Inqilab Logo

ঢাকা, রোববার ২১ জুলাই ২০১৯, ০৬ শ্রাবণ ১৪২৬, ১৭ যিলক্বদ ১৪৪০ হিজরী।

অধরা জয়ের খোঁজে

স্পোর্টস রিপোর্টার | প্রকাশের সময় : ১৫ জুন, ২০১৯, ১২:০৭ এএম

বিশ্বক্রিকেটের মঞ্চে আফগানিস্তানের থেকে বহু ক্রোশ এগিয়ে দক্ষিণ আফ্রিকা। কিন্তু ২০১৯ বিশ্বকাপ তাদের নিয়ে এসেছে একই সমতলে। কার্ডিফে বিশ্বকাপের একুশতম ম্যাচে কে পাবে তাদের প্রথম জয়ের সন্ধান?

এবারের বিশ্বকাপে যে দক্ষিণ আফ্রিকাকে কেউই সম্ভাব্য চ্যাম্পিয়নের তালিকায় রাখেন নি, তার প্রধান কারণ ব্যাটিংয়ে অভিজ্ঞতার অভাব। তবে দক্ষিণ আফ্রিকার সবথেকে বড় সমালোচকও বোধ হয় ভাবেন নি যে চারটি ম্যাচের একটাও না জিতে লিগতালিকার নীচের সারিতে চলে যাবে তারা।
কে বলবে এই দলটা গত বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে পৌঁছেছিল? ইতিমধ্যেই ইংল্যান্ড, বাংলাদেশ আর ভারতের কাছে হেরে বসে আছে তারা। তার ওপর ওয়েস্ট ইন্ডিজের সঙ্গে তাদের ম্যাচ বৃষ্টির জন্য বাতিল হয়ে যায়। সেমিফাইনালে যাওয়া অসম্ভব হয়ত নয়, তবে তার জন্য আফগানিস্তানকে হারাতেই হবে আজ।

আজ যদি প্রোটিয়াদের জিততে হয়, তা হলে ব্যাটসম্যানদের কিছু করে দেখাতে হবে। এখনও পর্যন্ত প্রায় সব ম্যাচেই তাদের আড়ষ্ট মনে হয়েছে। এমনকি ওয়েস্ট ইন্ডিজের সঙ্গে যে অল্প কিছুক্ষণ খেলা হয়েছিল, তার মধ্যেই মাত্র ২৯ রানে দু’উইকেট পড়ে গেছিল তাদের। হাশিম আমলা এখনও তাঁর স্বাভাবিক ফর্মের ধারেকাছে নেই, সেদিনও শেল্ডন কট্রেলের একটা শর্ট বলে আউট হন ছ’রান করে। আমলা, কুইন্টন ডি’কক, আর অধিনায়ক ফাফ ডু প্লেসিস মিলে দক্ষিণ আফ্রিকার ব্যাটিংয়ের কেন্দ্রবিন্দু বলা যায়, অতএব তারা ব্যর্থ হলে বড় রান তোলার বা তাড়া করার আশা করা বোকামি।

এদিকে পর পর তিনটে ম্যাচ হেরে পয়েন্টতালিকার একদম নীচে জায়গা হওয়ায় আফগানিস্তানও খুব সুখে নেই। চোট পেয়ে মহম্মদ শেহজাদ দেশে ফিরে যাওয়ায় তাদের ব্যাটিংয়ের অবস্থায় শোচনীয়। ঘুরে দাঁড়ানোর সংকল্প ষোলো আনা থাকলেও আফগানরা জানেন কাগিসো রবাদা আর ইমরান তাহিররা তাদের সহজে ছেড়ে দেবেন না।

এখনও একটাও ম্যাচ না জিতলেও দক্ষিণ আফ্রিকাই ফেভারিট। কাজটি সহজভাবে করতে হলে জ্বলে উঠতে হবে ফাফ ডু প্লেসিসকে। অধিনায়ক, তাই দায়িত্বও দ্বিগুণ তার। নিজেকে তো বড় রান করতেই হবে, তাছাড়াও মুষড়ে পড়া দলকে জেতার জন্য উদ্বুদ্ধ করে তুলতে হবে। তবে একটা লড়াকু সেঞ্চুরি করে ফেলতে পারলে দ্বিতীয় কাজটাও অনেকটাই সহজ হয়ে যাবে।
আবার আফগানিস্তানের কাছেও এটাই সুবর্ণ সুযোগ নিজেদের প্রতিভা প্রমাণ করার, কারণ আজ তাদের সামনে এবারের বিশ্বকাপের অন্যতম ‘দুর্বল’ দল। সেদিক থেকে দায়িত্ব নিতে হবে রাশিদ খানকে। আগের ম্যাচে ইনজুরি থাকায় কিছুটা শঙ্কা ছিল তার। তবে এই ম্যাচে দলের সেরা তারকাকে ঠিকই পাচ্ছে চমক জাগানিয়া দলটি।

ছোটোখাটো চেহারার এই লেগস্পিনার তার বুদ্ধিদীপ্ত বোলিংয়ে দক্ষিণ আফ্রিকার ব্যাটসম্যানদের মনে ভয় ধরাতে পারেন কিনা, সেটাই দেখার। গত তিনটে ম্যাচে দু’টোর বেশি উইকেট পাননি, তাই বলা যায় এই বিশ্বকাপে তিনি সেরাটা এখনও মেলে ধরতে পারেন নি। অবশ্য নিউজিল্যান্ড ম্যাচে লোকি ফর্গুসনের একটা বল এসে হেলমেটে লাগায় মাথায় চোট পান রাশিদ। বোলিং করতে মাঠে নামেন নি দ্বিতীয়ার্ধে। কেন তাঁর বোলিং ক্রিকেটমহলে সাড়া ফেলে দিয়েছে, সেটা দেখানোর জন্য কি দক্ষিণ আফ্রিকাকেই বেছে নেবেন রাশিদ?
সে প্রশ্ন আপাতত তোলাই থাক। কেননা বৃষ্টি যেভাবে আষ্টেপৃষ্ঠে চেপে ধরেছে বিশ্বকাপকে তাতে করে মাঠের উত্তাপে পানি ঢেলে দিতেই পারে। এদিনও কার্ডিফের পূর্বাভাসে বলা হচ্ছে সকালের পরে আকাশ পরিষ্কার হয়ে যাবে। মেঘলা সকালে বলের সুইং কাদের বিপদ ডেকে আনে দেখা যাক।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: জয়ের খোঁজে
আরও পড়ুন