Inqilab Logo

ঢাকা, শনিবার, ১৯ অক্টোবর ২০১৯, ০৩ কার্তিক ১৪২৬, ১৯ সফর ১৪৪১ হিজরী

প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে ছাত্রীকে ডেকে ধর্ষণের অভিযোগ

নোয়াখালীতে দুইজনসহ বিভিন্ন স্থানে শিকার আরো ৪ : আটক ৬

ইনকিলাব ডেস্ক | প্রকাশের সময় : ১৫ জুন, ২০১৯, ১২:১০ এএম

এবার অষ্টম শ্রেণির এক ছাত্রীকে নিজ কক্ষে ডেকে ধর্ষণ করলেন প্রধান শিক্ষক। এমন নিকৃষ্ট অভিযোগ নেত্রকোনার বারহাট্টা উপজেলার একটি স্কুলের প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে। নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জে মাদরাসা শিক্ষিকাকে ও চাটখিলে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে তরুণীকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। এছাড়া পাবনায় প্রাইভেট পড়ে ফেরার পথে স্কুলছাত্রী, ছাগলনাইয়াতে বিয়ের প্রলোভনে স্কুলছাত্রী, সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জে দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী ও কুড়িগ্রামে বন্ধুর মেয়েকে তিন বছর ধরে ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। এদিকে, পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া উপজেলায় ১০ম শ্রেণির এক ছাত্রীকে গণধর্ষণ মামলার প্রধান আসামিসহ বিভিন্ন স্থানে ৬ জনকে আটক করেছে পুলিশ।

নেত্রকোনা : অষ্টম শ্রেণির এক ছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে নেত্রকোনার বারহাট্টা উপজেলার একটি স্কুলের প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় মামলার ৯ দিন পর পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। অপরদিকে অভিযোগ করায় ওই শিক্ষার্থীকে মেরে ফেলার হুমকি দেয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছে ভুক্তভোগীর পরিবার।
মামলা সূত্রে জানা যায়, বারহাট্টার হাজিগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আইন উদ্দিন নিজকক্ষে ডেকে নিয়ে অষ্টম শ্রেণির ওই ছাত্রীকে ধর্ষণ করে। এ ঘটনার পর ঘুমের ওষুধ খেয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করে ওই শিক্ষার্থী। এর কারণ খুঁজতে গিয়ে অভিভাবকরা শিক্ষক কর্তৃক ধর্ষণের ঘটনা জানতে পারেন। এরপর চলতি মাসের ৩ তারিখ থানায় যায় পরিবারটি।
এদিকে ধর্ষণের ঘটনা কাউকে বললে ওই শিক্ষার্থীকে মেরে ফেলার হুমকিও দিয়েছে অভিযুক্ত শিক্ষক আইন উদ্দিন। কিন্তু থানায় অভিযোগ দেয়ার ৯ দিনেও বিষয়টি আমলে না নেয়ার দুশ্চিন্তায় রয়েছে ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা। এলাকাবাসী জানান, ১৯৯৭ সালে হাজীগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয়ে যোগদান করার পর থেকে অন্তত অর্ধশত ছাত্রীর সঙ্গে সে এরকম কাজ করেছে বলে এলাকাবাসী দাবি করেন। কিন্তু তার ক্ষমতার ভয়ে কেউ তা প্রকাশ করেনি।

বারহাট্টা সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শফিউল ইসলাম জানান, নির্যাতনের শিকার ছাত্রী বাদী হয়ে মামলা করেছে। অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষককে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।

নোয়াখালী : নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জে আহমেদ মিশন (২৬) নামে এক যুবকের বিরুদ্ধে মাদরাসা শিক্ষিকাকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। মিশন মুছাপুর ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ডের ফয়েজ উল্যাহর নতুন বাড়ির মো. এরফানের ছেলে। এ ঘটনায় ওই শিক্ষিকা বাদী হয়ে গত বুধবার রাতে কোম্পানীগঞ্জ থানার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেছেন।

এদিকে, চাটখিল উপজেলায় বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে তরুণীকে (১৮) ধর্ষণের অভিযোগে শাহরিয়ার রোকন (২৪) নামের এক যুবককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গত মঙ্গলবার রাতে উপজেলার বদলকোর্ট গ্রাম থেকে তাকে আটক করা হয়। এ ঘটনায় নির্যাতিত তরুণী গতকাল বুধবার চাটখিল থানায় একটি মামলা করেন। শাহরিয়ার রোকন বদলকোর্ট গ্রামের হানিফ ভ‚ইয়া বাড়ির লিটনের ছেলে।

ছাগলনাইয়া (ফেনী) : ছাগলনাইয়ায় বিয়ের প্রলোভনে এক স্কুল ছাত্রীকে ৪ দিন যাবত আটকে রেখে ধর্ষনের অভিযোগে সাইদুল হক বাবু (২৫) নামের এক ধর্ষককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গত বুধবার বিকালে উপজেলার লাঙ্গলমোড়া গ্রাম থেকে ভিকটিম স্কুল ছাত্রীককে উদ্ধার ও ধর্ষক বাবুকে গ্রেফতার করে ছাগলনাইয়া থানার পুলিশ। এ ব্যাপারে ধর্ষিতা স্কুল ছাত্রীর মাতা নাছিমা আক্তার বাদী হয়ে গত বুধবার ছাগলনাইয়া থানায় একটি ধর্ষণ মামলা করেছেন। গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে বাবুকে আদালতের মাধ্যমে কোর্ট হাজতে প্রেরণ করা হয়েছে।

সিলেট : সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জে সপ্তম শ্রেণীর ছাত্র ধর্ষণ করেছে প্রতিবেশী এক দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রীকে। ধর্ষক স্থানীয় যুধিষ্ঠিপুর গ্রামের সাবাস মিয়ার পুত্র সাহাদ মিয়া। সে জমিরুননেছা একাডেমির সপ্তম শ্রেণির ছাত্র। এব্যাপারে ফেঞ্চুগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ আবুল বাসার মোহাম্মদ বদরুজ্জামান বলেন, নির্দিষ্ট কোন অভিযোগ পাইনি। পুলিশ ওই এলাকায় অবস্থান নিয়ে অপরাধীকে গ্রেফতারের চেষ্টা করছে।

পিরোজপুর : পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া উপজেলায় ১০ম শ্রেণির এক ছাত্রীকে গণধর্ষণ মামলার প্রধান আসামিসহ তিনজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গতকাল বৃহস্পতিবার ভোরে উপজেলার মিরুখালী বাজার এলাকা থেকে প্রধান আসামি সাইফুলকে এবং গত বুধবার রাত ৯টার দিকে মিরুখালী বাজারের ব্রিজের ওপর থেকে অন্য আসামি শাওন ও নাজমুলকে গ্রেফতার করে পুলিশ। গ্রেফতার সাইফুল (২০) উপজেলার ওয়াহেদাবাদ গ্রামের মতিউর রহমান জমাদ্দারের ছেলে। শাওন (১৯) একই গ্রামের খোকন জমাদ্দারের ছেলে। আর নাজমুল (২০) একই গ্রামের মৃত টিপু সুলতানের ছেলে।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ওসি (তদন্ত) মাজাহারুল আমিন জানান, গত বছরের ৩০ নভেম্বর ওই স্কুলছাত্রী উপজেলার খায়ের ঘটিচোরা গ্রামের বাড়ি থেকে মিরুখালী বাজার সংলগ্ন স্কুলে প্রাইভেট পড়তে যাওয়ার পথে সাইফুল কথা বলার জন্য তাকে রাস্তার পাশে একটি ঘরে ডেকে নেয়। এরপর ওই ঘরে ওঁৎ পেতে থাকা সাইফুলের বন্ধু ইসমাইল, শাওন, নাজমুল মিলে ওই স্কুলছাত্রীকে পালাক্রমে ধর্ষণ করে। এ সময় তারা ধর্ষণের চিত্র মোবাইলে ধারণ করে। এ ঘটনার পর চলতি বছরের গত ২৪ ফেব্রæয়ারি সাইফুল ও ইসমাইল ওই ছাত্রীকে স্কুলে আসার পথে ধর্ষণের ভিডিও ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেয়ার হুমকি দিয়ে ও ধারাল চাকু দিয়ে ভয় দেখিয়ে শারীরিক সম্পর্ক করার প্রস্তাব দেয়। পরে স্কুলছাত্রী বিষয়টি অভিভাবকদের জানালে ওই ছাত্রীর মা বাদী হয়ে মঠবাড়িয়া থানায় চারজনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন।

পাবনা : পাবনার আটঘরিয়া উপজেলার একদন্ত উচ্চ বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির এক ছাত্রী (১২) ধর্ষণের শিকার হয়েছে বলে পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ উঠেছে। গত সোমবার এই ধর্ষণের ঘটনা ঘটলেও স্থানীয় প্রভাবশালীদের চাপে ধামাচাপা দিতে গিয়ে গত বুধবার ঘটনাটি ফাঁস হয়ে যায়।

ছাত্রীর বাবা ও চাচা জানান, একদন্ত হাইস্কুলের পাশে ওই স্কুলের পার্টটাইম শিক্ষক আরিফুল ইসলাম আরিফের পরিচালিত কোচিং সেন্টারে প্রাইভেট পড়তে যায় মেয়েটি। প্রাইভেট শেষে বাড়ি ফেরার সময়ে একদন্ত হাইস্কুলের সামনের কসমেটিকসের দোকানদার ও একদন্তের নরজান গ্রামের আব্দুল্লাহের ছেলে আকাশ (২২) ওই ছাত্রীকে জোরপ‚র্বক একদন্ত কলেজের অদ‚রে ফাঁকা সড়কে একটি পাট ক্ষেতে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণ করে। এ সময় মেয়েটি চিৎকার দিয়ে জ্ঞান শ‚ন্য হয়ে পড়ে। স্থানীয়রা বিষয়টি টের পেয়ে ঘটনাস্থলে গেলে লম্পট আকাশ পালিয়ে যায়। অসুস্থ অবস্থায় ওই ছাত্রীকে পানি ঢেলে জ্ঞান ফিরিয়ে আনা হলেও অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাকে পাবনা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

কুড়িগ্রাম : কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলার কঢ়াকাটা এলাকায় বন্ধুর মেয়ে অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থীকে তিন বছর ধরে ধর্ষণ করেছে অপর বন্ধু। ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর ধর্ষণের শিকার মেয়েকে বাড়ি থেকে বের করে দিয়েছেন বাবা-মা। ধর্ষণের শিকার ছাত্রী জানায়, যখন সে পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রী তখন বাবার বন্ধু প্রথম তাকে ধর্ষণ করে। এরপর থেকে বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি দেখিয়ে তিন বছর ধরে অসংখ্যবার ধর্ষণ করেছে। ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার কচাকাটা থানার বলদিয়া ইউনিয়নের প‚র্ব কেদার গ্রামে।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

আরও পড়ুন