Inqilab Logo

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৭ অক্টোবর ২০১৯, ০২ কার্তিক ১৪২৬, ১৭ সফর ১৪৪১ হিজরী

মনোস্কামনা

শাশ্বতী মুখার্জী | প্রকাশের সময় : ১৪ জুন, ২০১৯, ১২:৩৮ এএম

বকুল ভবঘুরে , প্রাইমারী স্কুলের গন্ডী পেরোয়নি, সংসারের আঁটুনি -কসুনি তার গায়ে লাগতো না, মায়ের বড়ো সাধ ছেলের বৌ নিয়ে সংসার করবে , বিয়ে করলো চাপে পড়ে বিপাশাকে , মার যে কি বৌ বাতিক উঠলো তখন !

প্রথমটায় বাদ সেধে বকুল বলেছিল, সূর্য চন্দ্র অস্ত গেল, জোনাকি ধরে বাতি , বিয়েটিয়ে এখন থাক মা
মা সেকথায় কর্ণপাত করেনি , সব ছেলেই অমন বলে ।
একদিন শাঁখ বাজলো উঠোনে , শ্যামলা মেয়ে, চোখ দুটি দীঘির জলের মতো গভীর ।
জড়িবুটির মাহাত্ম্য শিখতো সুবল সেনাপতির কাছে , বশীকরণ গাছ, মন্ত্র, কোন্ শিকড় পানের সঙ্গে মিশিয়ে খাওয়ালে পর পুরুষ বশীভূত হয়, এ যেন প্যাঁচানো সিঁড়িভাঙা অঙ্কের মতো , বেশ মজার !
বকুলের জীবনে প্রথম খদ্দের মধুরিমা, বড়োলোকের বেটি, সাতগাঁর ধনী পরিবার, যেন রূপের বিপণী, বাঁশপাতার মতো চোখ , চালতা পাতার মতো ঢলঢল মুখের গড়ন, কানে কুর্চিফুলের মতো কানপাশা, মোহনবাঁশির মতো নাকে হীরার নাকমাছি, দোষের মধ্যে দুবার মাধ্যমিক ফেল !
অঙ্কস্যারের প্রেমে পড়েছে মধু, শিকড়ের যাদুকরকে তাই স্মরণ , সহপাঠী হলেও মনেমনে বকুল মধুকেই বৌ করে ঘরে আনবে ভেবেছিল , অনেকটা বামন হয়ে চাঁদ ধরার মতো !
কার্তিক মাসে ভূত চতুর্দশীর দিন তিন প্রহর রাতে একটা শিকড় তুলে মধুকে দিয়ে বলেছিল, অব্যার্থ ঔষধ ! কাজ না হলে পয়সা ফেরৎ !
পরিবর্তে দশহাজার টাকা পেয়ে বকুল ভাঙাঘরের টিনের চাল সারায় ।
দরজার পাল­া মেরামত করে , বাকি টাকা রেখে দেয় ,
মধু জানতো, বকুল তাকে ভালোবাসে , অঙ্কে কাঁচা হলেও কাক -কোকিলের ভেদ করতে ভুল করেনি সে ।
মহাসমারোহে বিবাহ হলো মলয়স্যারের সঙ্গে মধুরিমার ।
বছর তিনেক পরে, বিপাশা অন্তঃসত্ত¡া, এখন তখন অবস্থা, কঙ্কালসার চেহারা, পুষ্টিকর খাবার পেটে পড়েনি, সংসারে হাড়ভাঙা খাটুনি,
স্থানীয় হাসপাতাল জবাব দিয়েছে, গায়ে রক্ত নেই, প্রসববেদনা সইবার ধকল নিতে পারবে না, কলকাতায় নিয়ে যেতে হবে ।
সে তো অনেক টাকা লাগবে ?
বিপাশা বলে, আমার মায়া ত্যাগ করো , সামান্য জমিজিরেত যা ছিল সবই তো খোয়ালে, এবার নিজের জন্য বাঁচো। ভবতরীতে আমি বসে আছি, নোঙর খুলে দিলেই তরতর করে ভেসে যাবো ।
আমি মাকে হারিয়েছি, তোমাকে আমি যেতে দেবো না বিপু! টাকার ব্যবস্থা আমিই করবো, তোমার কোলজুড়ে চাঁদমুখ আসুক, রূপোলি জোছনায় ভরে যাক আমাদের সংসার।
মধুরিমার দুর্বিসহ জীবন, মলয়ের শারীরিক ত্রুটির জন্য মা হতে না পারায় শাশুড়ির গঞ্জনা অসহ্য, পাড়া প্রতিবেশী বাঁজা অপবাদ ,সকালে তার মুখ দেখলেও নাকি অযাত্রা , এসবের থেকে মুক্তি পেতে তাই অগতির গতি বকুলদা , ডাক পাঠায় কাজের লোক মিনতির মাধ্যমে।
বকুল হাজির হয়।
তিরিশ হাজার টাকার বিনিময়ে মধুকে মনসাতলায় গভীর রাতে আসতে হবে লালপেড়ে শাড়ি পরে ।
বকুলদা, তুমি আমার কোল আলো করে দাও ্র ,
সন্তান কামনায় ব্যাকুল এক অসহায় নারীমূর্তি কাতরকন্ঠে বলে, আমার ইচ্ছেপূরণ হবে তো ?
হবে! তুমি মন্দিরের পিছনে গিয়ে শরীরের সব আবরণ খুলে ফেলো, নাটমন্দিরে নিষ্ঠাভরে তাঁকে ডাকো, দেবতা তুষ্ট হলে তোমার ডাকে ঠিক সাড়া দেবেন ।
দেবতা সশরীরে হাজির হলে তুমি তাঁকে সম্ভোগে ডাকবে।
মধু আঁতকে ওঠে! এ কি করে সম্ভব বকুলদা ‘তুমি ওষুধ দেবে না’।
বকুল রহস্যমিশ্রিত কন্ঠে উত্তর দেয় , প্রাণের সৃষ্টি এমন করেই হয় ! জড়িবুটি , তাবিজ , মাদুলি দিয়ে নয়, দেরি করো না! আমার ওষুধের গুণ বেশিক্ষণ স্থায়ী হবে না। আমি চলে যাচ্ছি , তোমার মনোস্কামনা পূর্ণ হোক।
মধু মন্দিরের পিছনে হারিয়ে যেতেই বকুল তড়িঘড়ি নিজেকে আবরণমুক্ত করে, দুটি অনাবৃত শরীর সম্ভোগে লিপ্ত হয়, মনোস্কামনার পূর্ণ বাসনায়।

 



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

আরও পড়ুন