Inqilab Logo

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২৪ অক্টোবর ২০১৯, ০৮ কার্তিক ১৪২৬, ২৪ সফর ১৪৪১ হিজরী

বাজেটের যথাযথ বাস্তবায়ন কাম্য

| প্রকাশের সময় : ১৬ জুন, ২০১৯, ১২:১১ এএম

২০৪১ সালের মধ্যে উচ্চ মধ্যম আয়ের দেশের স্তর পেরিয়ে একটি শান্তিপূর্ণ, সুখী উন্নত- সমৃদ্ধ সোনর বাংলা গড়ার লক্ষ্যকে সামনে রেখে ২০১৯-২০ অর্থবছরের জন্য পাঁচ লাখ ২৩ হাজার ১৯০ কোটি টাকার বাজেট প্রস্তাব পেশ করা হয়েছে। অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল গত বৃহ¯পতিবার জাতীয় সংসদে ‘সমৃদ্ধ আগামীর পথযাত্রায় বাংলাদেশ : সময় এখন আমাদের, সময় এখন বাংলাদেশের’ শিরোনাম সংবলিত এ বাজেট পেশ করেন। এ বাজেট চলতি বছরের বাজেটের চেয়ে ১৮ শতাংশ বেশি। চলতি বছরের মূল বাজেট ছিল চার লাখ ৬৪ হাজার ৫৭৩ কোটি টাকা। প্রস্তাবিত বাজেটে মোট রাজস্ব আয় ধরা হয়েছে তিন লাখ ৭৭ হাজার ৮১০ কোটি টাকা, এর মধ্যে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড সূত্রে আয় ধরা হয়েছে তিন লাখ ২৫ হাজার ৬০০ কোটি টাকা, এছাড়া এনবিআর বহির্ভ‚ত সূত্র থেকে কর রাজস্ব ধরা হয়েছে ১৪ হাজার ৫০০ কোটি টাকা। কর বহির্ভ‚ত খাত থেকে রাজস্ব আয় ধরা হয়েছে ৩৭ হাজার ৭১০ কোটি টাকা। মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৮ দশমিক ২ শতাংশ। মূল্যস্ফীতি ৫ দশমিক ৫ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে।


২০১৯-২০ অর্থবছরের বাজেট নিয়ে ইতোমধ্যে দেশের অর্থনীতিবিদ থেকে শুরু করে রাজনৈতিক দলগুলো তাদের প্রতিক্রিয়া দিয়েছে। প্রতি বাজেটের পরই এ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করা হয়। এসব ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়ার মধ্যে ধনী-দরিদ্রের বৈষম্য সৃষ্টি, কালো টাকা সাদা করার সুযোগ দেয়া, ব্যাংকিং খাতের সমস্যা সুস্পষ্টভাবে নির্দেশ না করা, ঋণ খেলাপীদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান না নেয়া, জিডিপি’র লক্ষ্য পূরণ নিয়ে সংশয়-এ বিষয়গুলো বেশি প্রাধান্য পেয়েছে। বাজেট পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাজেটের এসব নেতিবাচক দিক নিয়ে বিভিন্ন সংস্থা ও অর্থনীতিবিদদের উত্থাপিত প্রতিক্রিয়ার জবাব দিয়েছেন। বাজেটকে তিনি জনকল্যাণমুখী হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। ব্যাংকিং খাতে সুদের হার সিঙ্গেল ডিজিটে রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ব্যাংকের সুদের হার সিঙ্গেল ডিজিটে নামিয়ে আনতে কিছু সুবিধা দেয়ার পরও ব্যাংকগুলো তা মানেনি। এবার বাজেটে সুদের হার সিঙ্গেল ডিজিটে করার প্রস্তাবনা রয়েছে এবং তা যারা মানবে না তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে। ইচ্ছাকৃত ঋণ খেলাপীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে প্রধানমন্ত্রী হুশিয়ার করেছেন। পাশাপাশি খেলাপী হয়ে যাওয়া ঋণ পরিশোধের সুযোগ দেয়ার কথা বলেছেন। অবশ্য বাজেট পেশের আগেই অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল খেলাপী ঋণ আদায় এবং পরিশোধের বিষয়ে বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা ঘোষণা করেছিলেন, তার প্রতিফলন বাজেটেও রেখেছেন। বলার অপেক্ষা রাখে না, খেলাপী ঋণ অনাদায়ের চেয়ে কিছু সুবিধা দিয়ে বিশেষ করে চক্রবৃদ্ধি হার সুদ মওকুফ করে যদি আদায় করা যায়, তবে তা অর্থনীতির জন্য সুফল বয়ে আনবে।

এতে খেলাপী ঋণ গ্রহীতারাও ঋণ পরিশোধে আগ্রহী হবে। এবারের প্রস্তাবিত বাজেটে কালো টাকা সাদা করার সুযোগ রাখা নিয়ে সবচেয়ে বেশি সমালোচনা হচ্ছে। ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল অব বাংলাদেশ (টিআইবি) বলেছে, এ সুযোগ দেয়া অসাংবিধানিক। তবে নীতি-নৈতিকতার দিক থেকে এ সুযোগ না দেয়া সঠিক হলেও বাস্তবতার আলোকে সঠিক নয়। আমরা দেখেছি, বেশিরভাগ ক্ষেত্রে অপ্রদর্শিত আয় এবং কালো টাকা বিভিন্ন উপায়ে বছরের পর বছর ধরে বিদেশে পাচার হয়ে যাচ্ছে। দেশি-বিদেশি অনেক সংস্থা প্রতিবেদন প্রকাশ করে লাখ লাখ কোটি টাকা বিদেশে পাচার হয়ে যাওয়ার কথা বলেছে। কালো টাকা ও অপ্রদর্শিত আয়ের যারা মালিক তাদের ব্যাপারে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য অন্যান্য সংস্থার পাশাপাশি দুর্নীতি দমন কমিশনের অন্যতম দায়িত্ব পালন করার কথা থাকলেও সংস্থাটি তা করতে ব্যর্থ হয়েছে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে সংস্থাটির বিরুদ্ধে রাজনৈতিক দমন-পীড়ন এবং হয়রানির উদ্দেশে কাজ করেছে এবং করছে বলে অভিযোগ রয়েছে। প্রকৃত কালো টাকার মালিক ও বড় বড় দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিয়ে বেশিরভাগ সময় সৎ ব্যবসায়ী ও পেশাজীবীদের হয়রানিতে ব্যস্ত থেকেছে। এতে উদ্যোক্তা ও বিনিয়োগকারীদের মধ্যে শঙ্কা ও আতঙ্ক সৃষ্টি এবং বিনিয়োগ পরিবেশ বাধাগ্রস্ত হয়েছে। দুর্নীতিবাজ এবং অপ্রদর্শিত ও কালো টাকার মালিকরা ধরাছোঁয়ার বাইরেই রয়ে গেছে। তারা এই অর্থ দেশের বাইরে পাঠিয়ে দিয়েছে এবং এখনো দিচ্ছে। বলা বাহুল্য, কোনো পদক্ষেপ কিংবা নীতিকথা এ পাচার রোধ করতে পারেনি, পারছেও না। বাস্তবতার আলোকেই অপ্রদর্শিত আয় ও কালো টাকা দেশে রাখা এবং তা অর্থনীতিতে যুক্ত করার লক্ষ্যেই সরকার উদ্যোগ নিয়েছে। অতীতেও এ ধরনের সুযোগ রাখা হয়েছিল। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এই বাস্তবতা উপলব্ধি করেই এবং দেশের টাকা দেশে রাখার জন্য সুনির্দিষ্ট হারে ফি জমা দিয়ে অপ্রদর্শিত আয় ও কালো টাকা বিনিয়োগের সুযোগের কথা বলেছেন। অর্থপাচারের অন্যতম একটি মাধ্যম হয়ে উঠেছে আমদানি-রফতানি খাত। দেখা গেছে, অনেকে অসত্য তথ্য দিয়ে আমদানি বা রফতানির কথা বলে অর্থ পাচার করে দিচ্ছে। এ নিয়ে পত্র-পত্রিকায় লেখালেখিও হয়েছে। এক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ যদি কঠোর মনিটর করে, তবে অর্থপাচার কিছুটা হলেও রোধ করা সম্ভব হবে। বর্তমানে যারা কর প্রদান করছেন, তাদের উপর করের বোঝা আর না বাড়িয়ে যারা কর প্রদান করছেন না বা করের আওতার বাইরে আছেন, তাদেরকে করের আওতায় আনার উদ্যোগ রয়েছে বাজেট প্রস্তাবনায়। অর্থনৈতিক অগ্রগতির সঙ্গে বাংলাদেশে এখন চার কোটি মানুষ মধ্য আয়ের গ্রæপে উঠে এসেছে উল্লেখ করে আয়করের আওতা বৃদ্ধি নির্ধারণ করা হয়েছে। বর্তমানে আয়কর টিনধারীর সংখ্যা ২৫ থেকে ২৬ লাখের মতো। এদের মধ্যে কর দেয় প্রায় ১৫ থেকে ২০ লাখ, যা ১৬ কোটি মানুষের দেশের জন্য খুবই অপ্রতুল। ফলে দ্রততম সময়ে আয়করদাতার সংখ্যা তিন গুণ বাড়িয়ে এক কোটিতে নেয়ার প্রস্তাবনা রয়েছে বাজেটে। আমরা মনে করি, এ নিয়ে সমালোচনা হলেও এ সিদ্ধান্ত যৌক্তিক এবং তা অনেক আগেই বাড়ানো উচিত ছিল। গত মঙ্গলবার পাকিস্তানে বাজেট ঘোষণার সময় দেশটির অর্থমন্ত্রী বাংলাদেশে আয়করদাতার সংখ্যা বৃদ্ধির উদ্যোগের প্রশংসা করেছেন এবং তার দেশেও আয়করদাতার সংখ্যা বৃদ্ধির উদ্যোগ নিয়েছেন। এক্ষেত্রে পাকিস্তান বাংলাদেশের পদক্ষেপ অনুসরণ করেছে। তবে এক্ষেত্রে সতর্ক থাকা জরুরী, যেন মানুষ হয়রানির শিকার না হয়। বাজেটের বড় অংকের জোগান ধরা হয়েছে ভ্যাটের মাধ্যমে। কয়েক ধাপে জিনিসপত্রের উপর ভ্যাট আরোপের প্রস্তাব করা হয়েছে। এর ফলে কোনো কোনো ক্ষেত্রে সাধারণ মানুষকে সমস্যায় পড়তে হবে বলে অর্থনীতিবিদরা মনে করছেন। তবে এই ভ্যাট আদায়ে জটিলতা ও সমস্যা দেখা দিতে পারে। জনঅসন্তোষ বৃদ্ধি পেতে পারে। এক্ষেত্রে সরকারকে সতর্ক হতে হবে। দেশের অন্যতম বৃহৎ অর্থনৈতিক খাত আবাসন ক্ষেত্রটি দীর্ঘদিন ধরে ধুঁকছে। এ খাতের সাথে জড়িয়ে আছে অসংখ্য মানুষের কর্মসংস্থানসহ আরও অনেক ব্যাকওয়ার্ড লিংকেজ যেমন-রড, সিমেন্ট, কাঠ, রংসহ প্রয়োজনীয় খাত। বিগত প্রায় এক দশক ধরে অর্থনীতির অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ খাতটি বেশ নাজুক অবস্থার মধ্য দিয়ে চলছে। এ অবস্থায় সরকারের তরফ থেকে এর প্রণোদনা দেয়া জরুরী হয়ে পড়েছিল। সরকার পোশাকশিল্প খাতের মতো এবারের বাজেটে এ খাতে প্রণোদনার ব্যবস্থা রেখে প্রশংসনীয় উদ্যোগ নিয়েছে। এতে খাতটি চাঙ্গা হয়ে উঠবে এবং অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। এবারের বাজেটে জিডিপির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৮.২ শতাংশ। বাজেট পেশের আগেই এ লক্ষ্যমাত্র নির্ধারণ নিয়ে কথা বলা হয়েছে। তবে অর্থনীতিবিদরা এর সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করে বলেছেন, আক্ষরিক অর্থে এ লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ সঠিক নয়। কিছুদিন আগে বিশ্বব্যাংক তা ৭-এর নিচে হবে বলেছে। ঢাকা কেন্দ্রিক বিদেশি গবেষণা সংস্থা উন্নয়ন অন্বেষা বলেছে, জিডিপি’র যে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে তার চেয়ে আড়াই শতাংশ কম হবে। জিডিপি থাকতে পারে ৫ থেকে ৬ শতাংশের মধ্যে। দেশের জিডিপির হার নিয়ে ‘সাঠিক-বেঠিক’ বিতর্ক বহু বছর ধরেই চলে আসছে। এ ধরনের বিতর্ক চলা বাঞ্চনীয় নয়। সরকারের উচিত হবে এক্ষেত্রে স্বচ্ছ হওয়া। যা অর্জন সম্ভব, তাই বলা উচিত।


এবারের বাজেট ইতিহাসের সবচেয়ে বড় অংকের বাজেট। অর্থনীতিবিদরা বলছেন, ১৬ কোটি মানুষের দেশে এ বাজেট খুব বড় নয়, আরও বড় হতে পারে। তবে বাজেটের আকার বৃদ্ধির চেয়ে বাজেটের যথাযথ বাস্তবায়নই বড় কথা। গত অর্থবছরেও বড় বাজেট করা হয়েছিল, তার আগের বছরও করা হয়েছে। দেখা গেছে, বাজেট বড় করা হয়েছে ঠিকই, তবে তা বাস্তবায়নের হার ছিল হতাশাজনক। বাস্তবায়িত না হওয়ায় তা সংশোধনও করা হয়েছে। খাতওয়ারি নির্ধারিত বাজেট প্রয়োগ ও বাস্তবায়ন যদি করা না যায়, তবে যত বড় বাজেট করা হোক না কেন, ত প্রণয়ন করে লাভ নেই। বড় বাজেট প্রণয়নের সাথে তা প্রয়োগ ও বাস্তবায়নে প্রশাসনিক দক্ষতা অপরিহার্য। দেখা যায়, যেসব বড় বড় প্রকল্প বাস্তবায়নে বাজেট নির্ধারণ করা হয়, সেগুলোর অগ্রগতি ও বাস্তবায়ন নির্ধারিত অর্থবছরে হয় না বললেই চলে। হয় বরাদ্দকৃত অর্থ ফেরত দিতে হয়, না হয় নতুন করে বাজেট করতে হয়। কাজেই এমনভাবে বাজেট প্রণয়ন করা উচিত যা বাস্তবতার সাথে সঙ্গতিপূর্ণ এবং প্রশাসনও যাতে তা বাস্তবায়ন করতে পারে। তবে আমরা আশাবাদী, অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল একজন দক্ষ ও অভিজ্ঞ অর্থনীতিবিদ হওয়ায় এবারের বাজেট অতীতের যে কোনো বাজেটের চেয়ে ভালভাবে বাস্তবায়িত হবে। কারণ তিনি বুঝেশুনে এমন বাজেটই প্রণয়ন করেছেন, যা তিনি বাস্তবায়ন করতে পারবেন। উল্লেখ্য, এবারের বাজেট উপস্থাপন ছিল অন্যবছরগুলোর চেয়ে ব্যতিক্রম। অর্থমন্ত্রী শারিরীকভাবে অসুস্থ হওয়া সত্তে¡ও বাজেট অধিবেশনে যোগ দেন এবং প্রায় এক ঘন্টা ধরে তা উপস্থাপন করেন। শেষ পর্যন্ত তিনি তা উপস্থাপন করতে পারেননি। তাঁর প্রতি মমত্ববোধ দেখিয়ে স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাজেট উপস্থাপনের দায়িত্ব নেন। বাজেট পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনেও বাজেটের বিভিন্ন প্রসঙ্গ নিয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন। অর্থনীতিবিদ না হয়েও প্রধানমন্ত্রী দক্ষতার সাথে বাজেটের বিভিন্ন দিক নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তর দেন। আমরা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে আন্তরিক ধন্যবাদ জ্ঞাপন করছি বাজেটের মতো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি নিজ উদ্যোগে উপস্থাপন এবং তা সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে ব্যাখ্যা করার জন্য।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: বাজেট

২৯ জুন, ২০১৯

আরও
আরও পড়ুন