Inqilab Logo

ঢাকা, বুধবার ২৪ জুলাই ২০১৯, ০৯ শ্রাবণ ১৪২৬, ২০ যিলক্বদ ১৪৪০ হিজরী।

কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ীতে বিপুল পরিমাণ ইয়াবা-ফেন্সিডিলসহ আটক ৬

রহস্যজনক কারণে ৫জনকে ১৫১ ধারায় চালান

কুড়িগ্রাম সংবাদদাতা | প্রকাশের সময় : ১৪ জুন, ২০১৯, ৩:৪৫ পিএম

কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলার সদর ইউনিয়নের চান্দের বাজার সংলগ্ন বিদ্যাবাগিস এলাকায় বৃহস্পতিবার রাতে পুলিশ অভিযান চালিয়ে মাদক সম্রাট শাহানুরের বাড়ী থেকে ১ হাজার ২১০পিচ ইয়াবা, ১৫০পিচ ফেন্সিডিল জব্দ করেছে। এসময় ক্রেতা হিসেবে ওই বাড়ীতে অবস্থানরত ৬ যুবক ও ৩টি মোটর সাইকেল আটক করেছে পুলিশ। এদিকে আটককৃত যুবকদের ছাড়িয়ে নিতে রাতভর চলে প্রভাবশালী মহলের দৌড়-ঝাপ। অবশেষে মোটা অংকের লেনদেনে করা হয় রফা-দফা। অবশেষে পুলিশ মাদকসহ আটককৃতদের শুক্রবার সকালে ১৫১ ধারায় (সন্দেহজনক ঘোরাফেরার অভিযোগ) মামলা দায়ের করে আদালতে চালান দেয়। 

রাতেই খবর পেয়ে স্থানীয় সাংবাদিকরা থানায় তথ্য নিতে গিয়ে দেখা যায় আত্মকৃতদের হাজতে না রেখে একটি বিশেষ কক্ষে রাখা হয়েছে। তাদের ছবি ও তথ্য দিতে বাঁধা দেয় পুলিশ। পরে রাতেই মাসুম বিল্লাহ নামে এক যুবককে তার অভিভাবকের জিম্মায় ছেড়ে দেয় পুলিশ। শুক্রবার বাকী ৫ যুবকের নামে ১৫১ ধারায় মামলা রুজু করা হয়। অপরদিকে মাদক স¤্রাট শাহানুর রহমানের (পলাতক) বিরুদ্ধে শুক্রবার সকালে মাদক আইনে মামলা করে পুলিশ। মামলা নং-১৫। স্থানীয়দের অভিযোগ প্রভাবশালীদের সাথে পুলিশের ৬লাখ টাকায় রফাদফা হওয়ায় আটকৃদতরা মাদক মামলা থেকে মুক্তি পায়।

ফুলবাড়ী থানার এসআই মহুবর রহমান রাতে জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় উপজেলার বিদ্যাবাগিস এলাকায় মাদক স¤্রাট শাহানুরের বাড়ীতে আমার নেতৃত্বে এসআই আল আমিনসহ ৭/৮জন পুলিশ নিয়ে অভিযান পরিচালনা করি। এসময় পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে মাদক স¤্রাট শাহানুর পালিয়ে গেলেও সেই বাড়ী থেকে ১ হাজার ২১০পিচ ইয়াবা, ১৫০পিচ ফেন্সিডিল, ৩টি মটর সাইকেলসহ ৬ জনকে আটক করা হয়। আটককৃতদের থানায় নিয়ে আসা হয়। উর্ধতন কর্মকর্তার নির্দেশনা মোতাবেক মামলার প্রস্তুতি চলছে। মাদক সম্রাট শাহানুর রহমান ফুলবাড়ী উপজেলার চন্দ্রখানা গ্রামের মৃত: মহির উদ্দিনের পূত্র। তার বিরুদ্ধে থানায় একাধিক মামলা রয়েছে বলে এসআই মহুবর রহমান জানান।

ফুলবাড়ী থানার ডিউটি অফিসার এএসআই এরশাদুল হক জানান, ৩টা মোটর সাইকেলসহ গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন- কুড়িগ্রাম শহরের পৌরসভার নাজিরা এলাকার আব্দুস সাত্তারের পূত্র রিপন আহমেদ (৩৪), মুন্সিপাড়া এলাকার বাবলা মিয়ার পূত্র মনু মিয়া (২৭), কলেজপাড়া এলাকার আশরাফ আলীর পূত্র লানজু মিয়া (২৮), কৃঞ্চপুর চড়–য়া পাড়া এলাকার আশরাফ আলীর পূত্র মাসুম বিল্লাহ (২৯) ও মোন্নাফের পূত্র রাশেদুজ্জামান রুবেল (২৯) এবং করিমের খামার এলাকার মোস্তাফিজুর রহমানের পূত্র ওমর ফারুক (৩০)।

এ ব্যাপারে ফুলবাড়ী থানার অফিসার ইনচার্জ খন্দকার ফুয়াদ রুহানী ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে জানান, রাতেই মাসুম বিল্লাল নামে একজনকে তার অভিভাবকের জিম্মায় ছেড়ে দেয়া হয়। বাকী ৫জনের বিরুদ্ধে ১৫১ ধারায় মামলা রুজু হয়। এছাড়াও মুল পলাতক আসামী শাহানুরের বিরুদ্ধে মাদক আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলা নং-১৫। অফিসার ইনচার্জ দাবি করেন আটককৃত ৬জন ঘটনাস্থলের বাইরে ছিল। তাদেরকে সন্দেহভাজন হিসেবে আটক করে পুলিশ। অর্থের বিনিময়ে আসামী ছেড়ে দেয়া এবং মাদক মামলা না দিয়ে ১৫১ ধারায় চালানের অভিযোগ অস্বীকার করেন বলেন, প্রকৃত ঘটনা যা ঘটেছে সে মোতাবেক আসামী ছেড়েদেয়া ও মামলা রুজু করা হয়েছে।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: আটক

২১ জুলাই, ২০১৯

আরও
আরও পড়ুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
গত​ ৭ দিনের সর্বাধিক পঠিত সংবাদ