Inqilab Logo

ঢাকা, বৃহস্পতিবার ১৮ জুলাই ২০১৯, ০৩ শ্রাবণ ১৪২৬, ১৪ যিলক্বদ ১৪৪০ হিজরী।

ভারতব্যাপী চিকিৎসক ধর্মঘট কাল

তিন শতাধিক সরকারি চিকিৎসকের চাকরি থেকে গণইস্তফা

ইনকিলাব ডেস্ক : | প্রকাশের সময় : ১৬ জুন, ২০১৯, ১২:১০ এএম

ভারতের কলকাতায় এনআরএস মেডিকেল কলেজে চিকিৎসক নিগ্রহের প্রতিবাদে আগামী কাল সোমবার ভারতব্যাপী ধর্মঘটের ডাক দিল ইন্ডিয়ান মেডিক্যাল অ্যাসোসিয়েশন (আইএমএ)। একমাত্র জরুরি বিভাগ ছাড়া ওই দিন হাসপাতালগুলিতে সব ধরনের চিকিৎসা সেবা বন্ধ থাকবে বলে জানিয়েছে চিকিৎসদের সব চেয়ে বড় এ সংগঠনটি। একইসঙ্গে প্রতিবাদ কর্মসূচিও পালন করার ঘোষণা দেয়া হয়েছে। এছাড়া পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন মেডিকেল কলেজে কর্মরত তিন শতাধিক সরকারি চিকিৎসক চাকরি থেকে গণইস্তফা দিয়েছেন। এর মধ্যে নীলরতন সরকার, আরজিকর, ন্যাশনাল মেডিকেল কলেজের মতো প্রাচীন হাসপাতালের প্রবীণ চিকিৎসকরাও রয়েছেন। এদিকে শনিবার ভারতজুড়ে দিনব্যাপী ধর্মঘট পালনের ডাক দিয়েছে চিকিৎসকদের সর্ববৃহৎ সংগঠন আইএমএ। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নমনীয় হলে আজ ধর্মঘট উঠতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে। চিকিৎসকদের কর্মবিরতিতে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন বাংলাদেশ থেকে চিকিৎসা করাতে আসা হাজার হাজার রোগী। এছাড়া চেন্নাই ও বেঙ্গালুরুসহ বিভিন্ন শহরে চিকিৎসা করাতে যাওয়া বাংলাদেশি রোগীদের আরও সংকটে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। বৃহস্পতিবার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পিজি হাসপাতালে গিয়ে চার ঘণ্টার মধ্যে কাজে না যোগ দিলে এসমা জারির হুমকি দিয়েছিলেন। কিন্তু সেই হুমকিতে কর্ণপাত না করে পাল্টা গণইস্তফার ঘোষণা দিয়েছিলেন আন্দোলনকারীরা। সমর্থন করেছিলেন সরকারি হাসপাতালের সিনিয়র চিকিৎসকরাও। শুক্রবার দুপুর থেকে জুনিয়র চিকিৎসকদের আন্দোলনের গর্ভগৃহ নীলরতন সরকার মেডিকেল কলেজের ১০০ জন চিকিৎসক গণইস্তফা দেন। কলকাতার ঘটনায় চিকিৎসকদের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে নতুন আইন করতে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের কাছেও দাবি জানিয়েছেন আইএমএ নেতারা। হাসপাতাল চত্বরকে ‘সেফ জোন’ হিসাবে চিহ্নিত করারও দাবি করেছে সংগঠনটি। সন্ধ্যায় দিল্লির রেসিডেন্ট ডাক্তারদের সংগঠন জানিয়েছে, শনিবারও রাজধানীর ১৪টি সরকারি হাসপাতালে ধর্মঘট পালিত হয়। শনিবার থেকে পশ্চিমে মুম্বই, দক্ষিণে তিরুঅনন্তপুরম থেকে উত্তরে হৃষীকেশÍ কার্যত গোটা ভারতের চিকিৎসকেরা কলকাতার ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়ে রাস্তায় নামেন। বিভিন্ন শহরে এ দিন কর্মবিরতি পালন করেন তারা। রাজধানীর দু’টি সরকারি হাসপাতাল এমস ও সফরদরজঙ্গ হাসপাতালে এ দিন অধিকাংশ চিকিৎসক কাজে যোগ দেননি। যদিও পরে জানানো হয়, জরুরি বিভাগসহ আরও কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিভাগ এ দিন খোলা ছিল। ওই হাসপাতালের দুই হাজারের কাছাকাছি চিকিৎসক ও চিকিৎসা কর্মী অবস্থান কর্মসূচিতে যোগ দিয়েছিলেন। বাকিরা নিয়ম মাফিকই কাজ করেছেন। পরে দু’টি হাসপাতালের ডাক্তারদের একটি প্রতিনিধি দল কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী হর্ষ বর্ধনের সঙ্গে দেখা করেন। দোষীদের অবিলম্বে শাস্তি ও কাজের জায়গায় সুষ্ঠু পরিবেশের দাবি তোলে প্রতিনিধি দলটি। দিল্লি ছাড়া চিকিৎসকদের সব চেয়ে বড় বিক্ষোভের খবরটি এসেছে মহারাষ্ট্র থেকে। রাজ্যের ২৬টি সরকারি হাসপাতালের প্রায় সাড়ে চার হাজার চিকিৎসক যোগ দেননি। হায়দরাবাদে নিজাম ইনস্টিটিউট অব মেডিক্যাল সায়েন্স ও সেকেন্দ্রাবাদে গান্ধী মেডিকেল কলেজের সামনে বিক্ষোভ অবস্থান করেন জুনিয়র ডাক্তারেরা। মুম্বইয়ের সিওন হাসপাতালের চিকিৎসকেরা প্রতিবাদ জানান মৌন মিছিলে। রাজ্যজুড়ে চিকিৎসকদের ইস্তফার হিড়িক শুরু হয়েছে। জুনিয়রদের আন্দোলনের পাশাপাশি সিনিয়র চিকিৎসকরা পদত্যাগ করায় রাজ্যের চিকিৎসা পরিষেবা স্থবির হয়ে পড়েছে। বিভিন্ন হাসপাতালের ইনডোরেও চিকিৎসক মিলছে না। এবিপি, এনডিটিভি।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

আরও পড়ুন