Inqilab Logo

ঢাকা, শুক্রবার ১৯ জুলাই ২০১৯, ০৪ শ্রাবণ ১৪২৬, ১৫ যিলক্বদ ১৪৪০ হিজরী।

সন্ত্রাসমুক্ত পরিবেশ তৈরি করতে হবে

শি জিনপিংকে মোদি

ইনকিলাব ডেস্ক | প্রকাশের সময় : ১৫ জুন, ২০১৯, ১২:০৮ এএম

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বলেছেন, ‘সন্ত্রাস দমনে কড়া হলে তবেই পাকিস্তানের সঙ্গে আলোচনা, নইলে নয়।’ গত বৃহস্পতিবার কিরঘিজস্তানের রাজধানী বিশকেকে সাংহাই কোঅপারেশন কর্পোরেশনের (এসসিও) শীর্ষ সম্মেলনের ফাঁকে চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং-কে মোদি এ কথা বলেন। মনে করা হচ্ছে যে এই মন্তব্যের মধ্যে দিয়েই পাকিস্তানের ‘বন্ধুু› চীনকে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিতে চেয়েছেন মোদি। তিনি পরিষ্কার করে দিয়েছেন, সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে পাকিস্তানকে। তৈরি করতে হবে সন্ত্রাসমুক্ত পরিবেশ।
ভারত ও চীন দুই দেশের সম্পর্ক ভালো রয়েছে বলে জানিয়ে মোদি বলেন, তিনি ভারত-পাকিস্তান দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক ভালো করার চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু তা ভেস্তে গেছে। বৃহস্পতিবার এসসিও শীর্ষ সম্মেলনের ফাঁকে হওয়া বৈঠকে মোদিকে পাকিস্তানের সঙ্গে আলোচনার প্রক্রিয়া শুরু করার কথা বলেন চীনা প্রেসিডেন্ট।
জবাবে মোদি বুঝিয়ে দেন, এটা দ্বিপাক্ষিক বিষয়। আর আলোচনা শুরুর জন্য কিছুই করেনি পাকিস্তান। শি-কে মোদি বলেন, ‘দ্বিপাক্ষিক সব বিষয়ে আমরা আলোচনা করেছি। সমঝোতার মাধ্যমে শান্তিপূর্ণ সমাধানের চেষ্টা করেছি। তবে সব চেষ্টাই ব্যর্থ হয়েছে।’
এরপর শুক্রবার ইমরান খানের উপস্থিতিতে মোদি বলেন, যেসব দেশ সন্ত্রাসীদের মদত দিচ্ছে। সাহায্য দিচ্ছে সন্ত্রাসবাদকে সমর্থন করছে তাদের জবাবদিহিতার আওতায় আনতে হবে। ভারত একটি সন্ত্রাসমুক্ত সমাজ চায়। সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে সহযোগিতায় এসসিওর লক্ষ্যের উপর গুরুত্বারোপ করে মোদি সন্ত্রাসবাদ মোকাবেলায় একটি বিশ্ব সম্মেলনের আহ্বান জানান।
বিশকেকে অর্থনৈতিক ও নিরাপত্তা জোটের দুই দিনের সম্মেলন শুরু হয় গত বৃহস্পতিবার। সম্মেলনে যোগ দিতে গতকাল শুক্রবার বিশকেকে পৌঁছেন মোদি। চীনের নেতৃত্বাধীন এসসিওর সদস্য সংখ্যা ৮। ভারত ও পাকিস্তান ২০১৭ সালে এ জোটে যোগ দেয়।
ইমরানের সঙ্গে দূরত্ব
এ শীর্ষ সম্মেলনে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানও উপস্থিত ছিলেন। কিন্তু তার সঙ্গে নরেন্দ্র মোদির কোনো দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের পরিকল্পনা নেই বলে জানিয়ে দিয়েছে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। ভারত নিজের অবস্থানে অনড় রয়েছে বলে সাংবাদিকদের জানিয়ে দিয়েছেন ভারতের পররাষ্ট্র সচিব বিজয় গোখেল। জানা গেছে, বৃহস্পতিবার বিশকেক-এ আয়োজিত সাংহাই কোঅপারেশন অর্গানাইজেশন শীর্ষ সম্মেলনে উপস্থিত বিভিন্ন দেশের প্রধান অতিথিদের জন্যে বিশেষ নৈশভোজের আয়োজন করেছিলেন কিরঘিজস্থানের প্রেসিডেন্ট সোরোনবে জিনবেকভ। তাতে আমন্ত্রিত ছিলেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানও। কিন্তু প্রতিবেশি দেশের রাষ্ট্রপ্রধানের সঙ্গে সামান্যতম সৌজন্য বিনিময় পর্যন্ত করেননি ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। দুই জনের মধ্যে কোনো বৈঠকের সম্ভাবনাই তাই দেখা দেয়নি।
দুই দেশের রাষ্ট্রনেতার মধ্যে যে এই শীর্ষ সম্মেলনে কোনো বৈঠক হবে না তার আভাস প্রধানমন্ত্রীর যাওয়ার আগেই পাওয়া গিয়েছিল। সরকারের তরফে স্পষ্ট করেই বলে দেয়া হয়েছিল, সীমান্তবর্তী হিংসা পাকিস্তান অবিলম্বে বন্ধ না করলে কোনো বিষয় নিয়েই আলোচনায় বসা সম্ভব নয়।
এসসিও শীর্ষ সম্মেলনে যাওয়ার আগে পাক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান নিজে নরেন্দ্র মোদিকে চিঠি লিখেছিলেন। ঠিক একইভাবে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে চিঠি লিখেছিলেন পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শাহ মেহমুদ কুরেশি। দু’জনেরই আবেদন ছিল ভারত-পাকিস্তান দ্বিপাক্ষিক আলোচনা ফের শুরু হোক। কিন্তু সন্ত্রাসে মদত দেওয়া অবিলম্বে বন্ধ না করলে, পাকিস্তানের সঙ্গে কোনো স্তরে কোনও সমঝোতা সম্ভব নয়, তা স্পষ্ট করে দেওয়া হয় ভারতের পক্ষ থেকে। সূত্র : এনডিটিভি ও এই সময়।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: ভারত


আরও
আরও পড়ুন