Inqilab Logo

ঢাকা, শুক্রবার ১৯ জুলাই ২০১৯, ০৪ শ্রাবণ ১৪২৬, ১৫ যিলক্বদ ১৪৪০ হিজরী।

আশুলিয়ায় খাস জমিতে ব্যক্তি মালিকানার সাইনবোর্ড

এলাকাবাসীর ক্ষোভ

আশুলিয়া থেকে রাউফুর রাহমান পরাগ | প্রকাশের সময় : ১৬ জুন, ২০১৯, ১২:১০ এএম

আশুলিয়ায় সরকারি জমিতে ব্যক্তি মালিকানা দাবি করে ওই জমিতে সাইনবোর্ড দিয়েছে একটি মহল। এ ঘটনায় ওই এলাকার জনসাধরণের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হেেছ। এরই মধ্যে ওই জমিটি সরকারের দখলে নিতে এলাকাবাসির পক্ষ থেকে অনেকেই আশুলিয়া সার্কেল (ভুমি) অফিসে অভিযোগপত্র দিয়েছেন। অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে এরই মধ্যে শিমুলিয়া ইউনিয়ন ভুমি সহকারি কর্মকর্তা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।

জানা যায়, সাভারের আশুলিয়ার শিমুলিয়া ইউনিয়নের টেঙ্গুরী মৌজাস্থিত ভিপি খতিয়ান ১এ এসএ ৪৮ দাগে ১একর ২৮ শতাংশ পুকুরপাড় এবং এসএ ৪৯ দাগে পুকুর ২ একর ৩৫ শতাংশ জমি পূর্ব পাকিস্তান প্রদেশ এর নামে রেকর্ডভোক্ত হয়। পরবর্তীতে আরএস ৬৪দাগে পুকুর ২একর ৩৫ এবং আরএস ৬৫দাগে পুকুর পাড় ১একর ৭২ শতাংশ জমি বাংলাদেশ সরকারের পক্ষে ডিপুটি কমিশনার ঢাকা এর নামে রেকর্ডভোক্ত হয়। এছাড়া বিএস রেকর্ড আসলে বিএস মাঠ পর্চায়ও বাংলাদেশ সরকারের পক্ষে জেলা প্রশাসক তৎপক্ষে সহকারি কমিশনার ভুমি তৎপক্ষে সহকারি তহশীলদার ঘোড়াপীর মাজার সাভার, ঢাকা এর নামে রেকর্ড হয়। কিন্তু ওই জমি অসৎ উপায়ে বিএস ২০৫ খতিয়ানে ৯টি দাগে ১ একর ৫৭ শতাংশ জমি। (১২২৪, ১২৩০, ১২৩৩, ১২৩৪, ১২৩৫, ১২৩৭, ১২৩৯, ১২৪৩ এবং ১২৪৫) স্থানীয় খিদির আলী মুন্সী নামের এক ব্যক্তি বি এস রেকর্ড করান। অথচ ওইসব দাগ বিএস মাঠ পর্চায়ও ১নং খতিয়ান ভিপি সম্পত্তি দেখানো হয়েছে। পরে সরকারি ওই জমিতে মার্কেট, একাধিক বহুতল ভবন, কলোনীসহ বিভিন্ন স্থাপনা নির্মাণ করেছেন ঘটনায় এলাকাবাসির মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। পরে এলাকাবাসির পক্ষ থেকে শিমুলিয়া ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক ৮নং ওয়ার্ড সদস্য তমিজ উদ্দিন, আব্দুর রউফ ভুইয়া, রফিকুল ইসলাম, নিলু দাস এবং ফরহাদ হোসেন নামের কয়েকজন সহকারি কমিশনার ভুমি (আশুলিয়া সার্কেল) এর বরাবরে সরকারি মালিকানাধীন ওই জমি উদ্ধার করতে লিখিতভাবে আবেদন দিয়েছেন। আবেদনের প্রেক্ষিতে গত ২২মে শিমুলিয়া ইউনিয়ন ভুমি উপসহকারি কর্মকর্তা নাসির উদ্দিন খান ওই জমি পরিদর্শনে আসেন এবং ওই জমিতে নতুন কোন স্থাপনা নির্মাণে মৌখিকভাবে নিষেধাজ্ঞা দিয়ে আসেন ওই মহলকে।

এ ব্যাপারে শিমুলিয়া ইউনিয়ন ভুমি সহকারি কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) মো. নাসির উদ্দিন খান জানান, ওই জমিটি এসএ ও আরএস রেকর্ডমূলে মালিক সরকার। এছাড়া বিএস মাঠ পর্চায়ও মালিক সরকার। কিন্তু একটি মহল কিভাবে বিএস রেকর্ডমূলে মালিক হয়েছে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে। এছাড়া আমার উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানানো হয়েছে বলেও জানান তিনি।

এ ব্যাপারে সহকারি কমিশনার ভুমি (আশুলিয়া সার্কেল) তাজওয়ার আকরাম সাকাপি ইবনে সাজ্জাদ জানান, ওই জমিটি উদ্ধারে এরই মধ্যে এলাকাবাসির পক্ষ থেকে বেশ কয়েকজন লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

আরও পড়ুন