Inqilab Logo

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৭ অক্টোবর ২০১৯, ০২ কার্তিক ১৪২৬, ১৭ সফর ১৪৪১ হিজরী

দাখিল পাস করলেই মধ্যপ্রাচ্যে চাকরি

স্টাফ রিপোর্টার | প্রকাশের সময় : ১৪ জুন, ২০১৯, ১২:২৮ পিএম

মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের আর বেকার বসে থাকতে হবে না। দাখিল পাস করলেই মধ্যপ্রাচ্যে চাকরির ব্যবস্থা নিশ্চিত হবে। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে মাদ্রাসা শিক্ষার কারিকুলাম পরিবর্তন করা হচ্ছে। পরিমার্জিত কারিকুলামে যুক্ত হচ্ছে কারিগরির নতুন ট্রেড এবং অ্যারাবিক স্পোকেন কোর্স। নিয়োগ করা হবে প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষক ও জনবল। সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।
মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, সেলাই ও ড্রেস মেকিংসহ কয়েকটি ট্রেড চালু থাকলেও বাধ্যতামূলক করা হয়নি সবার জন্য। তবে এবার বাধ্যতামূলক করা হবে। বিদেশে সংশ্লিষ্ট দেশের কারিগরি মান বিবেচনা করে তাদের সঙ্গে চুক্তি করে শিক্ষার্থীদের উন্নত কারিগরি শিক্ষা দেওয়া হবে। মানসম্মত কারিগরি শিক্ষার পাশাপাশি অ্যারাবিক স্পোকেন কোর্স যুক্ত করা হচ্ছে মধ্যপ্রাচ্যে তাদের চাকরি পাওয়ার নিশ্চয়তা তৈরি করতে। সে কারণেই স্পোকেন কোর্স যুক্ত করা হবে মাদ্রাসা শিক্ষা কারিকুলামে। কারিগরি ট্রেড পরিচালনার জন্য প্রশিক্ষকসহ প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগ করা হবে কোর্স পরিচালনার জন্য। মাদ্রাসা শিক্ষার কারিকুলামে কী কী যুক্ত করা হবে তা চূড়ান্ত করা হবে জাতীয় কর্মশালা করে।
শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান নওফেল বলেন, ‘দেশের মাদ্রাসা শিক্ষার্থীরা যাতে কর্মে নিযুক্ত হতে পারে সেজন্য সরকার মাদ্রাসা শিক্ষাক্রমের পরিমার্জনে কাজ করছে। সাধারণ মাদ্রাসাগুলোতে কারিগরি বিভিন্ন ট্রেড খোলা হচ্ছে। মাদ্রাসা শিক্ষার্থীরা যাতে প্রাচীন আরবি ভাষার পাশাপাশি আধুনিক প্রচলিত আরবি ভাষায় দক্ষতা অর্জন করে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে কাজ করতে পারে সেজন্য ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।’
সদ্য বদলি হওয়া কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের সচিব (বর্তমানে নির্বাচন কমিশন সচিব) মো. আলমগীর বলেন, ‘মাদ্রাসা শিক্ষার কারিকুলামে পরিবর্তন আনা হচ্ছে। কারিকুলাম পরিমার্জন করে মাদ্রাসায় নতুন ট্রেড খোলা হবে। বিদেশি শিক্ষক এনেও প্রশিক্ষক দেওয়া হবে কারিগরি শিক্ষার্থীদের।’ তিনি বলেন, ‘মাদ্রাসা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সুযোগ-সুবিধা বাড়ানোর জন্য পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। শিক্ষক নিয়োগ করার ব্যবস্থা হয়েছে। শিক্ষকদের প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। শিক্ষার মান বাড়াতে কারিগরি প্রশিক্ষণের জন্য তিন হাজার শিক্ষককে বিদেশে পাঠানো হবে। বৈদেশিক ফান্ড সংগ্রহের চেষ্টা হচ্ছে। কারিকুলাম আপডেট করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে কাজ শুরু হয়েছে।’
সদ্য বদলি হওয়া মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক এ কে এম ছায়েফ উল্যা বলেন, ‘৩৮১টি মাদ্রাসায় সেলাই কোর্ড ও ড্রেস মেকিংসহ কিছু ট্রেড চালু আছে। নতুন করে ফুড টেকনোলজি, কম্পিউটার অপারেটিং, ওয়েল্ডিং ও মেকানিক্যাল ট্রেড যুক্ত করা হবে। কারিগরি ট্রেড বাধ্যতামূলক করা হবে। দাখিল পাস করার পর যাদের লেখাপড়া করার সামর্থ্য নেই তাদের জন্য চাকরি নিশ্চিত করতে দাখিলে কারিগরি ট্রেড যুক্ত করা হবে। তিনি আরও বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের কর্মমুখী করে গড়ে তোলার লক্ষ্যে পাঠ্য বইয়ে কারিগরি ট্রেড যুক্ত করে মাদ্রাসা ও সাধারণ জাতীয় পর্যায়ে সেমিনার করে কী কী ট্রেড যুক্ত হবে তা চূড়ান্ত করা হবে।’



 

Show all comments
  • মোঃ রেদ্বওয়ানুর রহমান ১৪ জুন, ২০১৯, ১:৫৬ পিএম says : 0
    এটা সকল শিক্ষার্থী জন্য অত্যান্ত ভালো
    Total Reply(0) Reply
  • মামুনুর রশীদ ১৪ জুন, ২০১৯, ৭:০১ পিএম says : 0
    এরকম উদ্যোগ নেওয়ার জন্য সবাইকে ধন্যবাদ
    Total Reply(0) Reply
  • Monir Hossain ১৪ জুন, ২০১৯, ৮:২৯ পিএম says : 0
    অত্যন্ত সুন্দর একটি উদ্যোগ। ধন্যবাদ জানাই শিক্ষামন্ত্রণালয়কে।
    Total Reply(0) Reply
  • আবুল ফুতুহ্ ১৪ জুন, ২০১৯, ৮:০৬ পিএম says : 0
    অসাধারণ একটি উদ্যোগ! অতি দ্রুত বাস্তবায়নের অনুরোধ রইলো ।
    Total Reply(0) Reply
  • Mahdi Hasan ১৫ জুন, ২০১৯, ১০:৩৪ এএম says : 0
    মাদ্রাসার শিক্ষা উন্নয়নের মাধ্যমেই জাতী একটি সুন্দর সমাজ আধুনিক রাষ্ট্র উপহার পাবে তাই এমন উন্নয়নের বিকল্প নেই।
    Total Reply(0) Reply
  • Hossain ১৮ জুন, ২০১৯, ১২:৪৮ পিএম says : 0
    আমাদের দেশের অনেক মানুষের মনে এখনো মাদ্রাসা সম্পর্কে খারাপ ধারণা আছে এইটা করলে অবশ্য কিছুটা বিভ্রান্তি কমবে।
    Total Reply(0) Reply
  • মুহাম্মদ নিজাম উদ্দিন ২১ জুন, ২০১৯, ৯:৩৩ এএম says : 0
    সরকারের এ উদ্যোগটা আপাত দৃষ্টিতে সুন্দর মনে হলেও মাদরাসায় অধিকতর কোরআন-হাদিস চর্চায় পরোক্ষভাবে বাধা হয়ে দাঁড়াবে। কারণ দাখিল পাস করে একটা ছাত্র মাদরাসা থেকে কর্মজীবনে চলে গেলে সে আর উচ্চশিক্ষা লাভ করতে পারবে না। তাছাড়া মাদরাসায় এমনিতেই পাঠ্য বিষয় বেশি। তার উপর বাধ্যতামূলকভাবে কারিগরি ট্রেড চাপিয়ে দিলে মাদরাসা শিক্ষার্থীরা স্বভাবকই কোরআন-হাদিস-ফেকাহ-উসুল আর পড়বে না। ফলে ধীরে ধীরে মাদরাসায় উচ্চতর ক্লাসে ছাত্র সংকট দেখা দেবে। বর্তমানে ছাত্র সংকটের বারণে অনেক মাদরাসা বেশ বেকায়দায় আছে। সরকার চাইলে এ প্রকল্পটি ফাযিল ক্লাসের পরে করতে পারতো। কিন্তু তা না করে দাখিল পর্যায় থেকে কেন করা হচ্ছে তা বোধগম্য নয়। একজন দাখিল পাস ছাত্র দেশে বিদেশে আর কতটুকু উচ্চ পদের চাকরি পাবে। পক্ষান্তরে এস এস সি লেভেল থেকে এ ধরণের কার্যক্রম চালু করা হচ্ছে না। এর কারণ কী? দেখা যাচ্ছে এসএসসি পড়ুয়ারা উচ্চতর শিক্ষা লাভ করবে, বিসিএস পরীক্ষা দিয়ে ভালো কর্ম সংস্থান আর দাখিল ট্রেড পড়ুয়ারা নিম্নপদের কর্মচারি হবে। তখন সে একদিকে ভালো আলেমও হতে পারবে না অন্য দিকে মাদরাসা পড়ুয়া আর জেনারেল টড়ুয়াদের মধ্যে ব্যাপক বৈষম্য সৃষ্টি হবে। মাদরাসা শিক্ষাকে তথা কোরআন-হাদিস শিক্ষাকে নিরুৎসাহিত করা হবে।
    Total Reply(0) Reply

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

আরও পড়ুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ