Inqilab Logo

ঢাকা, বৃহস্পতিবার ১৮ জুলাই ২০১৯, ০৩ শ্রাবণ ১৪২৬, ১৪ যিলক্বদ ১৪৪০ হিজরী।

দুঃসহ স্মৃতি ভুলতে চায় ব্রাজিল, মেসিও

কোপার রোমাঞ্চ পাচ্ছেন না টিভি দর্শকরা

স্পোর্টস ডেস্ক | প্রকাশের সময় : ১৩ জুন, ২০১৯, ৭:৩৪ পিএম | আপডেট : ৭:৫৩ পিএম, ১৩ জুন, ২০১৯

রাশিয়া বিশ্বকাপ শেষ হয়েছে তাও প্রায় এক বছর হতে চলল। তারও চার বছর আগে ঘরের মাঠে ২০১৪ বিশ্বকাপের দুঃসহ স্মৃতি এখনো ভুলতে পারেনি ব্রাজিল। পাঁচ বছর পর আবারও এক বৈশ্বিক ফুটবল প্রতিযোগিতার আয়োজক তারা। এবার দক্ষিণ আমেরিকান ফুটবল শ্রেষ্ঠত্বের লড়াইয়ের শিরোপা জিতে সেই দুঃস্মৃতি ভুলতে চায় সেলেসাওরা।

ওদিকে লিওনেল মেসির আর্জেন্টিনাও ঠিক করেছেন একই লক্ষ্য। তিন বছর পর হতে যাওয়া কোপা আমেরিকা জিতে আর্জেন্টিনার হয়ে শিরোপাখরা ঘোঁচাতে দৃড়প্রতিজ্ঞ পাঁচ বারের বর্ষসেরা। বার্সেলোনা তারকার শিরোপা তাড়না এবার একটু বেশি হওয়ার কারণও আছে। এটাই হতে পারে তার ক্যারিয়ারের শেষ কোপায় অংশগ্রহণ।

বাংলাদেশ সময় শনিবার সকাল সাড়ে ছয়টায় ব্রাজিল-বলিভিয়া ম্যাচ দিয়ে পর্দা উঠবে কোপা আমেরিকার ৪৬তম আসরের। ফুটবল প্রেমীদের জন্য হতাশার খবর হলো, ভারতীয় সাব কন্টিনেন্টের কোনো স্যাটেলাইট চ্যানেলই এবার বিশ্বের সবচেয়ে প্রাচীন এই ফুটবল প্রতিযোগিতাটি সরাসরি সম্প্রচার করবে না। এজন্য ইন্টারনেটই তাদের জন্য একমাত্র বিকল্প রাস্তা।

২০১৪ সালের বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে জার্মানীর কাছে ৭-১ গোলে বিধ্বস্ত হওয়ার ম্যাচটি ব্রাজিলিয়ান ফুটবলের অন্যতম কালো অধ্যায়। সেই দুঃসহ স্মৃতি থেকে খেলোয়াড়রা অনেকদিন পর্যন্ত বের হতে পারেনি। চার বছর পর রাশিয়া বিশ্বকাপেও ব্রাজিলের যাত্রা খুব একটা সুখকর ছিল না। ফুটবলে সাম্বা ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনতে তাই মরিয়া তিতের দল

চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ব্রাজিলের তুলনায় রাশিয়ায় আর্জেন্টিনার যাত্রাটা ছিল আরো হতাশাজনক। শেষ ষোলোয় তাদেরকে থামিয়ে দেয় পরবর্তিতে চ্যাম্পিয়ন হওয়া ফ্রান্স। এমন ফলাফলে দলের কোচিং স্টাফ ও খেলোয়াড়দের ওপর পড়ে দুঃসহ চাপ। কোচকে তো বরখাস্ত হরা হয়ই, অনেক খেলোয়াড়ও অবসরে চলে যান। অপেক্ষাকৃত তরুণ দল নিয়ে সব হতাশা ভুলিয়ে দিতে প্রস্তুত লিওনেল স্কোলানির দল। অভিজ্ঞদের মধ্যে এই দলে মেসির সঙ্গে আছেন অ্যাঞ্জেল ডি মারিয়া ও সার্জিও আগুয়েরো। এছাড়া বিশ্বকাপ খেলার অভিজ্ঞতা রয়েছে নিকোলাস ওটামেন্ডি ও নিকোলাস তাগলিয়াফিকোর। বাকিদের অধিকাংশই দলে নতুন। এই দলটিই নিজেদের শেষ প্রস্তুতি ম্যাচে নিকারাুয়াকে ৫-১ গোলে হারায়।

এর আগের দুই আসরেও ফেভারিট ছিল আর্জেন্টিনা ও ব্রাজিল। কিন্তু তাদের হতাশ করে দুই বারই চ্যাম্পিয়নের খেতাব জিতে নেয় চিলি। এবারো চিলিকে তাই অন্যতম ফেবারিট হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। এডিনসন কাভানি-লুইস সুয়ারেজ-ডিয়াগো গদিনদের মত তারকাদের নিয়ে গড়া প্রতিযোগিতার রেকর্ড ১৫ বারের চ্যাম্পিয়ন উরুগুয়েকেও খাটো করে দেখার সুযোগ নেই।

আন্তর্জাতিক পর্যায়ে মেসির সাফল্যের খরা নিয়ে সমালোচনা থেমে নেই। যে কারণে ‘সর্বকালের সেরা খেলোয়াড়’ এর তকমাটাও কেন জানি মেসির ক্ষেত্রে বিতর্কই রয়ে গেছে। এক সাক্ষাতকারে মেসি সম্প্রতি বলেছেন, ‘জাতীয় দলের হয়ে কিছু একটা অর্জন করেই আমি ক্যারিয়ারের ইতি টানতে টাই। অন্তত সেই অর্জনের জন্য নিজের সেরাটা দিয়ে যেতে চাই।’

যদিও দলের জয়-পরাজয়ে চেষ্টা না করার জন্য মেসির বিরুদ্ধে কখনই কোন অভিযোগ আনা হয়নি। বিশেষ করে চারটি বড় টুর্নামেন্টের ফাইনালে আর্জেন্টিনাকে পৌঁছে দেবার পিছনে মেসির অবদান ছিল সবচেয়ে বেশি। এর মধ্যে কোপা আমেরিকার সর্বশেষ দুটি ফাইনালে পেনাল্টিতে চিলির কাছে পরাজিত হয়ে হতাশ হতে হয়েছে আলবিসেলেস্তাদের। ১৯৯৩ সালের পর থেকে আর্জেন্টিনা কোপা আমেরিকা শিরোপা জিতেনি। এসময় তারা ফাইনালে খেলেছে চার বার। এর তিনটিতেই দলে ছিলেন মেসি। ৩২ বছর বয়সী মেসিরও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সাফল্য খুঁজে পাবার সময় ফুরিয়ে আসছে। অন্যদের চেয়ে তাই এবারের কোপাটা আর্জেন্টিনার জন্যেই বেশি দরকার বলে মনে হচ্ছে।

ব্রাজিলের চেয়ে আর্জেন্টিনা একটু হলেও এগিয়ে গেছে নেইমারের ইনজুরির কারণে। পায়ের গোড়ালির চোটে পুরো টুর্নামেন্ট থেকেই ছিটকে গেছেন ব্রাজিলিয়ান ‘পোস্টার বয়’। যদিও নেইমারের অনুপস্থিতিতে রিচার্লিসন, ডেভিড নেরেস, রবার্তো ফিরমিনো, ফিলিপ কুতিনহোসহ বেশ কয়েকজন খেলোয়াড় রয়েছেন যারা ম্যাচের ভাগ্য গড়ে দিতে পারে। তাদের সাম্প্রতিক ফর্মও পুরো দলকে বাড়তি আত্মবিশ্বাস যোগাচ্ছে। প্রস্তুতি ম্যাচে কাতারকে ২-০ গোলে ও হন্ডুরাসকে ৭-০ গোলে উড়িয়ে নিজেদের শানিয়ে নিয়েছে পাঁচবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নরা।

দক্ষিণ আমেরিকান সর্বোচ্চ এই আসরে কনমেবল নিয়মিত কিছু অতিথি দেশকে এই টুর্নামেন্টে খেলার আমন্ত্রন জানিয়ে থাকে। এবার এশিয়ান কাপের শীর্ষ দুই দলকে কোপা আমেরিকায় আমন্ত্রন জানানো হয়েছে। ১৯৯৯ সালে খেলা জাপানের সাথে এবার খেলতে আসছে ২০২২ বিশ্বকাপের স্বাগতিক কাতার। দুটি দল যথাক্রমে গ্রুপ-সি ও গ্রুপ-বি’তে লড়বে।
১২টি দল তিন গ্রুপে ভাগ হয়ে লিগ পদ্ধতিতে পরস্পরের মোকাবেলা করবে। প্রতি গ্রুপ থেকে শীর্ষ দুই দল ও তিন গ্রুপের সেরা তৃতীয়স্থানধারী দুটি দল নিয়ে অনুষ্ঠিত হবে কোয়ার্টার ফাইনাল রাউন্ড। ১৬ জুন নিজেদের প্রথম ম্যাচে কলম্বিয়ার মুখোমুখি হবে ১৪ বারের চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা।

গ্রুপ ‘এ’ : বলিভিয়া, ব্রাজিল, পেরু ও ভেনিজুয়েলা
গ্রুপ ‘বি’ : আর্জেন্টিনা, কলম্বিয়া, প্যারাগুয়ে ও কাতার
গ্রুপ ‘সি’ : চিলি, জাপান, ইকুয়েডর ও উরুগুয়ে



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: ফুটবল

১৭ জুলাই, ২০১৯
১৪ জুলাই, ২০১৯

আরও
আরও পড়ুন