Inqilab Logo

ঢাকা, রোববার, ২০ অক্টোবর ২০১৯, ০৪ কার্তিক ১৪২৬, ২০ সফর ১৪৪১ হিজরী

আল্লাহ্র অস্তিত্ব : আধুনিক বিজ্ঞান ও দর্শন তত্ত¡

মুহাম্মদ মনজুর হোসেন খান | প্রকাশের সময় : ১৪ জুন, ২০১৯, ১২:৩৮ এএম

দশ

এ প্রসঙ্গে পবিত্র কুরআনের দিকে দৃষ্টি দিলে দেখা যায় যে, মহান আল্লাহ্পাক আসমান ও যমীনকে সৃষ্টি করে যেমন সিংহাসনে আসীন হয়েছেন তেমনি তিনি সর্বদাই জীবকুলের নিকটবর্তী হয়ে প্রত্যেকটি জীবের কর্মবিধি পর্যবেক্ষণ করছেন। এ প্রসঙ্গে কুরআনের কিছু বক্তব্য প্রণিধানযোগ্য ঃ “তাঁর সিংহাসন সমস্ত আসমান ও যমীনকে পরিবেষ্টন করে আছে। আর সেগুলোকে ধারণ করা তাঁর পক্ষে কঠিন নয়।” “সূরা ২, আয়াত ২৫৫”।
“পূর্ব ও পশ্চিম আল্লাহ্রই। অতএব, তোমরা যে দিকেই মুখ ফেরাও, সে দিকেই আল্লাহ্ বিরাজমান।” “সূরা ২, আয়াত ১১৫”।
“নিশ্চয়ই আমার পালনকর্তা নিকটেই আছেন তিনি আহবানে সাড়া দেন।” “তিনি তোমাদের সাথেই আছেন, তোমরা যেখানেই থাক। তোমরা যা কর, আল্লাহ তা দেখেন।” “সূরা ১১, আয়াত ৬১।” “... আমি তার গ্রীবস্থিত ধমনী থেকেও অধিক নিকটবর্তী।” “সূরা ৫০, আয়াত ১৬”।
বস্তুতপক্ষে এটা বলা যেতে পারে, আত্মা যেমন বিভিন্ন মানসিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নিজকে প্রকাশ করে কিন্তু তাই বলে মানসিক প্রক্রিয়ার সমষ্টি যেমন আত্ম নয় তেমনি সসীম বস্তু ও সান্ত জীবের সমষ্টিই আল্লাহ্ নন। বলা যেতে পারে যে, আল্লাহ্ জগতের মধ্যে থেকেও জগতের বাইরে রয়েছেন। যে আল্লাহ্ একাধারে জগতের বাইরে থেকেও জগতের মধ্যে প্রতিনিয়ত ক্রিয়া করে চলেছেন তাঁর প্রকৃতি কী, এটা আলোচনা করা অতীব জরুরী বিধায় বিভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গির নিরীখে এ বিষয়ে সংক্ষিপ্ত আলোচনা করা হচ্ছে।
কোন জিনিসের স্বরূপ বা প্রকৃতি (ঘধঃঁৎব) যেমন সেই জিনিসের গুনাবলীর মাধ্যমে জানা যায় তেমনি আল্লাহ্র স্বরূপ বা প্রকৃতি সম্পর্কে জানতে হলেও তা আল্লাহ্র গুণাবলীর মাধ্যমে জানতে হবে। “ড. এম. হুদা, সাধারণ দর্শণের মূলতত্ত¡ (এম.বি.প্রিন্টিং পাবলিকেশন্স, ঢাকা : দ্বিতীয় সংস্করণ, ১৯৯০), পৃ. ২৮৪”।
বিভিন্ন ধর্মে আল্লাহ্কে যেমন বিভিন্নভাবে গ্রহণ করা হয়েছে তেমনি দর্শনের কোথাও আল্লাহ্কে ‘নিছক একটি শক্তি’ অথবা ‘প্রথম বা আদি নিমিত্ত’ (ঋরৎংঃ পধঁংব) অথবা ‘বিশ্বজাহানের আত্মা’ আবার কোথাও আল্লাহ্ এই বিশ্বজাহানের কারখানটিকে একবার চালিয়ে দেবার প্রয়োজন পূর্ণ করে (তাঁর সৃষ্টি থেকে) পৃথক হয়ে গেছেন “জন ক্লোভার মোনজ্মা, চল্লিশ জন সেরা বিজ্ঞানীর দৃষ্টিতে আল্লাহর অস্তিত্ব, “ভূমিকা”।
এমন ধারণা করা হয়ে থাকে। বলা বাহুল্য এই সবের মাধ্যমে আল্লাহ্র প্রকৃত স্বরূপ বা প্রকৃতি সম্পর্কে যথাযথ জ্ঞানার্জন সম্ভব নয় বলে মনে হয়। তাছাড়া যাকে আল্লাহ্ বলে স্বীকার করা হবে তিনি যদি শুধুমাত্র উপরোক্ত প্রকৃতি সম্পন্ন হন তাহলে একজন বুদ্ধিবৃত্তিসম্পন্ন এবং মেধাসম্পন্ন মানুষের পক্ষে তার প্রয়োজন আছে বলে মনে হয় না। যাকে আল্লাহ্ বলে স্বীকার করা হবে তাঁকে হতে হবে সর্বগুণে গুণান্বিত এক সত্তা আল্লাহ্র স্বরূপ বা প্রকৃতি কী? এর যথার্থ জবাব আর-কুরআনে সবিস্তরিত ও সম্পূণাঙ্গ রূপে আলোচনা করা হয়েছে। কিন্তু কুরআনে এই বিষয়ে এত বেশি আলোচনা করা হয়েছে যে, এতটুকুন ছোট্র পরিসরে এতদসম্পর্কিত ধারণা পেশ করা দুরূহ। তাই নিম্নে এ সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ কিছু ধারণা পেশ করা হচ্ছে।
যে প্রকৃতি সম্পন্ন হওয়ার জন্য কোন সত্তাকে আল্লাহ্ বলে গণ্য করতে হবে তাঁর প্রথম পরিচয় হল সেই সত্তার অবশ্যই সৃষ্টি করার যোগ্যতা থাকতে হবে। “সূরা ৯৬, আয়াত ১”।
তবে একজন মানুষ যখন প্রকৃতির কোন জিনিসের সহযোগিতায় কোন যন্ত্র তৈরি করেন তখন তাঁকে স্রষ্টা (ঈৎবধঃড়ৎ) বলা যায় না। বরং তিনি একজন আবিস্কার্তা (ওহাবহঃড়ৎ)। স্রষ্টার গুণসম্পন্ন তাঁকেই বলা যাবে যিনি কোন কিছুর সাহায্য ছাড়া যখন, খুশী, যেমন খুশী, যেভাবে খুশী, যা খুশী, তা সৃষ্টি করতে পারবেন। সেদিক থেকে আল্লাহ্ই একমাত্র সৃষ্টিকর্তা। মহান আল্লাহ্ কুরআনে বলেন, “নিশ্চয় তোমাদের প্রতিপালক আল্লাহ্। নভোমÐল ও ভূমÐলকে ছয় দিনে সৃষ্টি করেছেন। ..--- শুনে রেখ, তাঁরই কাজ সৃষ্টি করা ও আদেশ দান করা।” “সূরা ৭, আয়াত ৫৮”।
কুরআন অন্যত্র বলা হচ্ছে, “আল্লাহ্ সব কিছুই স্রষ্টা এবং তিনি সবকিছুর দায়িত্ব গ্রহন করেন।” “সূরা ৩৯, আয়াত ৬২”।
বলা বাহুল্য, সৃষ্টিকর্মে আল্লাহ্র কোন সহযোগিতা নেওয়ার প্রয়োজন নেই। শুধু ইচ্ছা হলেই তিনি তৎক্ষণাৎ কোন কিছু সৃষ্টি করতে সক্ষম।” “সূরা ১৬, আয়াত ৪০”।
যিনি স্রষ্টা হবে তিনি সৃষ্টি করেই ক্ষান্ত হবেন না। তিনি সৃষ্টির জণ্য নির্ভূল বিধান প্রণয়ন করার ক্ষমতা রাখবেন। তাইত কুরআনে বলা হচ্ছে, “আমি বললাম, তোমরা সবাই এখান থেকে নেমে যাও। এরপর যখন আমার পক্ষ থেকে কোন হিদায়াতের বিধান তোমাদের কাছে পৌছাবে তখন যারা সেই বিধানের অণুসরণ করতে তাদের জন্য থাকবে না কোন ভয়, দুঃখ বেদনা।” “সূরা ২, আয়াত ৩৮”।
আল্লাহ্কে অবশ্যই স্বয়ম্ভূ ও চিরন্তর হতে হবে। অথাৎ তাকে অবশ্যই তার নিজের অস্তিত্বের কারণ হতে হবে।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

আরও পড়ুন