্র মিশন থেকে গতকাল বুধবার ‘যুক্তরাষ্ট্র-বাংলাদেশ অংশীদারিত্ব সংলাপ বিষয়ক যৌথ বিবৃতি’ শীর্ষক এক বার্তায় এই তথ্য জানান হয়।
বার্তায় বলা হয়, সভায় দুই নেতা সন্ত্রাসবাদের অব্যাহত চ্যালেঞ্জ এবং নিরাপত্তাগত লক্ষ্য পূরণের প্রচেষ্টার পাশাপাশি মানবাধিকার বিষয়ক বাধ্যবাধকতাগুলো মেনে চলার গুরুত্বের বিষয়ে একমত হন। যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশকে দুদেশের মধ্যে বিনিময় হওয়া গোপনীয় সামরিক তথ্যের সুরক্ষার বিষয়ে আলোচনা অব্যাহত রাখার অনুরোধ করে। বাংলাদেশ এ আলোচনার ধারা অব্যাহত রাখতে আগ্রহ প্রকাশ করে।
সভায় যুক্তরাষ্ট্র কংগ্রেসের অনুমোদন সাপেক্ষে বঙ্গোপসাগর অঞ্চলে সমুদ্রসীমা বিষয়ক সচেতনতা বৃদ্ধি, জলদস্যুতা প্রতিরোধ এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা বিষয়ে সমন্বয়ের জন্য বাংলাদেশকে নিরাপত্তা সহায়তা বৃদ্ধি করার অঙ্গীকার করে। যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বব্যাপী শান্তিরক্ষা অভিযানে বাংলাদেশের শীর্ষস্থানীয় ভূমিকার প্রশংসা করে। দুই প্রতিনিধি দল একটি অপারেশনাল-লেভেল আনম্যানড এয়ারক্র্যাফট সিস্টেম (ইউএএস) বিষয়ক যৌথ অঙ্গীকারও এসময় তুলে ধরে। জাতিসংঘ বাহিনীতে সেনা সরবরাহকারী দেশ হিসেবে বাংলাদেশ এবং সক্ষমতা গঠনে সহায়তাকারী হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র এতে যৌথভাবে ভূমিকা রাখবে। ২০১৯ সালের মার্চে নিউ ইয়র্কে জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা বিষয়ক মন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকে ওই অঙ্গীকার করা হয়েছিল।
মিয়ানমার থেকে আসা দশ লাখের বেশি শরণার্থীকে অব্যাহতভাবে আশ্রয় দিয়ে যাওয়ায় যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের আন্তরিকতার প্রশংসা করে। বাংলাদেশও যুক্তরাষ্ট্রকে তার অব্যাহত সহায়তার জন্য ধন্যবাদ জানায়। যুক্তরাষ্ট্রের এ সহায়তার মধ্যে রয়েছে ২০১৭ সালের আগস্ট থেকে বাংলাদেশ ও মিয়ানমারকে মানবিক সহায়তা হিসেবে দেওয়া ৪৯ কোটি ৪০ লাখ ডলারের বেশি অর্থ সহায়তা।
দুই সরকার সমস্যার মূল কারণ সমাধান করা এবং রোহিঙ্গাদের স্বেচ্ছামূলক, নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসই প্রত্যাবাসনের পরিবেশ সৃষ্টি করার অতীব প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেয়। যুক্তরাষ্ট্র জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুতর শিকার হয়ে সাময়িকভাবে বাংলাদেশে বসবাসরত রোহিঙ্গাদের জন্য আরও সহায়তার ব্যবস্থা করার প্রচেষ্টায় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে যুক্ত করার অঙ্গীকার করে। যুক্তরাষ্ট্র ও বাংলাদেশ সরকার শরণার্থী রোহিঙ্গা ও তাদের আশ্রয় দেওয়া স্থানীয় জনগোষ্ঠীকে সহায়তাদান অব্যাহত রাখা ও এ সঙ্কট সমাধানের জন্য মিয়ানমারের ওপর কার্যকর চাপ সৃষ্টি করতে জাতিসংঘ ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়সহ বিশ্ব সম্প্রদায়ের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করে যেতে সম্মত হয়।
যুক্তরাষ্ট্র ও বাংলাদেশ প্রতিনিধি দল মত প্রকাশ ও সভা-সমাবেশের অধিকার সম্পর্কিত বিভিন্ন বিষয়েও আলোচনা করে। বাংলাদেশ পক্ষ আইনের শাসনের প্রতি তাদের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে এবং বাংলাদেশ সরকার মানবাধিকার ও দুর্নীতিবিরোধী ব্যবস্থার ওপর জোর দেবে- এ মর্মে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেওয়া ঘোষণা জোরালোভাবে তুলে ধরে। যুক্তরাষ্ট্র মানবাধিকারের সুরক্ষাদান ও মানবপাচার প্রতিরোধ করায় প্রচেষ্টা জোরদার করার জন্য বাংলাদেশকে তাগিদ দেয় এবং ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের কতিপয় ধারা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে। যুক্তরাষ্ট্র সরকার বাংলাদেশে ২০১৮ সালের শেষদিকে মানবপাচার বিষয়ক জাতীয় কর্মপরিকল্পনা গৃহীত হওয়ার বিষয়টিকে স্বাগত জানিয়ে এটি বাস্তবায়নের তাগিদ দেয়।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

আরও পড়ুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ