Inqilab Logo

ঢাকা, বৃহস্পতিবার ১৮ জুলাই ২০১৯, ০৩ শ্রাবণ ১৪২৬, ১৪ যিলক্বদ ১৪৪০ হিজরী।

হাহাকার ভুলে টন্টনে বাংলাদেশ

‘আমাদেরও আছে ম্যাচ উইনার, সাকিব’

স্পোর্টস রিপোর্টার | প্রকাশের সময় : ১৪ জুন, ২০১৯, ১২:৫৯ এএম

ব্রিস্টল থেকে ঘণ্টা দেড়েকের পথ টন্টন। বৈশিষ্টে স্বতন্ত্র হলেও শহর দুটো মিল খুঁজে পাওয়া যায় এর পরিবেশে। কোলাহল মুক্ত, নিরিবিলি, শান্ত। যেন অভূতপূর্বভাবে মিলে যায় বাংলাদেশ দলের ড্রেসিংরুমের সঙ্গে। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে জয়ের আশা নিয়ে ব্রিস্টলে পা রাখা মাশরাফির দল শহর ছেড়েছে বিষন্ন মনে। সেই হাহাকার পেছনে ফেলে বিকাল চার টায় যখন টন্টন পৌঁছায় বাংলাদেশ দল, তখনই কেমন যেন নিরব নিস্তব্ধ ‘অ্যাংলো সেক্সন’ স্মৃতিবিজরিত দুর্গের শহরটি। টানা দু’দিনের বিশ্রাম দেওয়ায় সাকিব আল হাসান, তামিম ইকবালরা নিজেদের মতো ঘুরে বেড়াচ্ছেন লন্ডনে। যারা এসেছেন তাদের মধ্যেও কোনো কিছু করার তাড়া নেই। ফাঁকা সময় পেয়ে নিজেদের মতো ফুরফুরে থাকার চেষ্টা করছেন সবাই।
আপাতত বাংলাদেশের সামনে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। যাদের বিপক্ষে ফেভারিট হিসেবেই মাঠে নামবেন মাশরাফিরা। গত বছর ওয়েস্ট ইন্ডিজে গিয়ে ওয়ানডে সিরিজ জিতেছিল বাংলাদেশ, পরে সিরিজ জিতেছিল নিজেদের মাটিতেও। বিশ্বকাপের আগেই আয়ারল্যান্ডে ত্রিদেশীয় সিরিজে তিনবারের দেখায় প্রতিবারই ক্যারিয়ানদের হারিয়েছে বাংলাদেশ। তবে বিশ্বকাপের লড়াই ভিন্ন। বিশ্ব মঞ্চে প্রত্যাশার চাপ আছে। ওয়েস্ট ইন্ডিজের পেস আক্রমণ দুর্দান্ত পারফর্ম করছে এখনও পর্যন্ত। সব মিলিয়ে লড়াইয়ের আগে বাংলাদেশ এগিয়ে থাকলেও কাজটা সহজ হবে না।
আগে থেকেই ঘোষণা থাকায় অন রেকর্ড কথা বলতে চাননি কেউ। অগত্যা ম্যানেজার খালেদ মাহমুদ সুজন মিটিয়েছেন মিডিয়ার আবদার। শ্রীলঙ্কা ম্যাচের খচখচানি ব্রিস্টলেই ঝেড়ে ফেলে আসার কথা জানিয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সামনের ম্যাচকে ঘিরে সব চিন্তা রাখতে চান তিনি, ‘খেলাটা হলে ভালো হতো। জেতা-হারা তো পরের কথা অবশ্যই। আমরা সব খেলা জেতার জন্য এখানে এসেছি। নির্দিষ্ট কোনো ম্যাচকে লক্ষ্য করে আসিনি। প্রতিটি দলই কঠিন। সহজ কোনটিই না। যেটা শেষ হয়ে গেছে সেটা শেষ, শ্রীলঙ্কার সঙ্গে ১ পয়েন্ট পেয়েছি। এটা শেষ। সামনে ওয়েস্ট ইন্ডিজের সঙ্গে খেলা ১৭ তারিখে। অনুশীলনে দুদিন বিশ্রাম আছে। ১৪ তারিখ থেকে অনুশীলন। আশা করি ভালো করব।’
কাজটি যে সহজ হবে না সেটি নিয়েও ভাবনায় বাংলাদেশ শিবির। ক্যারিবিয়ান শিবিরে পাওয়ার হিটার-ম্যাচ উইনারের অভাব নেই। নিঃসন্দেহে যে কোনো দলের জন্য আতঙ্ক ক্রিস গেইল-আন্দ্রে রাসেলরা। এছাড়াও আছেন শিমরন হেটমেয়ার, এভিন লুইস, শাই হোপরা। নিজেদের দিনে তারা যে কোনো ম্যাচ ঘুরিয়ে দিতে পারেন। এই বাস্তবতা মেনে নিয়ে বাংলাদেশকেও পিছিয়ে রাখতে নারাজ খালেদ মাহমুদ। তার মতে, টাইগার শিবিরেও ম্যাচ উইনারের সংখ্যা নেহায়েত কম নয়। আর আলাদা করে তিনি বলেছেন সাকিব আল হাসানের কথা, যিনি চলমান বিশ্বকাপে আছেন দুরন্ত ফর্মে, ‘শুধু ওয়েস্ট ইন্ডিজ না, যে কোনো দলই আমাদের জন্য কঠিন। আমাদের সামর্থ্য আছে। সাকিবের একারই ম্যাচ জিতিয়ে দেয়ার সামর্থ্য আছে। তামিম, মুশফিকও সেটা পারে। কঠিন প্রতিপক্ষকে হারিয়েই আমাদের সামনে যেতে হবে, যদি কোয়ালিফাইংয়ে (সেমিফাইনাল) খেলতে চাই। আমরা সেভাবেই পরিকল্পনা করব। উপরের দিকে যেতে হলে কঠিন পথ পেরিয়েই যেতে হবে।’
টন্টনের ভেন্যুর আকার (গড়ে ৬৫ মিটার) কি ক্যারিবিয়দের বাড়তি সুবিধা এনে দিতে পারে? এমন একটা ভাবনা ঘুরপাক খাচ্ছে বাংলাদেশ দলের মধ্যে। অবশ্য এসব নিয়ে মাথা ঘামাতে চাইছেন না সাবেক এই অধিনায়ক, ‘এটা তো ক্রিকেট খেলায় থাকবেই। এটা সবার জন্যই সমান। মাঠ ওদের জন্য যতটুকু, আমাদের জন্যও ততটুকু। ওদের পাওয়ার হিটার আছে আমরা জানি। জোরে বল করে, এমন বোলারও আছে। আমার মনে হয়, এই ব্যাপারে আমরা সজাগ-সচেতন। আমরা জানি কীভাবে ওদের মোকাবেলা করতে হবে। চেষ্টা করব মাঠের সঙ্গে মানিয়ে নিতে। পরিকল্পনাগুলো প্রয়োগ ও বাস্তবায়ন করা গুরুত্বপূর্ণ হবে।’
এখনই অবশ্য ক্যারিবিয়ানদের হারানোর রণকৌশলে ডুবে যেতে চাইছে না দল। বিশ্বকাপের প্রথম ১০ দিনের মধ্যেই চারটি ম্যাচ ছিল দলের। এখন যেহেতু কয়েকদিনের বিরতি, ক্রিকেটারদের ফুরফুরে ও চাঙা করতে দুই দিনের ছুটি দেওয়া হয়েছে। দলের বেশ কয়েকজন ব্রিস্টল থেকে টন্টনে না এসে নিজের মতো করে সময় কাটাতে গেছেন লন্ডনে। টন্টনে যারা এসেছেন, সবাই থাকবেন বিশ্রামে। তবে আজ থেকেই ফের নেমে পড়েছেন অনুশীলন। শুরু হয়ে গেছে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে হারানোর প্রস্তুতিও। বিশ্বকাপ অভিযানে শেষ চারের লড়াইয়ে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচে বাংলাদেশের জয় প্রয়োজন খুব করেই। আপাতত অপেক্ষা সেই চ্যালেঞ্জ জয়ের।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: বাংলাদেশ


আরও
আরও পড়ুন