Inqilab Logo

ঢাকা, শনিবার, ১৯ অক্টোবর ২০১৯, ০৩ কার্তিক ১৪২৬, ১৯ সফর ১৪৪১ হিজরী

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে চীন বাংলাদেশের পাশে আছে -কক্সবাজারে চীনা রাষ্ট্রদূত ঝ্যাং জু

বিশেষ সংবাদদাতা কক্সবাজার থেকে | প্রকাশের সময় : ১৩ জুন, ২০১৯, ৬:৪৫ পিএম

বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনা রাষ্ট্রদূত ঝ্যাং জু বলেছেন, বাংলাদেশে আশ্রিত রোহিঙ্গাদের সুষ্ঠু পরিবেশে মিয়ানমারে প্রত্যাবাসনের ব্যাপারে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে তাঁর দেশ। এ ক্ষেত্রে চীন বাংলাদেশের পাশে আছে এবং ভবিষ্যতেও থাকবে বলে জানান তিনি। তবে রোহিঙ্গারা চীনা রাষ্ট্রদূতকে জানান, তাদের মৌলিক দাবীগুলো পুরণ হলে তারা মিয়ানমারে ফিরেযেতে চায়।

বুধবার বেলা ১১টায় কক্সবাজারের শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনের (আরআরআরসি) কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে চীনা রাষ্ট্রদূত এসব কথা বলেন। দুই দিনের সফরে ঝ্যাং জু গত মঙ্গলবার দুপুরে ঢাকা থেকে কক্সবাজার আসেন। রোহিঙ্গা ক্যাম্প ঘুরে এসে তিনি একথা বলেন।

শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার (অতিরিক্ত সচিব) মোহাম্মদ আবুল কালামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে চীনা রাষ্ট্রদূত বলেন, তিনি কক্সবাজার এসেছেন রোহিঙ্গা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করতে। গত মঙ্গলবার বিকেলে তিনি উখিয়ার কুতুপালং ৫-ডি শিবির পরিদর্শন করেছেন। বৈঠকে তিনি পরিদর্শনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন।

শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার মোহাম্মদ আবুল কালাম বলেন, চীনা রাষ্ট্রদূত কক্সবাজার এসেছেন রোহিঙ্গা পরিস্থিতি দেখতে। রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে চীন বাংলাদেশের পক্ষে আছে এবং রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন কার্যকর করতে চীনের ভূমিকা ইতিবাচক বলে তিনি জানান।

বুধবার দুপুরে চীনা রাষ্ট্রদূত রামুর ঐতিহ্যবাহী রাংকোর্ট বৌদ্ধ বিহার পরিদর্শন করেন। চীনা রাষ্ট্রদূত এই বিহারে তিন ঘণ্টা অবস্থান করেন। এ সময় তিনি বিহার পরিদর্শনের পাশাপাশি বৌদ্ধ ধর্মালম্বীদের নিরাপত্তাসহ সার্বিক বিষয়ে খোঁজ খবর নিয়েছেন। তিনি বিহারের সংস্কার কাজে চীনা সরকারের সহযোগিতারও আশ্বাস দেন।

গত মঙ্গলবার বিকেল পাঁচটার দিকে চীনা রাষ্ট্রদূত উখিয়ার কুতুপালং ৫-ডি শিবিরে গিয়ে কিছু রোহিঙ্গার সঙ্গে কথা বলেন। মিয়ানমারে ফিরে যেতে রাজি কিনা চীনা রাষ্ট্রদূত জানতে চাইলে রোহিঙ্গারা বলেন, তাঁরা যেকোনো মুহূর্তে রাখাইন রাজ্যে ফিরে যেতে প্রস্তুত। কিন্তু তাঁদের (রোহিঙ্গাদের) নাগরিক হিসেবে স্বীকৃতি দিতে হবে। তাঁদের উচ্ছেদ করা বসতভিটা ফিরিয়ে দিতে হবে। সেখানে (রাখাইনে) স্বাধীনভাবে চলাফেরার সুযোগ দিতে হবে। কিন্তু মিয়ানমার তাতে রাজি না হলে, কিংম্বা দাবী পূরণ না হলে তাঁরা ফিরে যাবে না। এ ক্ষেত্রে মিয়ানমারের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে চীন সরকারের হস্তক্ষেপ চেয়েছেন রোহিঙ্গারা।

কক্সবাজারের সহকারী পুলিশ সুপার মোহাম্মদ ইকবাল হোসেন বলেন, চীনা রাষ্ট্রদূত দুই দিনের সফরে গত মঙ্গলবার দুপুরে কক্সবাজার এসেছেনে। প্রথম দিন তিনি উখিয়ার ৫-ডি রোহিঙ্গা শিবির পরিদর্শন করেছেন। বুধবার সকালে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন কমিশনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করে রামু বৌদ্ধপল্লি পরিদর্শন করেছেন। বৃহস্পতিবার তিনি ঢাকায় ফিরে যান।

উল্লেখ্য ২০১৭ সালের ২৫ আগষ্টের পর মিয়ানমারের আরাকান রাজ্য থেকে লাখ লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে পালিয়ে আসে। এখন ১১ লাখ ১৮ হাজার ৯৫ জন রোহিঙ্গা উখিয়া টেকনাফের ৩৪ টি আশ্রয় শিবিরে অবস্থান করছে।

এদিকে যত দিন যাচ্ছে রোহিঙ্গাদের নিয়ে স্থানীয় অধিবাসীদের মাঝে অসন্তোষ বাড়ছে। তাই কক্সবাজারের সচেতন মহলের মতে রোহিঙ্গা প্র্যাবাসান যত দ্রুত হয় ততই মঙ্গল।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন


আরও
আরও পড়ুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ